আজ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৭%

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে সব বিলে ভেটো দেবেন ট্রাম্প

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:32:33 pm, Tuesday, 3 November 2026
  • 20

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে সব বিলে ভেটো দেবেন ট্রাম্প

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হলে তাদের উত্থাপিত প্রতিটি বিলে ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে তিনি নিজেকে মিস্টার ভেটো হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন বলেও জানিয়েছেন।

নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইনের পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেস ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সে ক্ষেত্রে তিনি ‘মিস্টার ভেটো’ হয়ে উঠবেন। ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের ইচ্ছামতো সবকিছু করার সুযোগ দেবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস থেকে যেসব বিল তার কাছে পাঠানো হবে, সেগুলোতে তিনি ধারাবাহিকভাবে ভেটো দেবেন। এভাবে এক থেকে দুই মাস চলার পর ডেমোক্র্যাটরা বুঝতে পারবেন যে এতে সময়ের অপচয় হচ্ছে। তখন তারা আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে সমঝোতার উদ্যোগ নেবেন বলে মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, একের পর এক বিলে ভেটো দেওয়ার ফলে একসময় ডেমোক্র্যাটরা আলোচনায় বসতে বাধ্য হবেন এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন।

এ ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন নয় বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার মতে, অতীতেও গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের ক্ষেত্রে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের পারস্পরিক সমঝোতার প্রয়োজন হয়েছে। তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ভালো ফল করবে বলে আশা করছেন।

তবে ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে তার জবাব হবে ধারাবাহিক ভেটো। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প মাত্র দুবার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। অন্যদিকে, প্রথম মেয়াদে তিনি মোট ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট সম্মতি না দিলে তিনি সেটিতে ভেটো দিতে পারেন।

তবে প্রেসিডেন্টের আপত্তি অগ্রাহ্য করে বিলটি আইনে পরিণত করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। সাক্ষাৎকারে তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, সুযোগ থাকলে আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। তবে এ বিষয়ে সংবিধানের বিধান স্পষ্ট বলেও স্বীকার করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুসারে, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারবেন না। এদিকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের মোট ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে রিপাবলিকান পার্টি।

অন্যদিকে কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে নির্বাচনে লড়ছে ডেমোক্র্যাটরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য দলটির প্রয়োজন আর মাত্র তিনটি আসন। এই নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আগামী দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পার্কিং করা বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে সব বিলে ভেটো দেবেন ট্রাম্প

Update Time : 01:32:33 pm, Tuesday, 3 November 2026

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হলে তাদের উত্থাপিত প্রতিটি বিলে ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে তিনি নিজেকে মিস্টার ভেটো হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন বলেও জানিয়েছেন।

নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিক মিরান্ডা ডিভাইনের পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেস ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সে ক্ষেত্রে তিনি ‘মিস্টার ভেটো’ হয়ে উঠবেন। ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের ইচ্ছামতো সবকিছু করার সুযোগ দেবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেস থেকে যেসব বিল তার কাছে পাঠানো হবে, সেগুলোতে তিনি ধারাবাহিকভাবে ভেটো দেবেন। এভাবে এক থেকে দুই মাস চলার পর ডেমোক্র্যাটরা বুঝতে পারবেন যে এতে সময়ের অপচয় হচ্ছে। তখন তারা আলোচনার টেবিলে ফিরে এসে সমঝোতার উদ্যোগ নেবেন বলে মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, একের পর এক বিলে ভেটো দেওয়ার ফলে একসময় ডেমোক্র্যাটরা আলোচনায় বসতে বাধ্য হবেন এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন।

এ ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন নয় বলেও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার মতে, অতীতেও গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের ক্ষেত্রে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের পারস্পরিক সমঝোতার প্রয়োজন হয়েছে। তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ভালো ফল করবে বলে আশা করছেন।

তবে ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে তার জবাব হবে ধারাবাহিক ভেটো। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প মাত্র দুবার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। অন্যদিকে, প্রথম মেয়াদে তিনি মোট ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট সম্মতি না দিলে তিনি সেটিতে ভেটো দিতে পারেন।

তবে প্রেসিডেন্টের আপত্তি অগ্রাহ্য করে বিলটি আইনে পরিণত করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। সাক্ষাৎকারে তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, সুযোগ থাকলে আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। তবে এ বিষয়ে সংবিধানের বিধান স্পষ্ট বলেও স্বীকার করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২২তম সংশোধনী অনুসারে, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারবেন না। এদিকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের মোট ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে রিপাবলিকান পার্টি।

অন্যদিকে কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে নির্বাচনে লড়ছে ডেমোক্র্যাটরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য দলটির প্রয়োজন আর মাত্র তিনটি আসন। এই নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আগামী দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।