আজ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

আশুলিয়ায় ১,৮৬৩ কারখানার মধ্যে বন্ধ ৭০, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:12:30 pm, Thursday, 5 November 2026
  • 25

আশুলিয়ায় ১,৮৬৩ কারখানার মধ্যে বন্ধ ৭০, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঢাকার আশুলিয়ার পোশাকশিল্প এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। শিল্প পুলিশ-১-এর আওতাধীন ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৭০টি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার জামগড়া এলাকার কয়েকটি কারখানায় ছুটির পর কিছু দুষ্কৃতকারী ঢিল ও পাটকেল নিক্ষেপ করছিল। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালান এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কিছুক্ষণ আগে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক জিরাবো থেকে এনভয় কারখানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছেন। গাজীপুরে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। তবে বর্তমানে তাদের হেফাজতে কেউ আটক নেই।

এ ছাড়া বিজিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি এপিসিসহ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। মামলার বিষয়ে মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ একযোগে কাজ করছে। দুই বাহিনী সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শ্রমিকেরা কাজ করতে চান।

কিন্তু বাইরে থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী ও নাশকতাকারী এসে তাদের ইন্ধন জোগাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি দিয়ে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সময় শ্রমিকেরা একত্র হয়ে হইচই করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিল্প পুলিশ সুপার বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে। এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং জানুয়ারির শুরু থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শিল্প পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। মালিকপক্ষও নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। শ্রমিকেরা কাজে ফিরে গেলে আবারও উৎসবমুখর ও কর্মচঞ্চল পরিবেশ ফিরবে বলে তারা আশাবাদী। আন্দোলনে উসকানিদাতাদের শনাক্তের বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা এসব কর্মকাণ্ডে উসকানি দিচ্ছেন, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ইতোমধ্যে অনেককে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া আরও বলেন, বাইরে থেকে বিভিন্ন দুষ্কৃতকারী ও বহিরাগত ব্যক্তি এসে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। শ্রমিকদের সামনে রেখে পেছন থেকে তারা উসকানি দিচ্ছেন।

এসব ব্যক্তির পেছনে কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে কি না, তা তাদের জানা নেই। তবে তারা শ্রমিক নন, বহিরাগত উসকানিদাতা। তিনি বলেন, এসব ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে কোথায় শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামছেন, কোথায় গাড়ি ভাঙচুর হচ্ছে কিংবা কোথায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, সেসব বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ফরিদপুরে পদ্মা নদীর ২০টি অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ ও সরঞ্জাম ধ্বংস

আশুলিয়ায় ১,৮৬৩ কারখানার মধ্যে বন্ধ ৭০, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

Update Time : 05:12:30 pm, Thursday, 5 November 2026

ঢাকার আশুলিয়ার পোশাকশিল্প এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ। শিল্প পুলিশ-১-এর আওতাধীন ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৭০টি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বাকি কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার জামগড়া এলাকার কয়েকটি কারখানায় ছুটির পর কিছু দুষ্কৃতকারী ঢিল ও পাটকেল নিক্ষেপ করছিল। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালান এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কিছুক্ষণ আগে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক জিরাবো থেকে এনভয় কারখানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছেন। গাজীপুরে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে তাঁরা এ কর্মসূচি পালন করেন। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। তবে বর্তমানে তাদের হেফাজতে কেউ আটক নেই।

এ ছাড়া বিজিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি এপিসিসহ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে। মামলার বিষয়ে মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ একযোগে কাজ করছে। দুই বাহিনী সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শ্রমিকেরা কাজ করতে চান।

কিন্তু বাইরে থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী ও নাশকতাকারী এসে তাদের ইন্ধন জোগাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি দিয়ে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সময় শ্রমিকেরা একত্র হয়ে হইচই করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিল্প পুলিশ সুপার বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড ঘোষণা করেছে। এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং জানুয়ারির শুরু থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শিল্প পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। মালিকপক্ষও নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। শ্রমিকেরা কাজে ফিরে গেলে আবারও উৎসবমুখর ও কর্মচঞ্চল পরিবেশ ফিরবে বলে তারা আশাবাদী। আন্দোলনে উসকানিদাতাদের শনাক্তের বিষয়ে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা এসব কর্মকাণ্ডে উসকানি দিচ্ছেন, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ইতোমধ্যে অনেককে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া আরও বলেন, বাইরে থেকে বিভিন্ন দুষ্কৃতকারী ও বহিরাগত ব্যক্তি এসে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। শ্রমিকদের সামনে রেখে পেছন থেকে তারা উসকানি দিচ্ছেন।

এসব ব্যক্তির পেছনে কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়া রয়েছে কি না, তা তাদের জানা নেই। তবে তারা শ্রমিক নন, বহিরাগত উসকানিদাতা। তিনি বলেন, এসব ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থেকে কোথায় শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামছেন, কোথায় গাড়ি ভাঙচুর হচ্ছে কিংবা কোথায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, সেসব বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।