একদিকে মশাবাহিত ডেঙ্গুর বিস্তার, অন্যদিকে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু- জনস্বাস্থ্যে বাড়ছে চাপ। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে, হাসপাতালে রোগীর চাপ, আর মৃত্যুর খবর উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
বছরের শেষভাগে এসে দুই রোগে মোট আক্রান্ত ও প্রাণহানির সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টাতেই হাম উপসর্গ এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের হারও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৮২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে ঢাকা বিভাগে ৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে একজন, খুলনা বিভাগে একজন ও রাজশাহী বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৮১৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে বরিশাল বিভাগে ১৯৪ জন, খুলনা বিভাগে ২১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১৩, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৪, রাজশাহী বিভাগে ২১৭, রংপুর বিভাগে ১১৬ ও সিলেট বিভাগে ২৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সবমিলিয়ে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে আজ বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই ডেঙ্গুতে ১৯২ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া উল্লেখিত সময়ে খুলনা বিভাগে ৭৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৩ জন, বরিশাল বিভাগে ২৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৮ জন, রংপুরে ৭ জন ও সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো হামবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৪১২ জন। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন ও সিলেটে বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২৪২ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৫ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে এক হাজার ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৩২২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার ১০৬ জনে।
এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৯০ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬৩১ জনে। গত ১৫ মার্চ থেকে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে দুই লাখ ৩১৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৯২ হাজার ১৭৮ জন।






















