নীল জলরাশি, দীর্ঘ বালুকাবেলা, পাহাড়, বন আর বঙ্গোপসাগরের অপার বিস্তারের কারণে কক্সবাজার বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত পর্যটনগন্তব্য। কিন্তু কক্সবাজারকে যদি আমরা কেবল একটি সমুদ্রসৈকত ও পর্যটননগরী হিসেবে দেখি, তাহলে এই ভূখ-ের প্রকৃত সম্ভাবনাকে আমরা খুব ছোট করে দেখব।
ভৌগোলিক অবস্থান, সমুদ্রসম্পদ, পর্যটন, আঞ্চলিক যোগাযোগ, সামুদ্রিক অর্থনীতি এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক নতুন ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতাÑ সবকিছু বিবেচনায় নিলে কক্সবাজার বাংলাদেশের আগামী দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্লোবাল কোস্টাল সিটি হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাখে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি সেই সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে পারব? কক্সবাজারের উন্নয়ন নিয়ে আমাদের প্রচলিত চিন্তা মূলত পর্যটনকেন্দ্রিক।
আরও হোটেল, আরও রিসোর্ট, আরও বিনোদনকেন্দ্রÑ এগুলো নিঃসন্দেহে প্রয়োজন; কিন্তু এগুলো কোনো শহরের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের জন্য যথেষ্ট নয়। কক্সবাজারের ভবিষ্যৎ হতে হবে আরও বড়। পর্যটন হবে একটি স্তম্ভ, কিন্তু পুরো অর্থনীতি দাঁড়াবে সমুদ্র, বাণিজ্য, জ্ঞান, প্রযুক্তি, পরিবেশ ও আঞ্চলিক সংযোগের ওপর। এই জায়গা থেকেই কক্সবাজারের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘ব্লু ইকোনমি ও গ্লোবাল সিটি’ পরিকল্পনার কথা ভাবা জরুরি।
পর্যটননগরী থেকে ব্লু ইকোনমি সিটি বিশ্বের অনেক উপকূলীয় শহর তাদের সমুদ্রকে শুধু সৌন্দর্যের সম্পদ হিসেবে দেখেনি; তারা সমুদ্রকে অর্থনীতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছে। কক্সবাজারেও সেই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। সামুদ্রিক মৎস্য, সামুদ্রিক শৈবাল, সামুদ্রিক জীবপ্রযুক্তি, সামুদ্রিক গবেষণা, মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ, কোল্ড চেইন, সামুদ্রিক পর্যটন, উপকূলীয় পরিবহন ও লজিস্টিকসÑ এসব খাতকে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক মানের ব্লু ইকোনমি রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রের স্বাস্থ্য ও নতুন সামুদ্রিক সম্পদের অর্থনৈতিক ব্যবহার নিয়ে গবেষণা হবে সেখানে। এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার অংশীদারত্ব তৈরি করা গেলে কক্সবাজার ধীরে ধীরে একটি মেরিন নলেজ সিটি হয়ে উঠতে পারে।
সমুদ্র থেকে মাছ তুলে কাঁচা অবস্থায় বিক্রি করে দেওয়ার দিন শেষ করতে হবে। মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, সামুদ্রিক শৈবালসহ সামুদ্রিক সম্পদের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে গবেষণা, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং ও রপ্তানি। অর্থাৎ কাঁচামাল নয়, তৈরি করতে হবে সম্পূর্ণ মূল্য সংযোজন শৃঙ্খল। মাতারবাড়ী ও আঞ্চলিক সংযোগ : নতুন সম্ভাবনার দরজা কক্সবাজারের আরেকটি বড় শক্তি তার ভৌগোলিক অবস্থান।
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার বিমানবন্দর, সড়ক ও রেল যোগাযোগÑ এসব অবকাঠামোকে বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে দেখলে চলবে না। এগুলোকে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক করিডরের অংশ হিসেবে দেখতে হবে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-মাতারবাড়ী-টেকনাফ অঞ্চলের মধ্যে একটি সমন্বিত গধৎরঃরসব ঊপড়হড়সরপ ঈড়ৎৎরফড়ৎ গড়ে তোলা গেলে কক্সবাজার শুধু পর্যটনের শহর থাকবে না; এটি হতে পারে বাণিজ্য, লজিস্টিকস, সামুদ্রিক সেবা ও পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকারÑউন্নয়ন মানেই শহরের সর্বত্র ভারী শিল্প বা কংক্রিটের বিস্তার নয়। কোন এলাকায় শিল্প হবে, কোথায় পর্যটন, কোথায় আবাসিক এলাকা, কোথায় পরিবেশ সংরক্ষণ অঞ্চলÑ এসব আগে থেকেই বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। খধহফ টংব চষধহহরহম ও গধৎরহব ঝঢ়ধঃরধষ চষধহহরহম ছাড়া কক্সবাজারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত বিশৃঙ্খল নগরায়ণে পরিণত হতে পারে।
কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার প্রকৃতি কক্সবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিতÑ প্রকৃতি রক্ষা। পাহাড় কেটে, জলাভূমি ভরাট করে, বালিয়াড়ি নষ্ট করে কিংবা নির্বিচারে ভবন নির্মাণ করে কোনো আধুনিক শহর তৈরি করা যায় না। কক্সবাজারের সৌন্দর্যই যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে পর্যটন অর্থনীতির ভিত্তিটিও দুর্বল হয়ে পড়বে।
তাই প্রয়োজন একটি ইষঁব-এৎববহ ঈড়ধংঃধষ ইবষঃ। উপকূলীয় বন, বালিয়াড়ি, জলাভূমি, ম্যানগ্রোভ ও প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা অঞ্চলকে সুরক্ষিত রেখে পরিকল্পিত সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও উপকূলীয় ক্ষয় মোকাবিলায় প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সমুদ্রের পাশে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের আগে প্রশ্ন করতে হবেÑ এটি কি উপকূলকে নিরাপদ করবে, নাকি আরও ঝুঁকিপূর্ণ করবে?
একটি সুন্দর শহর নয়, একটি বাসযোগ্য শহর কক্সবাজারে পর্যটকের জন্য যত উন্নয়ন হয়েছে, স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন কি তার সঙ্গে তাল মিলিয়েছে? প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। একটি আন্তর্জাতিক শহরের পরিচয় শুধু পাঁচ তারকা হোটেল দিয়ে হয় না। ভালো রাস্তা, নিরাপদ পানি, আধুনিক পয়োনিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ, পার্ক ও নিরাপদ আবাসনÑ এসবই একটি শহরের প্রকৃত মান নির্ধারণ করে।
খুরুশকুল, ভারুয়াখালীসহ সম্ভাব্য উপযুক্ত এলাকায় পরিকল্পিত স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলে মূল শহরের ওপর আবাসন ও বাণিজ্যিক চাপ কমানো যেতে পারে। তবে স্যাটেলাইট টাউন যেন শুধু আবাসিক কলোনি না হয়; সেখানে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন ও নাগরিক সুবিধা থাকতে হবে। কক্সবাজারকে হতে হবে মানুষের জন্য শহর, শুধু পর্যটকের জন্য নয়। ‘আইকনিক হেরিটেজ ভিলেজ’ হতে পারে নতুন পর্যটন দর্শন কক্সবাজারের পর্যটনকে বৈচিত্র্যময় করার একটি অভিনব উদ্যোগ হতে পারে একটি ওপড়হরপ ঐবৎরঃধমব ঠরষষধমব।
এখানে বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি, কক্সবাজারের স্থানীয় ঐতিহ্য, রাখাইন সংস্কৃতি, পাহাড়ি ও উপকূলীয় জীবনধারা, হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার ও স্থাপত্যকে আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে। বিশ্বের পর্যটক এখন শুধু সমুদ্র দেখতে চান না; তারা জানতে চান একটি অঞ্চলের গল্প। কক্সবাজারের সেই গল্প আছেÑ কিন্তু সেটিকে এখনো যথেষ্ট পরিকল্পিতভাবে বিশ্ববাজারে উপস্থাপন করা হয়নি।
একটি আন্তর্জাতিক মানের ঐবৎরঃধমব ঠরষষধমব হতে পারে সেই গল্প বলার জায়গা। সৈকতকে বাঁচিয়েই সৈকতকেন্দ্রিক অর্থনীতি সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষা করে একটি পরিকল্পিত ইবধপযভৎড়হঃ চঁনষরপ জবধষস তৈরি করা যেতে পারে। হাঁটার পথ, সাইকেল লেন, সবুজায়ন, নির্দিষ্ট ভেন্ডিং জোন, পাবলিক টয়লেট, ক্যাফে, পর্যটক তথ্যকেন্দ্র, নিরাপত্তা ব্যবস্থাÑ সবকিছু পরিকল্পিতভাবে সাজানো প্রয়োজন।
বাঁকখালী নদী ও সমুদ্রঘেঁষা এলাকাগুলোকে নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। সম্ভাব্য জায়গায় নদীতীরবর্তী ওয়াকওয়ে, সাইক্লিং ট্র্যাক, সবুজ বেষ্টনী ও জনবান্ধব পাবলিক স্পেস তৈরি করা যেতে পারে। তবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বা উপকূলীয় বপড়ংুংঃবস ক্ষতিগ্রস্ত হয়Ñ এমন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না। কক্সবাজার হতে পারে জ্ঞান ও কূটনীতির শহর বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে ভবিষ্যতে জলবায়ু, সমুদ্রসম্পদ, বাণিজ্য, মৎস্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এই