রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ঘিরে আইনগত প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে অস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরতে বলতে দেখা যায়। যদিও প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, তার অস্ত্রের লাইসেন্স বৈধ। স্থানীয়দের অভিযোগের পরও পুলিশ মাদক ব্যবসা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। পরে তিনি বলেন, ৩০–৩৫ জন তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখীভাবে এগিয়ে আসায় আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন।
তবে আইন অনুযায়ী, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশের মতো অভিযান, তল্লাশি বা গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পান না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ২১ ও ২৩ ধারায় নির্দিষ্ট শর্তে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাদক জব্দ, তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালার ২৫(ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্সধারী আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করতে পারেন।
তবে অন্যের মধ্যে ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। ফলে বৈধ লাইসেন্স থাকলেই অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালানোর অনুমতি পাওয়া যায় না। দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০২ ধারায় আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকৃত হলেও তা পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের সীমার মধ্যে প্রয়োগ করতে হয়। অন্যদিকে, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকও কাউকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে পারেন।
তবে এ ক্ষমতা সন্দেহের ভিত্তিতে যেকোনো ব্যক্তিকে ধাওয়া বা তল্লাশি করার সাধারণ অনুমতি নয়। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ও সরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের অস্ত্র বহন এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তাদের অনুমোদন ও দায়িত্বের সীমা বিবেচ্য। অস্ত্র দেখিয়ে অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির ৫০৩ ও ৫০৬ ধারা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘিত হলে অস্ত্র আইন, ১৮৭৮-এর ১৮ ধারাসহ প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তাদের কাছ থেকে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেটি হেরোইন কি না, পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেছেন, সরকার ও মন্ত্রীদের কাজ নির্দেশনা দেওয়া, আর ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব পুলিশের। তার মতে, প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন বেআইনি। তবে ঘটনায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।






















