8:50 pm, Sunday, 9 August 2026

ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ আড়াল করতে ভারতীয় নাগরিকের ছিনতাই মামলা, দাবি ডিবির

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:33:49 pm, Sunday, 9 August 2026
  • 2

ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ আড়াল করতে ভারতীয় নাগরিকের ছিনতাই মামলা, দাবি ডিবির

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কুমিল্লায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ ওঠা অলিউল আলম (৪২) নামের এক ভারতীয় নাগরিক নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দিতেই কোতোয়ালি মডেল থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

তবে অলিউল আলম মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অলিউল আলম ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার বক্সনগর থানার রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অলিউল আলমের মাদক কারবারের বিষয়ে গোপন তথ্য পাওয়ার পর তার গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের দাবি, তিনি কুমিল্লার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে ইয়াবার নমুনার ছবি ও ভিডিও পাঠাতেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার বাহার মার্কেটের নিচতলায় ইয়াবা বিক্রির প্রস্তাব পেয়ে একটি প্যাকেট নিয়ে উপস্থিত হন অলিউল আলম। সেখানে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে তল্লাশি চালায়। তবে প্যাকেট খুলে ইয়াবার পরিবর্তে বুটের ডাল পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ডিবির দাবি, ওই ঘটনার পর অলিউল আলমের ইয়াবা বিক্রির অভিযোগসংক্রান্ত কয়েকটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি আড়াল করতেই তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন। থানায় দেওয়া অভিযোগে অলিউল আলম উল্লেখ করেন, গত ৩০ জুলাই সকাল ১০টার দিকে বৈধ কাগজপত্র ও পাসপোর্ট নিয়ে বিবিরবাজার চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি।

পরে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তার খালাতো ভাই মাহাবুবুল আলমের বাড়িতে যাওয়ার পথে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে কান্দিরপাড়ের বাহার মার্কেট এলাকায় যান। তার অভিযোগ, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে বাহার মার্কেটের সামনে পৌঁছালে ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার পথরোধ করে। তার কাছে অবৈধ মালামাল রয়েছে দাবি করে তাকে একটি বিরিয়ানি দোকানের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তার কাছ থেকে ভারতীয় ১৭ হাজার ৫০০ রুপি, বাংলাদেশি ১১ হাজার ৩০০ টাকা এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অলিউল আলম আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাকে থানায় সোপর্দ করার ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে এবং পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে ডিবি পুলিশ বলছে, অলিউল আলমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য, ছবি ও ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে।

এছাড়া তার দায়ের করা অভিযোগে ডিবি পুলিশের কোনো সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়নি। অলিউল আলম বলেন, আমি ভারতীয় নাগরিক বুঝতে পেরে ছিনতাইকারীরা আমার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। আমি কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌফিক হোসেন বলেন, সেদিন তার কাছে ইয়াবা পাওয়া না যাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে কুমিল্লার বিভিন্ন মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

তার ইয়াবা বিক্রির ছবি ও ভিডিও আমাদের হাতে রয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ভারতীয় এক নাগরিকের দেওয়া একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির কিছু ছবি পুলিশের হাতে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কুমিল্লা ডিবির ওসি মো. শামসুল আলম শাহ বলেন, অলিউল আলম ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

ইয়াবা ব্যবসার বিষয়টি আড়াল করতেই তিনি ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন বলে আমরা মনে করছি। বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠানো ইয়াবার ছবি ও ভিডিওও আমাদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের অভিযোগের পাশাপাশি অলিউল আলমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতে ইসলামের ৯ দফা দাবি

ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ আড়াল করতে ভারতীয় নাগরিকের ছিনতাই মামলা, দাবি ডিবির

Update Time : 07:33:49 pm, Sunday, 9 August 2026

কুমিল্লায় ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ ওঠা অলিউল আলম (৪২) নামের এক ভারতীয় নাগরিক নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দিতেই কোতোয়ালি মডেল থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

তবে অলিউল আলম মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অলিউল আলম ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার বক্সনগর থানার রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অলিউল আলমের মাদক কারবারের বিষয়ে গোপন তথ্য পাওয়ার পর তার গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের দাবি, তিনি কুমিল্লার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে ইয়াবার নমুনার ছবি ও ভিডিও পাঠাতেন।

এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুলাই দুপুরে কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার বাহার মার্কেটের নিচতলায় ইয়াবা বিক্রির প্রস্তাব পেয়ে একটি প্যাকেট নিয়ে উপস্থিত হন অলিউল আলম। সেখানে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে তল্লাশি চালায়। তবে প্যাকেট খুলে ইয়াবার পরিবর্তে বুটের ডাল পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ডিবির দাবি, ওই ঘটনার পর অলিউল আলমের ইয়াবা বিক্রির অভিযোগসংক্রান্ত কয়েকটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি আড়াল করতেই তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় ৫ থেকে ৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেন। থানায় দেওয়া অভিযোগে অলিউল আলম উল্লেখ করেন, গত ৩০ জুলাই সকাল ১০টার দিকে বৈধ কাগজপত্র ও পাসপোর্ট নিয়ে বিবিরবাজার চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি।

পরে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে তার খালাতো ভাই মাহাবুবুল আলমের বাড়িতে যাওয়ার পথে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করতে কান্দিরপাড়ের বাহার মার্কেট এলাকায় যান। তার অভিযোগ, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে বাহার মার্কেটের সামনে পৌঁছালে ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার পথরোধ করে। তার কাছে অবৈধ মালামাল রয়েছে দাবি করে তাকে একটি বিরিয়ানি দোকানের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে তার কাছ থেকে ভারতীয় ১৭ হাজার ৫০০ রুপি, বাংলাদেশি ১১ হাজার ৩০০ টাকা এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অলিউল আলম আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাকে থানায় সোপর্দ করার ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে এবং পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে ডিবি পুলিশ বলছে, অলিউল আলমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য, ছবি ও ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে।

এছাড়া তার দায়ের করা অভিযোগে ডিবি পুলিশের কোনো সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়নি। অলিউল আলম বলেন, আমি ভারতীয় নাগরিক বুঝতে পেরে ছিনতাইকারীরা আমার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। আমি কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই। ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌফিক হোসেন বলেন, সেদিন তার কাছে ইয়াবা পাওয়া না যাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে কুমিল্লার বিভিন্ন মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

তার ইয়াবা বিক্রির ছবি ও ভিডিও আমাদের হাতে রয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ভারতীয় এক নাগরিকের দেওয়া একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির কিছু ছবি পুলিশের হাতে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কুমিল্লা ডিবির ওসি মো. শামসুল আলম শাহ বলেন, অলিউল আলম ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

ইয়াবা ব্যবসার বিষয়টি আড়াল করতেই তিনি ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন বলে আমরা মনে করছি। বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে পাঠানো ইয়াবার ছবি ও ভিডিওও আমাদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের অভিযোগের পাশাপাশি অলিউল আলমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।