বাস্তবতায় কক্সবাজারে একটি ইধু ড়ভ ইবহমধষ উরধষড়মঁব ঈবহঃৎব বা আন্তর্জাতিক সংলাপ ও সম্মেলনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার চিন্তা করা যেতে পারে। ইওগঝঞঊঈ, ওঙজঅ এবং বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন সম্মেলন, জলবায়ু সংলাপ, সামুদ্রিক গবেষণা সম্মেলন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ফোরাম আয়োজনের সক্ষমতা তৈরি করা গেলে কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক পরিচিতি নতুন মাত্রা পাবে।
এখানে ‘ভূরাজনৈতিক হাব’ বলতে সামরিকীকরণ নয়; বরং কূটনীতি, বাণিজ্য, জ্ঞান ও আঞ্চলিক সহযোগিতার কেন্দ্র বোঝানো উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণÑ স্থানীয় মানুষকে অংশীদার করা কক্সবাজারের উন্নয়নের সুফল যদি শুধু বড় বিনিয়োগকারী, হোটেল ব্যবসায়ী কিংবা বহিরাগত শ্রমবাজার পায়, তাহলে এই উন্নয়ন টেকসই হবে না। স্থানীয় তরুণদের জন্য পর্যটন ও হসপিটালিটি প্রশিক্ষণ, মেরিন টেকনোলজি, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভাষা শিক্ষা, ডিজিটাল দক্ষতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করতে হবে।
একটি বিশেষায়িত ঞড়ঁৎরংস ধহফ ঐড়ংঢ়রঃধষরঃু ওহংঃরঃঁঃব কিংবা গধৎরঃরসব টহরাবৎংরঃু প্রতিষ্ঠা করা গেলে কক্সবাজারের তরুণরাই ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে। শুঁটকি, লবণ, মৎস্য, হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসাকে আধুনিক বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এষড়নধষ ঈরঃু সঙ্গে খড়পধষ চৎড়ংঢ়বৎরঃু-এর সম্পর্ক তৈরি করাই হবে সাফল্যের প্রকৃত মাপকাঠি।
প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমন্বিত পরিকল্পনা কক্সবাজারের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় বাধা অর্থের অভাব নয়; বড় বাধা হতে পারে বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা, সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির অভাব। একটি ঈড়ীং ইধুধৎ ওহঃবমৎধঃবফ গধংঃবৎ চষধহ দরকার, যা পর্যটন, নগরায়ণ, পরিবেশ, পরিবহন, বন্দর, ইষঁব ঊপড়হড়সু, আবাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় অর্থনীতিকে একই কাঠামোর মধ্যে আনবে।
প্রয়োজনে একটি শক্তিশালী সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান বা বিদ্যমান উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে। তবে নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করাই সমাধান নয়; দায়িত্বের স্পষ্টতা, জবাবদিহি, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই মূল কথা। কক্সবাজারের জন্য ২০ বা ৩০ বছরের পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে উন্নয়নের দর্শন পরিবর্তিত না হয়।
কক্সবাজারের সামনে আজ দুটি পথ। একটি হলোÑ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট, পাহাড় কাটা, বর্জ্য, জলাবদ্ধতা, অতিরিক্ত কংক্রিট এবং মৌসুমি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল একটি শহর। অন্যটি হলোÑ পরিবেশবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর, সমুদ্রভিত্তিক, জ্ঞাননির্ভর, আন্তর্জাতিক ও মানবিক একটি এষড়নধষ ঈড়ধংঃধষ ঈরঃু দ্বিতীয় পথটি কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে, কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার জমি নয়Ñ তার অবস্থান। সবচেয়ে বড় সম্পদ তার ভবন নয়Ñতার সমুদ্র। আর সবচেয়ে বড় শক্তি শুধু পর্যটক নয়Ñ তার মানুষ। সুতরাং কক্সবাজারকে নতুনভাবে ভাবার এখনই সময়। কক্সবাজার শুধু বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর নয়; সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব পেলে এটি হতে পারে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক নতুন অর্থনীতির বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার।





















