আরব সাহিত্যের বিখ্যাত চরিত্র আলিবাবা। তার বুদ্ধিমতী সহচরী ছিলেন মর্জিনা। তার বুদ্ধিতেই আলিবাবা শায়েস্তা করেছিলেন ৪০ জন চোরকে। সেই গল্প নিয়ে হয়েছে অনেক নাটক-সিনেমা। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে কলকাতায় মুক্তি পেয়েছিল মর্জিনা আবদুল্লাহ সিনেমাটি।
সেখানে মর্জিনা চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে দাগ কেটেছিলেন মিঠু মুখার্জী। সেই অভিনেত্রী আজ মারা গেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর্দা থেকে দূরে থাকা মিঠু সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রায় এক বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্রাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ১৯৫৫ সালের ১৯ জুন জন্ম মিঠু মুখার্জীর। চিত্ত বসুর ‘শেষ পর্ব’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে পা রাখেন তিনি। ১৯৭১-৭২ সালের দিকে নির্মিত ওই সিনেমায় সামিত ভঞ্জের বিপরীতে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। এরপর দীনেন গুপ্তর ‘মর্জিনা আবদুল্লাহ’ সিনেমায় অভিনয় করে রাতারাতি পরিচিতি পান মিঠু।
আলি বাবার বুদ্ধিমতী সহচরী মর্জিনা চরিত্রে তার অভিনয় দর্শকের নজর কাড়ে। এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে সত্তরের দশকের অন্যতম পরিচিত নায়িকা হয়ে ওঠেন তিনি। ‘নিশিকন্যা’ সিনেমায় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে এবং ‘মৌচাক’-এ রণজিৎ মল্লিকের সঙ্গে অভিনয় করে বিশেষ জনপ্রিয়তা পান মিঠু। ‘স্বয়ংসিদ্ধা’, ‘হোটেল স্নো ফক্স’, ‘ভাগ্যচক্র’, ‘বন্দন’ ও ‘সন্ধি’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায়ও দেখা গেছে তাকে।
একই সময়ে উত্তমকুমার ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি অভিনেতাদের সঙ্গেও পর্দা ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। বাংলা সিনেমার পাশাপাশি হিন্দি সিনেমায়ও অভিনয় করেন মিঠু। ১৯৭৬ সালে ‘খান দোস্ত’ সিনেমার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। সেখানে শত্রুঘ্ন সিনহার বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। পরে ‘সাফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ ও ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’ সিনেমায়ও কাজ করেন।
তবে বাংলা সিনেমার মতো হিন্দি চলচ্চিত্রে তেমন সাফল্য পাননি। ক্যারিয়ারের মাঝামাঝি সময়ে কাজের সংখ্যা কমতে থাকে। পরবর্তীসময়ে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে অনেকটাই দূরে সরে যান মিঠু। ১৯৯০ সালে ‘আশ্রিতা’ সিনেমায় অভিনয়ের পর তাকে আর নিয়মিত পর্দায় দেখা যায়নি। জীবনের শেষ পর্বে মুম্বাইয়েই থাকতেন এই অভিনেত্রী। জনসমক্ষে তার উপস্থিতিও ছিল খুব কম।
দীর্ঘ সেই অন্তরালের পর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সোমবার না ফেরার দেশে চলে গেলেন সত্তরের দশকের এই জনপ্রিয় নায়িকা। ‘মর্জিনা আবদুল্লাহ’, ‘মৌচাক’ ও ‘স্বয়ংসিদ্ধা’র মতো সিনেমায় তার অভিনয় বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।





















