আজ বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
বজ্রসহ বৃষ্টি
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬৫%

রায়গঞ্জে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার মর্মান্তিক মৃত্যু

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:32:37 am, Wednesday, 7 October 2026
  • 16
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখার ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম (৫০) অডিট চলাকালে গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে মারা গেছেন। সহকর্মীদের দাবি, অডিট চলার সময় তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।

এ ঘটনায় অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে অডিটের চাপের সঙ্গে তার মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত আব্দুস সালাম নিমগাছী গ্রামীণ ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায়। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি নিমগাছী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ব্যাংক কর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে নিমগাছী শাখায় অডিট কার্যক্রম চলছিল।

এর মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আব্দুস সালাম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেছেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিমগাছী গ্রামীণ ব্যাংক শাখার কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, অডিট চলাকালে আব্দুস সালামকে কিছুটা হতাশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল।

তাকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে বাঁচতে দেওয়া হলো না। আমি মারা যাব। পরে তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের কথা জানান। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ঘটনার পর অডিট কমিটির সদস্যদের নিয়ে ব্যাংকের কর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও ব্যাংকের কর্মীরা অডিট কমিটির সদস্যদের আটকে রাখেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এদিকে আব্দুস সালামের মৃত্যুর পর অডিট কার্যক্রমের বিষয়টি সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে অডিটের কোনো সিদ্ধান্ত, চাপ কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষেরও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

পাঁচবিবিতে যৌথ অভিযানে সিরাপসহ আটক ২

রায়গঞ্জে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে ব্যাংক কর্মকর্তার মর্মান্তিক মৃত্যু

Update Time : 11:32:37 am, Wednesday, 7 October 2026

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে গ্রামীণ ব্যাংকের নিমগাছী শাখার ব্যবস্থাপক মো. আব্দুস সালাম (৫০) অডিট চলাকালে গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে মারা গেছেন। সহকর্মীদের দাবি, অডিট চলার সময় তিনি মানসিক চাপে ছিলেন।

এ ঘটনায় অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে অডিটের চাপের সঙ্গে তার মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। নিহত আব্দুস সালাম নিমগাছী গ্রামীণ ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায়। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি নিমগাছী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। ব্যাংক কর্মী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে নিমগাছী শাখায় অডিট কার্যক্রম চলছিল।

এর মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আব্দুস সালাম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেছেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিমগাছী গ্রামীণ ব্যাংক শাখার কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, অডিট চলাকালে আব্দুস সালামকে কিছুটা হতাশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল।

তাকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে বাঁচতে দেওয়া হলো না। আমি মারা যাব। পরে তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবনের কথা জানান। এরপর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ঘটনার পর অডিট কমিটির সদস্যদের নিয়ে ব্যাংকের কর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও ব্যাংকের কর্মীরা অডিট কমিটির সদস্যদের আটকে রাখেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এদিকে আব্দুস সালামের মৃত্যুর পর অডিট কার্যক্রমের বিষয়টি সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে অডিটের কোনো সিদ্ধান্ত, চাপ কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষেরও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রায়গঞ্জ থানার ওসি মো. আহসানুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে অডিট কমিটির তিন সদস্যকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।