রাজধানীর ইসিবি চত্তর এলাকায় নিউ গিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৬৬ বছর বয়সী গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল। তার বাবার নাম মো. আবুল ফয়েজ চৌধুরী এবং মায়ের নাম হাসমত আরা বেগম। তার স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার খিলগাঁওয়ের মালিবাগ বাজার রোড এলাকায়। বর্তমানে তিনি মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসায় বসবাস করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০২১ সালে অবসরে যান।
সামরিক জীবনে তিনি সিএমএইচ, আর্মি মেডিকেল কলেজ ও সশস্ত্র বাহিনী চিকিৎসা পরিদপ্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। একই নামে অধ্যাপক মেজর জেনারেল ডা. গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী-র একটি জীবনী পাওয়া যায়, যিনি আর্মি ডেন্টাল কোরের কর্মকর্তা এবং ২০২১ সালে অবসর নেয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। এদিকে, ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় ২৭ সেপ্টেম্বর একটি মামলা করা হয়।
পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই মামলায় মহিউদ্দিন চৌধুরী এজাহারভুক্ত চার নম্বর আসামি। মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ধারার মধ্যে রয়েছে বেআইনি সমাবেশ, দাঙ্গা, অস্ত্রসহ দাঙ্গা, অনধিকার প্রবেশ, বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, মারধর, গুরুতর জখম, ভাঙচুর, চুরি এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগ। মামলায় কয়েকজনের সহায়তায় এসব অপরাধ সংঘটনের অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউগিনি প্রপার্টিজ এলাকায় হামলার সময় সেখানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। একই ঘটনায় কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিস স্টুডিওতে হামলার অভিযোগ রয়েছে। বুধবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ডিবির গুলশান বিভাগের একটি দল রমনা থানাধীন সেগুনবাগিচার ২০ নম্বর এলাকার ২/এ নম্বর বাসা থেকে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে একই ঘটনায় মিজানুর রহমান নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পুলিশ জানিয়েছে, মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় নেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে মামলায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে মানেই তা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমনটি নয়।
তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে।






















