12:12 pm, Saturday, 1 August 2026

১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারি : ১৫ ডিলারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:30:38 am, Saturday, 1 August 2026
  • 3
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

শেরপুরে বিপুল পরিমাণ সার পাচার ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ১৫ জন ডিলার এবং তাদের ৫ জন সহযোগীসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় এই মামলাটি করেন। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন- শেরপুর সদরের বিসিআইসির সার ডিলার—রাশেদুল ইসলাম, সুফিয়া বেগম রিপন, রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মীর দেলোয়ার হোসেন, মরিয়ম আক্তার মুন্নী, ফরহাদ আলী, ইলিয়াস আলী, তাপস নন্দী, কামরুন নাহার হাশেম, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দীন, রেজাউল করিম এবং মাযহারুল ইসলাম। এ ছাড়াও চন্দেরনগরের সাঈদ ট্রেডার্সের পরিচালনাকারী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, শেখহাটির লাকী এন্টারপ্রাইজের পরিচালনাকারী মনিরুজ্জামান মনির, শেরপুর নিউমার্কেটের গৌরব ট্রেডার্সের পরিচালনাকারী প্রশান্ত সাহা রায়, থানা মোড়ের মেসার্স মল্লিক স্টোরের পরিচালনাকারী রতন মিয়া এবং ফকিরগঞ্জ বাজারের আব্দুল মান্নান ট্রেডার্সের পরিচালনাকারী বাদশা মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ সার পাচার ও কালোবাজারে বিক্রি করেছেন। জালিয়াতি করা সর্বমোট ১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৩৯ হাজার (প্রায় ১৪ কোটি) টাকার সার পাচার করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং প্রান্তিক কৃষকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হতে হয়। তদন্তে দেখা যায়, ভাউচারে খুচরা বিক্রেতাদের নামে বিপুল পরিমাণ সার বিক্রি দেখানো হলেও বাস্তবে তা দেওয়া হয়নি। কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, সার পাচারের সত্যতা প্রমাণ করতে গিয়ে গত এক মাস ধরে তিনি চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন। নিজ বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহল থেকে তিনি কোনো সহযোগিতা পাননি; উল্টো তাকে মাত্র ২০ দিনে ৮ বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও ঘুষ দাবির মিথ্যা অভিযোগও তোলা হয়েছে। অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা। মীম এন্টারপ্রাইজের মালিক আকবর আলী জানান, সময়মতো সার না পেয়ে কৃষকরা বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনছেন। শেরপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নিলু জানান, মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন। শেরপুর সদর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, মামলার তদন্ত চলছে, বেশ কিছু রেজিস্টারপত্র জব্দ করা হয়েছে। আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

১৪ কোটি টাকার সার কালোবাজারি : ১৫ ডিলারসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Update Time : 10:30:38 am, Saturday, 1 August 2026

শেরপুরে বিপুল পরিমাণ সার পাচার ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ১৫ জন ডিলার এবং তাদের ৫ জন সহযোগীসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় এই মামলাটি করেন। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন- শেরপুর সদরের বিসিআইসির সার ডিলার—রাশেদুল ইসলাম, সুফিয়া বেগম রিপন, রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মীর দেলোয়ার হোসেন, মরিয়ম আক্তার মুন্নী, ফরহাদ আলী, ইলিয়াস আলী, তাপস নন্দী, কামরুন নাহার হাশেম, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দীন, রেজাউল করিম এবং মাযহারুল ইসলাম। এ ছাড়াও চন্দেরনগরের সাঈদ ট্রেডার্সের পরিচালনাকারী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, শেখহাটির লাকী এন্টারপ্রাইজের পরিচালনাকারী মনিরুজ্জামান মনির, শেরপুর নিউমার্কেটের গৌরব ট্রেডার্সের পরিচালনাকারী প্রশান্ত সাহা রায়, থানা মোড়ের মেসার্স মল্লিক স্টোরের পরিচালনাকারী রতন মিয়া এবং ফকিরগঞ্জ বাজারের আব্দুল মান্নান ট্রেডার্সের পরিচালনাকারী বাদশা মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ সার পাচার ও কালোবাজারে বিক্রি করেছেন। জালিয়াতি করা সর্বমোট ১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৩৯ হাজার (প্রায় ১৪ কোটি) টাকার সার পাচার করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং প্রান্তিক কৃষকদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হতে হয়। তদন্তে দেখা যায়, ভাউচারে খুচরা বিক্রেতাদের নামে বিপুল পরিমাণ সার বিক্রি দেখানো হলেও বাস্তবে তা দেওয়া হয়নি। কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, সার পাচারের সত্যতা প্রমাণ করতে গিয়ে গত এক মাস ধরে তিনি চরম হেনস্তার শিকার হয়েছেন। নিজ বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহল থেকে তিনি কোনো সহযোগিতা পাননি; উল্টো তাকে মাত্র ২০ দিনে ৮ বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও ঘুষ দাবির মিথ্যা অভিযোগও তোলা হয়েছে। অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা। মীম এন্টারপ্রাইজের মালিক আকবর আলী জানান, সময়মতো সার না পেয়ে কৃষকরা বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনছেন। শেরপুর সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নিলু জানান, মামলাটি এখন আদালতে বিচারাধীন। শেরপুর সদর থানার ওসি সোহেল রানা জানান, মামলার তদন্ত চলছে, বেশ কিছু রেজিস্টারপত্র জব্দ করা হয়েছে। আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন।