আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের সম্মান জানাতে ১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দেশের শিক্ষা খাতেও এসেছে নানামুখী পরিবর্তন।
তবে সময়ের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটলেও শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত। নানা প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা ও স্বল্প প্রাপ্তির মধ্যেও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। নেত্রকোনার পঞ্চাননপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নায়লা সারাফ তেমনই একজন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানই তার ধ্যান-জ্ঞান।
শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের কাছেও তিনি অত্যন্ত প্রিয় একজন শিক্ষক। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ভিকারুননিসা নূন কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী নায়লা সারাফ পড়াশোনা শেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু একসময় প্রকৌশল পেশাসহ অন্যান্য কর্মজীবন ছেড়ে তিনি বেছে নেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মতো মহান দায়িত্ব।
বর্তমানে শিশুদের পাঠদান ও তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন জীবনের গভীর তৃপ্তি ও প্রশান্তি। অবশ্য সব শিক্ষকের জীবনকাহিনি নায়লা সারাফের মতো নয়। তবু পেশাগত অবস্থান কিংবা কর্মপরিবেশ যেমনই হোক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যেই অধিকাংশ শিক্ষকের প্রকৃত আনন্দ। শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের সীমা ছাড়িয়ে অনেক শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন।
সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও অনুপ্রেরণা মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। তবে সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই পেশার অনেক মানুষের জীবনই কাটে আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বেতনবৈষম্য, সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও আর্থিক নিরাপত্তার অভাব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দায়িত্বের তুলনায় প্রাপ্তি কম হওয়ায় অনেক শিক্ষককে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। একটি শিক্ষিত, দক্ষ ও উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাই শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক, সামাজিক মর্যাদা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। শিক্ষকরা যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন পেলেই আগামী প্রজন্মকে আরও দক্ষ, মানবিক ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পথ সুগম হবে।






















