আজ সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬%

বাগেরহাটে সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:40:19 am, Monday, 12 October 2026
  • 14

বাগেরহাটে সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিম্নমানের ইট ও পাথরের খোয়া ব্যবহারের বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি তারা।

এমনকি স্থানীয়দের বাধা ও অভিযোগের পরও রাতের আঁধারে সেতুর ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীর দাবি, ইট ও পাথরের খোয়া পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাগেরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রামপাল উপজেলার কিসমত কুমলাই-সগুনা সড়কের ৫২০ মিটার চেইনেজে ২৬ মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রি-কাস্ট পাইলের মাধ্যমে নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এফটি অ্যান্ড এবি (জেভি)। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ২ কোটি ৮৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪৩৪ টাকা ৫ পয়সা।

‘বিআর-২৫/অর্থবছর ২০২৪-২৫’ প্রকল্পের আওতায় সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ। কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বর্ধিত মেয়াদে সেতুর পাশের পাইলিংয়ের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত ইট ও পাথরের খোয়ার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। পাথরের খোয়ায় সামান্য আঘাত করলেই তা গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে সেতুর স্থায়িত্ব ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে। সরকারি অর্থে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে উপকরণের গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শেখ সলেমান বলেন, নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে আপত্তি ওঠার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কয়েক দফায় কাজ বন্ধ করে দেন। বিষয়টি রামপাল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল দাসকে জানানো হয়। একাধিকবার তাকে ফোন করেও অভিযোগের কথা অবহিত করা হয়েছে কিন্তু অভিযোগের যথাযথ প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে স্থানীয়দের মধ্যে।

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাদের অভিযোগ উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে সেতুর ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। এতে নির্মাণকাজের স্বচ্ছতা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সেতুটি নির্মিত হলে এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলে ভবিষ্যতে সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা থেকে যাবে। তাই শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, সরেজমিনে নির্মাণকাজের বিভিন্ন ধাপ পরিদর্শন, ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে সেতুর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা চান তারা। অভিযোগের বিষয়ে রামপাল উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল দাস বলেন, এলাকাবাসী আমাকে অভিযোগ দেওয়ার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ইট ও পাথরের খোয়া সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করিয়েছি। পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়নি। বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর রশীদ বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেতুটির নির্মাণকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে নির্মাণকাজের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে এবং সেতুর গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

বাগেরহাটে সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

Update Time : 10:40:19 am, Monday, 12 October 2026

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় প্রায় ২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিম্নমানের ইট ও পাথরের খোয়া ব্যবহারের বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি তারা।

এমনকি স্থানীয়দের বাধা ও অভিযোগের পরও রাতের আঁধারে সেতুর ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলীর দাবি, ইট ও পাথরের খোয়া পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাগেরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাট জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রামপাল উপজেলার কিসমত কুমলাই-সগুনা সড়কের ৫২০ মিটার চেইনেজে ২৬ মিটার দীর্ঘ একটি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রি-কাস্ট পাইলের মাধ্যমে নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এফটি অ্যান্ড এবি (জেভি)। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ২ কোটি ৮৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪৩৪ টাকা ৫ পয়সা।

‘বিআর-২৫/অর্থবছর ২০২৪-২৫’ প্রকল্পের আওতায় সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ। কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৬ সালের ১৭ মার্চ। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বর্ধিত মেয়াদে সেতুর পাশের পাইলিংয়ের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত ইট ও পাথরের খোয়ার মান অত্যন্ত নিম্নমানের। পাথরের খোয়ায় সামান্য আঘাত করলেই তা গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে সেতুর স্থায়িত্ব ও নির্মাণকাজের মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে। সরকারি অর্থে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে উপকরণের গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শেখ সলেমান বলেন, নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে আপত্তি ওঠার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কয়েক দফায় কাজ বন্ধ করে দেন। বিষয়টি রামপাল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল দাসকে জানানো হয়। একাধিকবার তাকে ফোন করেও অভিযোগের কথা অবহিত করা হয়েছে কিন্তু অভিযোগের যথাযথ প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে স্থানীয়দের মধ্যে।

নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাদের অভিযোগ উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে সেতুর ঢালাইয়ের কাজ করা হয়েছে। এতে নির্মাণকাজের স্বচ্ছতা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সেতুটি নির্মিত হলে এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলে ভবিষ্যতে সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা থেকে যাবে। তাই শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, সরেজমিনে নির্মাণকাজের বিভিন্ন ধাপ পরিদর্শন, ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে সেতুর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা চান তারা। অভিযোগের বিষয়ে রামপাল উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল দাস বলেন, এলাকাবাসী আমাকে অভিযোগ দেওয়ার পর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ইট ও পাথরের খোয়া সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করিয়েছি। পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়নি। বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুর রশীদ বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেতুটির নির্মাণকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে নির্মাণকাজের প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে এবং সেতুর গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।