আজ শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৯%

লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:49:16 pm, Saturday, 10 October 2026
  • 18
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে একটি মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের মারধর, শারীরিক নির্যাতন ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও মুহতামিম মাওলানা হাবিবুল্লাহ নীরবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে শিশুদের মারধরের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসায়ে বাবুত তাকওয়ায় এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে এক শিশু শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছে। একপর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে স্কেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতেও দেখা যায়।

অন্য একটি ভিডিওতে এক শিশুকে দেয়ালের সঙ্গে ধরে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করার দৃশ্য দেখা যায়। আরও একটি ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করতে দেখা গেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে শাসনের নামে মাদ্রাসাটির শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো শিশুকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখারও অভিযোগ রয়েছে।

শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণকে অমানবিক ও শিশু অধিকারের পরিপন্থী উল্লেখ করে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে নির্যাতনের শিকার শিশুর মা-বাবাসহ একাধিক অভিভাবক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সন্তানদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়ে তারা যদি নির্যাতনের শিকার হয়, তাহলে বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে এ বিষয়ে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চান।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা হাবিবুল্লাহ নীরব বলেন, ‘একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছে। আমরা তাকে বহিষ্কার করেছি।’ তবে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

মাদ্রাসাটি ২০২৫ সালে রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করছে বলে জানা গেছে। মাওলানা হাবিবুল্লাহ নীরব ইসলামি আন্দোলন রামগতি পৌরসভা শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক পলাতক আছেন। তাকে আগে ধরা দিতে হবে, পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিভাবকেরা আমার কাছে এসেছিলেন, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।’

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বান্ধবী ভালো না লাগায় ৬ মাস মেয়েকে স্কুলে পাঠাননি তাজমিনের মা

লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

Update Time : 02:49:16 pm, Saturday, 10 October 2026

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে একটি মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের মারধর, শারীরিক নির্যাতন ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও মুহতামিম মাওলানা হাবিবুল্লাহ নীরবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে শিশুদের মারধরের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসায়ে বাবুত তাকওয়ায় এসব ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে এক শিশু শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছে। একপর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে স্কেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতেও দেখা যায়।

অন্য একটি ভিডিওতে এক শিশুকে দেয়ালের সঙ্গে ধরে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করার দৃশ্য দেখা যায়। আরও একটি ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করতে দেখা গেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে শাসনের নামে মাদ্রাসাটির শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো শিশুকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখারও অভিযোগ রয়েছে।

শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণকে অমানবিক ও শিশু অধিকারের পরিপন্থী উল্লেখ করে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে নির্যাতনের শিকার শিশুর মা-বাবাসহ একাধিক অভিভাবক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সন্তানদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য মাদ্রাসায় পাঠিয়ে তারা যদি নির্যাতনের শিকার হয়, তাহলে বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে এ বিষয়ে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চান।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা হাবিবুল্লাহ নীরব বলেন, ‘একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছে। আমরা তাকে বহিষ্কার করেছি।’ তবে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

মাদ্রাসাটি ২০২৫ সালে রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনা করছে বলে জানা গেছে। মাওলানা হাবিবুল্লাহ নীরব ইসলামি আন্দোলন রামগতি পৌরসভা শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক পলাতক আছেন। তাকে আগে ধরা দিতে হবে, পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিভাবকেরা আমার কাছে এসেছিলেন, তবে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।’