12:48 pm, Monday, 10 August 2026

চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে-স্কেল, আগামী সপ্তাহেই অনুমোদনের সম্ভাবনা

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:46:49 am, Monday, 10 August 2026
  • 3

চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে-স্কেল, আগামী সপ্তাহেই অনুমোদনের সম্ভাবনা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি আবারও সক্রিয় আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পে-স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পথ খুলতে পারে সরকার। সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তবে এটি কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে এর আর্থিক প্রভাব। সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপের বিষয়টি সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পে-স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

তবে সরকার বিষয়টি পুরোপুরি স্থগিত না রেখে দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবায়নের উপায় খুঁজছে। প্রয়োজন হলে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর আর কোনো নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট অব্যাহত থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির কারণে নবম পে-স্কেলের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পরে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২১ এপ্রিল পে-স্কেলের সুপারিশগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

এ অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উপস্থাপন করা হবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর হবে—এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

কেশবপুরে মানবতার কল্যাণে ট্রাস্ট হেলথ্ সেন্টারের উদ্বোধন

চূড়ান্ত পর্যায়ে নবম পে-স্কেল, আগামী সপ্তাহেই অনুমোদনের সম্ভাবনা

Update Time : 11:46:49 am, Monday, 10 August 2026

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি আবারও সক্রিয় আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী সপ্তাহেই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পে-স্কেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পথ খুলতে পারে সরকার। সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তবে এটি কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে এর আর্থিক প্রভাব। সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপের বিষয়টি সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পে-স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

তবে সরকার বিষয়টি পুরোপুরি স্থগিত না রেখে দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবায়নের উপায় খুঁজছে। প্রয়োজন হলে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর আর কোনো নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট অব্যাহত থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির কারণে নবম পে-স্কেলের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পরে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২১ এপ্রিল পে-স্কেলের সুপারিশগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামো সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।

এ অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও দক্ষতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়ছে। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি কবে উপস্থাপন করা হবে, অনুমোদনের পর কখন প্রজ্ঞাপন জারি হবে এবং কোন কাঠামোয় নতুন বেতন কার্যকর হবে—এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।