3:31 am, Sunday, 2 August 2026

গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও শক্তিশালী হবে

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:26:24 am, Sunday, 2 August 2026
  • 5
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও শক্তিশালী হবে। সম্প্রীতি নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত হচ্ছে, গণতন্ত্র নিশ্চিত করা। গণতন্ত্র নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত হচ্ছে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, নির্বাচনব্যবস্থা ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবদান নিয়ে ‘সম্প্রীতির জুলাই’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই অভ্যুত্থানে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। শুধু মুসলমান নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বী হৃদয় চন্দ্র তরুয়া, রিয়া গোপ, রুদ্র সেন ও দীপ্ত দেসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষও শহিদ হয়েছেন। তাই জুলাই গণঅভ-*অভ্যুত্থান ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক গণআন্দোলন। এনসিপির শীর্ষনেতা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের শুরু থেকেই জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এতে আন্দোলনের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে তারা নিজেদের সংখ্যালঘুদের একমাত্র রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করত এবং অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সংখ্যালঘুবিরোধী হিসেবে প্রচার করত। নির্বাচনের আগে ভয় সৃষ্টি করে ভোটব্যাংক গড়ে তোলার রাজনীতি করা হয়েছে। ভারতে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়লেও বাংলাদেশকে সম্প্রীতির রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি দাবি করেন, ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে প্রচারণা চালানো হয়, সেটি একটি পরিকল্পিত ন্যারেটিভ। এই অপপ্রচার মোকাবিলায় দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সংকটকালে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মন্দির পাহারা দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এমন পরিস্থিতি কখনোই কাম্য নয়। তবে সংকটের সময় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা বাংলাদেশের সম্প্রীতির শক্ত ভিত্তির প্রমাণ। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সম্পত্তি দখল ও জমি নিয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের, সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল ও আর্চবিশপ হাউসের পরিচালক ফাদার এলবার্ট টমাস রোজারিও, শহিদ হৃদয় তরুয়ার বাবা রতন চন্দ্র তরুয়া, জুলাইযোদ্ধা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও শক্তিশালী হবে

Update Time : 02:26:24 am, Sunday, 2 August 2026

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও শক্তিশালী হবে। সম্প্রীতি নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত হচ্ছে, গণতন্ত্র নিশ্চিত করা। গণতন্ত্র নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত হচ্ছে, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, নির্বাচনব্যবস্থা ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অবদান নিয়ে ‘সম্প্রীতির জুলাই’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই অভ্যুত্থানে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। শুধু মুসলমান নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বী হৃদয় চন্দ্র তরুয়া, রিয়া গোপ, রুদ্র সেন ও দীপ্ত দেসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষও শহিদ হয়েছেন। তাই জুলাই গণঅভ-*অভ্যুত্থান ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক গণআন্দোলন। এনসিপির শীর্ষনেতা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের শুরু থেকেই জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এতে আন্দোলনের অসাম্প্রদায়িক চরিত্র শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে তারা নিজেদের সংখ্যালঘুদের একমাত্র রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করত এবং অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সংখ্যালঘুবিরোধী হিসেবে প্রচার করত। নির্বাচনের আগে ভয় সৃষ্টি করে ভোটব্যাংক গড়ে তোলার রাজনীতি করা হয়েছে। ভারতে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়লেও বাংলাদেশকে সম্প্রীতির রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি দাবি করেন, ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে প্রচারণা চালানো হয়, সেটি একটি পরিকল্পিত ন্যারেটিভ। এই অপপ্রচার মোকাবিলায় দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সংকটকালে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মন্দির পাহারা দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এমন পরিস্থিতি কখনোই কাম্য নয়। তবে সংকটের সময় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা বাংলাদেশের সম্প্রীতির শক্ত ভিত্তির প্রমাণ। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সম্পত্তি দখল ও জমি নিয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের, সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল ও আর্চবিশপ হাউসের পরিচালক ফাদার এলবার্ট টমাস রোজারিও, শহিদ হৃদয় তরুয়ার বাবা রতন চন্দ্র তরুয়া, জুলাইযোদ্ধা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।