আজ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

বরিশালের ৩০ খাল পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনে ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:34:22 pm, Wednesday, 4 November 2026
  • 25

বরিশালের ৩০ খাল পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনে ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নদী-খালের শহর হিসেবে পরিচিত বরিশাল নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের লক্ষ্যে ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি খাল নিয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের কথা জানিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের।

প্রকল্পের আওতায় ১০টি খালের সৌন্দর্যবর্ধন এবং ২০টি খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরীর খালগুলো দখল, দূষণ, ভরাট ও নাব্যতা সংকটে ভুগছে। একসময় এসব খাল নগরীর পানি নিষ্কাশন ও নৌযোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হলেও সময়ের সঙ্গে অনেক খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায়।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পারায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বরিশালের খাল পুনরুদ্ধারে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালে নগরীর খালগুলোর পাড় সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের জন্য ৭০১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। এতে ৫৬১ কোটি ২৩ লাখ টাকা সরকারি অনুদান এবং ১৪০ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে অর্থায়নের পরিকল্পনা ছিল।

অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে সাতটি শর্তে অর্থায়নে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছিল। ওই পরিকল্পনায় নগরীর ৪৬টি খালের মধ্যে ২০টি খনন এবং আরও ৯টি খালের খননের পাশাপাশি পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের প্রস্তাব ছিল।

এর আগে বরিশাল নগরীর খাল পুনরুদ্ধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডও উদ্যোগ নিয়েছিল। নগরীর সাতটি খালের প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ কাজে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ের উদ্যোগ ছিল। পরিকল্পনাভুক্ত খালগুলোর মধ্যে ছিল সাগরদী, চাঁদমারী, ভাটার, জেল, আমানতগঞ্জ, পলাশপুর ও রূপাতলী খাল। প্রথম পর্যায়ে খনন এবং পরবর্তী সময়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, খালের সীমানা নির্ধারণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনাও ছিল।

তবে অতীতের এসব উদ্যোগের পরও নগরীর সব খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। খালের নাব্যতা ফিরলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ বাড়বে।

পাশাপাশি নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনাও সম্প্রসারিত হতে পারে। খালের পাড় সংরক্ষণ, পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন ও হাঁটার পথ নির্মাণের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরীর পরিবেশ ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধারও উন্নতি হবে। তবে এসব সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে খালের সীমানা সংরক্ষণ, অবৈধ দখল প্রতিরোধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

এদিকে, ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি খালের সৌন্দর্যবর্ধন ও ২০টি খাল খননের উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। বুধবার বরিশাল সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বরিশালবাসীর পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে প্রশাসক শিরিন বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রকল্পটি বরিশালকে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বরিশালবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং নগরীর নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে পুনরায় ধন্যবাদ জানান তিনি। বরিশালবাসীর প্রত্যাশা, অতীতের পরিকল্পনাগুলোর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এবার যেন প্রকল্পের বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয় এবং নগরীর খালগুলো ফিরে পায় তাদের হারানো প্রাণ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ এর শুভ উদ্বোধন

বরিশালের ৩০ খাল পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যবর্ধনে ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

Update Time : 06:34:22 pm, Wednesday, 4 November 2026

নদী-খালের শহর হিসেবে পরিচিত বরিশাল নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন খালের পাড় সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের লক্ষ্যে ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০টি খাল নিয়ে একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের কথা জানিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের।

প্রকল্পের আওতায় ১০টি খালের সৌন্দর্যবর্ধন এবং ২০টি খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নগরীর খালগুলো দখল, দূষণ, ভরাট ও নাব্যতা সংকটে ভুগছে। একসময় এসব খাল নগরীর পানি নিষ্কাশন ও নৌযোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হলেও সময়ের সঙ্গে অনেক খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায়।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পারায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বরিশালের খাল পুনরুদ্ধারে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালে নগরীর খালগুলোর পাড় সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের জন্য ৭০১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়। এতে ৫৬১ কোটি ২৩ লাখ টাকা সরকারি অনুদান এবং ১৪০ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে অর্থায়নের পরিকল্পনা ছিল।

অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে সাতটি শর্তে অর্থায়নে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছিল। ওই পরিকল্পনায় নগরীর ৪৬টি খালের মধ্যে ২০টি খনন এবং আরও ৯টি খালের খননের পাশাপাশি পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের প্রস্তাব ছিল।

এর আগে বরিশাল নগরীর খাল পুনরুদ্ধারে পানি উন্নয়ন বোর্ডও উদ্যোগ নিয়েছিল। নগরীর সাতটি খালের প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ কাজে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ের উদ্যোগ ছিল। পরিকল্পনাভুক্ত খালগুলোর মধ্যে ছিল সাগরদী, চাঁদমারী, ভাটার, জেল, আমানতগঞ্জ, পলাশপুর ও রূপাতলী খাল। প্রথম পর্যায়ে খনন এবং পরবর্তী সময়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, খালের সীমানা নির্ধারণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনাও ছিল।

তবে অতীতের এসব উদ্যোগের পরও নগরীর সব খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। খালের নাব্যতা ফিরলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ বাড়বে।

পাশাপাশি নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনাও সম্প্রসারিত হতে পারে। খালের পাড় সংরক্ষণ, পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন ও হাঁটার পথ নির্মাণের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরীর পরিবেশ ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধারও উন্নতি হবে। তবে এসব সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে খালের সীমানা সংরক্ষণ, অবৈধ দখল প্রতিরোধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

এদিকে, ৭৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি খালের সৌন্দর্যবর্ধন ও ২০টি খাল খননের উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। বুধবার বরিশাল সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বরিশালবাসীর পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে প্রশাসক শিরিন বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসন, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, প্রকল্পটি বরিশালকে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বরিশালবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং নগরীর নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে পুনরায় ধন্যবাদ জানান তিনি। বরিশালবাসীর প্রত্যাশা, অতীতের পরিকল্পনাগুলোর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এবার যেন প্রকল্পের বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয় এবং নগরীর খালগুলো ফিরে পায় তাদের হারানো প্রাণ।