7:29 am, Wednesday, 5 August 2026

কুষ্টিয়ায় নদীভাঙনে বিলীন ফসলি জমি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে ডিসি

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:17:56 am, Tuesday, 4 August 2026
  • 8

কুষ্টিয়ায় নদীভাঙনে বিলীন ফসলি জমি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে ডিসি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কুষ্টিয়ায় পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, ফলের বাগান এবং বসতভিটার আশপাশের এলাকা। এতে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকাপাড়া ও হাটখোলা এলাকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই সপ্তাহ ধরে ভুরকা-হাটখোলা থেকে কোলদিয়ার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অব্যাহত ভাঙনে চার ফসলি জমি ও ফলের বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন স্থাপনা ও জনবসতি। এছাড়া ভেড়ামারা উপজেলার ফয়জুল্লাপুর, মসলেমপুর, টিকটিকিপাড়া ও মুন্সিপাড়া এলাকাতেও নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পদ্মার প্রধান শাখা গড়াই নদীতেও পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙন বেড়েছে।

এতে খোকসা উপজেলার শহররক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার অস্থায়ী বাঁধ ধসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে কুষ্টিয়া জেলার ২৮টি পয়েন্টে প্রায় ২১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।

নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছরই নদীভাঙনের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হবে এবং শত শত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে। এদিকে পদ্মা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান।

তিনি দৌলতপুর উপজেলার কোলদিয়ার হাটখোলাপাড়া, মাজদিয়ার ও ভুরকা এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এলাকাবাসীর দাবি, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙনও তীব্র হচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর দিকে ধেয়ে আসছে নদী।

ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে রায়টা-মহিষকুন্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান বলেন, “পদ্মা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে।

পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। ” জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, “নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করা হবে।

একই সঙ্গে স্থায়ী নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। “

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ব্যাংকের টিটি ডিসকাউন্টিংয়ের লিয়েন সুবিধা বাতিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কুষ্টিয়ায় নদীভাঙনে বিলীন ফসলি জমি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে ডিসি

Update Time : 04:17:56 am, Tuesday, 4 August 2026

কুষ্টিয়ায় পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, ফলের বাগান এবং বসতভিটার আশপাশের এলাকা। এতে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকাপাড়া ও হাটখোলা এলাকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই সপ্তাহ ধরে ভুরকা-হাটখোলা থেকে কোলদিয়ার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অব্যাহত ভাঙনে চার ফসলি জমি ও ফলের বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে বিভিন্ন স্থাপনা ও জনবসতি। এছাড়া ভেড়ামারা উপজেলার ফয়জুল্লাপুর, মসলেমপুর, টিকটিকিপাড়া ও মুন্সিপাড়া এলাকাতেও নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পদ্মার প্রধান শাখা গড়াই নদীতেও পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙন বেড়েছে।

এতে খোকসা উপজেলার শহররক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় প্রায় ৫০ মিটার অস্থায়ী বাঁধ ধসে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে কুষ্টিয়া জেলার ২৮টি পয়েন্টে প্রায় ২১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।

নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছরই নদীভাঙনের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হবে এবং শত শত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে। এদিকে পদ্মা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান।

তিনি দৌলতপুর উপজেলার কোলদিয়ার হাটখোলাপাড়া, মাজদিয়ার ও ভুরকা এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এলাকাবাসীর দাবি, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙনও তীব্র হচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর দিকে ধেয়ে আসছে নদী।

ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে রায়টা-মহিষকুন্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান বলেন, “পদ্মা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে।

পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। ” জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, “নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করা হবে।

একই সঙ্গে স্থায়ী নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। “