ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীর ভাঙন প্রতিরোধে প্রস্তাবিত নদী শাসন ও তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণে বাধাপ্রদান এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে স্থানীয় প্রভাবশালী গোলাম কুদ্দুসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।
তার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ ও দ্রুত বাঁধ নির্মাণের দাবিতে হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দুই গ্রামের শত শত মানুষ। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চরখোলাবাড়িয়া আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন মধুমতি নদীর পাড়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরখোলাবাড়িয়া ও দিগনগর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধন শেষে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা নদী শাসন ও বাঁধ নির্মাণ কাজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আলফাডাঙ্গার চরখোলাবাড়িয়া ও দিগনগর এলাকায় মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙনে প্রতিনিয়ত বসতঘর, শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বর্তমানে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দুই গ্রামের শত শত পরিবার নদীভাঙনের চরম হুমকির মুখে রয়েছে।
জনস্বার্থে এলাকাটি রক্ষায় যখন স্থায়ী নদী শাসন ও তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি, ঠিক তখনই উপজেলার বেলবানা গ্রামের বাসিন্দা গোলাম কুদ্দুস এতে বিরোধিতা করে নানামুখী বাধা সৃষ্টি করে আসছেন। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গোলাম কুদ্দুস তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্যই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন।
তিনি প্রচার করেছেন যে, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার অধিবাসীরা আলফাডাঙ্গা উপজেলার ভোটার নন। এই মিথ্যাচারের প্রতিবাদে এবং নিজেদের নাগরিক পরিচয় ও সত্যতা প্রমাণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) হাতে মানববন্ধনে অংশ নেন। এলাকাবাসীর দাবি, নদীর উত্তর পাশে গোলাম কুদ্দুসের নিজস্ব জমি রয়েছে। নদীর দক্ষিণ পাশে স্থায়ী নদী শাসন করা হলে চরের সেই জমি আর জেগে উঠবে না; এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি শত শত পরিবারের জীবন-জীবিকা বিপন্ন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।
শুধু তাই নয়, সম্প্রতি তার নেতৃত্বে রাতের আঁধারে গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তার ইট তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো জনবিরোধী কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে গোলাম কুদ্দুস ও তার অনুসারীদের এই অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একইসঙ্গে জনস্বার্থ বিবেচনায় অবিলম্বে মধুমতি নদীর দক্ষিণ পাশে স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করতে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল, জহুর মোল্যা, রফিক মিয়া, ইয়াকুব মিয়া ও কামরুল মোল্যাসহ অনেকে।



















