আজ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৪°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

দেশ চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ডের পথে

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:16:21 pm, Thursday, 5 November 2026
  • 6

দেশ চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ডের পথে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চলতি বছর চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে রয়েছে দেশ। এর আগে চা উৎপাদনে রেকর্ড হয় ২০২৩ সালে। চলতি বছর সেই রেকর্ড অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদি তেমনটাই হয় তবে ১৭২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চা-उत्পাদনের বছর হিসেবে চিহ্নিত হবে ২০২৬ সাল।

তথ্য অনুসারে, এ বছর প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) দেশে চা উৎপাদিত হয়েছে ৭ কোটি ১৬ লাখ ৭১ হাজার কেজি। গত বছর একই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৬ কোটি ৯ লাখ ৬৭ হাজার কেজি। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চা উৎপাদন বেড়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ৪ হাজার কেজি, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ চা বোর্ডের ‘মান্থলি স্ট্যাটিস্টিক্যাল বুলেটিন’-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি।

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। বাকি তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে আরও ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৯ হাজার কেজি চা উৎপাদন করতে হবে। অর্থাৎ অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর— এই তিন মাসে গড়ে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ৭৬ হাজার কেজি চা উৎপাদন করতে হবে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ১ কোটি ৪৫ লাখ ২৬ হাজার, নভেম্বরে ১ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার এবং ডিসেম্বরে ৯২ লাখ ৬৪ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল।

অর্থাৎ ওই তিন মাসে মোট উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার কেজি। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে যে পরিমাণ চা উৎপাদন প্রয়োজন, তা গত বছরের একই সময়ের উৎপাদনের চেয়ে ১৬ লাখ ৩১ হাজার কেজি কম। চা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে চা উৎপাদন হয় ৫ লাখ ৭৩ হাজার কেজি।

ফেব্রুয়ারিতে ২৪ হাজার, মার্চে ২৫ লাখ ৫৮ হাজার, এপ্রিলে ৫৯ লাখ ১৮ হাজার, মে মাসে ৯১ লাখ ৫৩ হাজার, জুনে ১ কোটি ২৪ লাখ ৫ হাজার, জুলাইয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার, আগস্টে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৯ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৫৭ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়। মাসভিত্তিক উৎপাদনের এই হিসাবেও বছরের মাঝামাঝি থেকে উৎপাদনের গতি বাড়ার চিত্র স্পষ্ট।

দেশে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের রেকর্ড ২০২৩ সালের। ওই বছর উৎপাদিত হয়েছিল ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি চা। ২০২৬ সালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি, যা আগের রেকর্ডের চেয়ে ১০ লাখ ৮২ হাজার কেজি বেশি। ফলে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে দেশের চা উৎপাদনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট চা উৎপাদিত হয়েছিল ৯ কোটি ৪৯ লাখ ২৭ হাজার কেজি।

২০২৪ সালে উৎপাদন ছিল ৯ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার কেজি। অন্যদিকে ২০২৩ সালে উৎপাদন ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজিতে পৌঁছেছিল। এসব পরিসংখ্যান দেশের চা উৎপাদনে বছরভেদে ওঠানামার পাশাপাশি চলতি বছরের অগ্রগতিও তুলে ধরে। চা-সংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের প্রথম নয় মাসে উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এবং গত বছরের শেষ তিন মাসের উৎপাদনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে শেষ তিন মাসের আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, চা গাছের কুঁড়ি গজানোর পরিস্থিতি এবং বাগান ও কারখানার কার্যক্রমের ওপর চূড়ান্ত উৎপাদন নির্ভর করবে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে ২০২৬ সালেই দেশের চা উৎপাদনে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়বে বাংলাদেশ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

দেশ চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ডের পথে

দেশ চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ডের পথে

Update Time : 11:16:21 pm, Thursday, 5 November 2026

চলতি বছর চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়ার পথে রয়েছে দেশ। এর আগে চা উৎপাদনে রেকর্ড হয় ২০২৩ সালে। চলতি বছর সেই রেকর্ড অতিক্রম করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যদি তেমনটাই হয় তবে ১৭২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ চা-उत्পাদনের বছর হিসেবে চিহ্নিত হবে ২০২৬ সাল।

তথ্য অনুসারে, এ বছর প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) দেশে চা উৎপাদিত হয়েছে ৭ কোটি ১৬ লাখ ৭১ হাজার কেজি। গত বছর একই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৬ কোটি ৯ লাখ ৬৭ হাজার কেজি। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চা উৎপাদন বেড়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ৪ হাজার কেজি, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ চা বোর্ডের ‘মান্থলি স্ট্যাটিস্টিক্যাল বুলেটিন’-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি।

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। বাকি তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে আরও ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৯ হাজার কেজি চা উৎপাদন করতে হবে। অর্থাৎ অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর— এই তিন মাসে গড়ে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ৭৬ হাজার কেজি চা উৎপাদন করতে হবে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ১ কোটি ৪৫ লাখ ২৬ হাজার, নভেম্বরে ১ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার এবং ডিসেম্বরে ৯২ লাখ ৬৪ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল।

অর্থাৎ ওই তিন মাসে মোট উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার কেজি। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে যে পরিমাণ চা উৎপাদন প্রয়োজন, তা গত বছরের একই সময়ের উৎপাদনের চেয়ে ১৬ লাখ ৩১ হাজার কেজি কম। চা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে চা উৎপাদন হয় ৫ লাখ ৭৩ হাজার কেজি।

ফেব্রুয়ারিতে ২৪ হাজার, মার্চে ২৫ লাখ ৫৮ হাজার, এপ্রিলে ৫৯ লাখ ১৮ হাজার, মে মাসে ৯১ লাখ ৫৩ হাজার, জুনে ১ কোটি ২৪ লাখ ৫ হাজার, জুলাইয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার, আগস্টে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৯ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৫৭ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়। মাসভিত্তিক উৎপাদনের এই হিসাবেও বছরের মাঝামাঝি থেকে উৎপাদনের গতি বাড়ার চিত্র স্পষ্ট।

দেশে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের রেকর্ড ২০২৩ সালের। ওই বছর উৎপাদিত হয়েছিল ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি চা। ২০২৬ সালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি, যা আগের রেকর্ডের চেয়ে ১০ লাখ ৮২ হাজার কেজি বেশি। ফলে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে দেশের চা উৎপাদনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট চা উৎপাদিত হয়েছিল ৯ কোটি ৪৯ লাখ ২৭ হাজার কেজি।

২০২৪ সালে উৎপাদন ছিল ৯ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার কেজি। অন্যদিকে ২০২৩ সালে উৎপাদন ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজিতে পৌঁছেছিল। এসব পরিসংখ্যান দেশের চা উৎপাদনে বছরভেদে ওঠানামার পাশাপাশি চলতি বছরের অগ্রগতিও তুলে ধরে। চা-সংশ্লিষ্টদের মতে, বছরের প্রথম নয় মাসে উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এবং গত বছরের শেষ তিন মাসের উৎপাদনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে শেষ তিন মাসের আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, চা গাছের কুঁড়ি গজানোর পরিস্থিতি এবং বাগান ও কারখানার কার্যক্রমের ওপর চূড়ান্ত উৎপাদন নির্ভর করবে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে ২০২৬ সালেই দেশের চা উৎপাদনে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়বে বাংলাদেশ।