আজ সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ম্যানেজার সুমন আটক

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:09:25 pm, Saturday, 17 October 2026
  • 21

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ম্যানেজার সুমন আটক

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে শিশু ও নারীসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে ওই রিসোর্টে আগুন লাগে। নিহতরা সবাই পর্যটক এবং ৬ জন একই পরিবারের সদস্য। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চারজনকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। আগুনের ঘটনায় টুপটুপ রিসোর্টের ম্যানেজার সুমনকে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

শনিবারের সকাল। চারপাশ তখনও নীরব। কক্সবাজারের ইনানি এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে তখনও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ঘুড়তে আসা পর্যটকরা। ঠিক সেই মুহূর্তেই সব ওলটপালট করে দেয় ভয়াবহ আগুন।

শুরুতে রিসোর্টকর্মী আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এসি ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। যে রিসোর্টে কিছুক্ষণ আগেও ছিল শান্ত, সেখানে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। প্রাণ বাঁচাতে শুরু হয় ছোটাছুটি।

একে একে উদ্ধার হয় ১০টি মরদেহ। এদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এরা হলেন, ঢাকার বনশ্রী এলাকা ইশরাত জাহান মালিহা ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী, খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা ও নাফিসতা মীম, চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর শিশু ফায়িজান আহম্মেদ।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘কাঠের রিসোর্ট হওয়ার কারণে আগুন ধরার পর সেটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। ঘটনার পর থেকে রিসোর্ট মালিক পলাতক।

কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে মোট রুম ছিল ৯টি। অগ্নিকাণ্ডের সময় এখানে ছিলেন ২৭ জন পর্যটক।

এদিকে, আগুনের ঘটনায় পর্যটন এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিস বলছে, টুপটুপ রিসর্টকে জুন মাসে সতর্ক করা হলেও তারা মানেনি। অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছিল রিসর্টটি। স্থানীয়রা বলছেন, শুধু এই পর্যটন কেন্দ্রটিই নয় মেরিন ড্রাইভের আশপাশে গড়ে ওঠা বেশির ভাগ রিসর্টের নেই অগ্নিনিরাপত্তা। দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এলাকায় স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি তাদের।

কক্সবাজারের উখিয়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী জানান, মেরিন ড্রাইভের আশপাশের অনেক হোটেল-রিসোর্টে নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা। দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এলাকায় স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন জরুরি।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানান, জুন মাসেই ৩ তলাবিশিষ্ট রিসর্টটিকে অগ্নি নির্বাপনী ব্যবস্থা উন্নত করতে সতর্ক করে ফায়ার সার্ভিস। সর্তকতা উপেক্ষা করে পরিচালিত হচ্ছিল রিসর্টটি।

পর্যটন অব্যবস্থাপনা রোধে কাজ করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। দ্রুত অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে তারা।

কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইনানীর এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পর্যটন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চত করার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, এ বছর প্রাণহানি বেড়ে ৩৪৮

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ম্যানেজার সুমন আটক

Update Time : 11:09:25 pm, Saturday, 17 October 2026

কক্সবাজারের ইনানী এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে শিশু ও নারীসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে ওই রিসোর্টে আগুন লাগে। নিহতরা সবাই পর্যটক এবং ৬ জন একই পরিবারের সদস্য। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় চারজনকে পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়। আগুনের ঘটনায় টুপটুপ রিসোর্টের ম্যানেজার সুমনকে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

শনিবারের সকাল। চারপাশ তখনও নীরব। কক্সবাজারের ইনানি এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে তখনও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ঘুড়তে আসা পর্যটকরা। ঠিক সেই মুহূর্তেই সব ওলটপালট করে দেয় ভয়াবহ আগুন।

শুরুতে রিসোর্টকর্মী আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এসি ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। যে রিসোর্টে কিছুক্ষণ আগেও ছিল শান্ত, সেখানে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। প্রাণ বাঁচাতে শুরু হয় ছোটাছুটি।

একে একে উদ্ধার হয় ১০টি মরদেহ। এদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এরা হলেন, ঢাকার বনশ্রী এলাকা ইশরাত জাহান মালিহা ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী, খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা ও নাফিসতা মীম, চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির এবং পাঁচ বছর শিশু ফায়িজান আহম্মেদ।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘কাঠের রিসোর্ট হওয়ার কারণে আগুন ধরার পর সেটা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, এ ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। ঘটনার পর থেকে রিসোর্ট মালিক পলাতক।

কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে মোট রুম ছিল ৯টি। অগ্নিকাণ্ডের সময় এখানে ছিলেন ২৭ জন পর্যটক।

এদিকে, আগুনের ঘটনায় পর্যটন এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফায়ার সার্ভিস বলছে, টুপটুপ রিসর্টকে জুন মাসে সতর্ক করা হলেও তারা মানেনি। অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছিল রিসর্টটি। স্থানীয়রা বলছেন, শুধু এই পর্যটন কেন্দ্রটিই নয় মেরিন ড্রাইভের আশপাশে গড়ে ওঠা বেশির ভাগ রিসর্টের নেই অগ্নিনিরাপত্তা। দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এলাকায় স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি তাদের।

কক্সবাজারের উখিয়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজালাল চৌধুরী জানান, মেরিন ড্রাইভের আশপাশের অনেক হোটেল-রিসোর্টে নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা। দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এলাকায় স্থায়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন জরুরি।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানান, জুন মাসেই ৩ তলাবিশিষ্ট রিসর্টটিকে অগ্নি নির্বাপনী ব্যবস্থা উন্নত করতে সতর্ক করে ফায়ার সার্ভিস। সর্তকতা উপেক্ষা করে পরিচালিত হচ্ছিল রিসর্টটি।

পর্যটন অব্যবস্থাপনা রোধে কাজ করছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। দ্রুত অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে তারা।

কক্সবাজারের পর্যটন এলাকায় ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইনানীর এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পর্যটন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চত করার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।