আজ বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৬%

ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন শিশুসহ ১৮ বাংলাদেশি

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:37:49 pm, Wednesday, 16 September 2026
  • 12

ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন শিশুসহ ১৮ বাংলাদেশি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভারতে বিভিন্ন সময় পাচারের শিকার ১৮ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। এদের মধ্যে এর মধ্যে নিখোঁজের ১৫ বছর পর ৩৫ বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী আনজুকে ও দেশে ফেরত আনা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে এসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে হস্তান্তর করেন। এরা খুলনা, সাতক্ষীরা, গাইবান্ধা, নরসিংদী, বরিশাল, যশোর, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা।

ফেরত আসারা হলেন, সিয়াম হাওলাদার (১৪), নিউটন কুমার (১৮), জয় কুমার (১৭), আনজু বেগম (৩৫), শাপলা খাতুন (২২), সাকিবুল সরদার (৬), আব্দুর রহমান (১৫), স্বপন জোহা (৬), শাহীন মোল্লা (৮), লিমা বালাভ (১৬), সুমি খাতুন (১২), পপি রায় (১৫), সনি আক্তার (১৪), সালমান (১), জান্নাতি খাতুন (১২), ইশারত জাহান শ্রাবণী (১৪), বাসন্তী রায় (১৬) ও মেহেদী হাসান (১৫)।

এর মধ্যে নিখোঁজের ১৫ বছর পর ৩৫ বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী আনজুকে ও দেশে ফেরত আনা হয়েছে। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের জোসনা বেগমের মেয়ে। আনজু মানসিক অসুস্থতার কারণে প্রায় ১৫ বছর আগে নিখোঁজ হন এবং সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যান। ২০১৭ সালে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার খোঁজ মেলে এবং পরবর্তীতে তাকে কলকাতার মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘ঈশ্বর সংকল্প’-এর আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

সেখান থেকে অ্যামেচার রেডিও সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকার বনানী রোটারি ক্লাবের সদস্য মো. শামসুল হুদার প্রচেষ্টায় আনজুকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশের উপহাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচার রোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ফেরত আসারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। এরা পশ্চিমবঙ্গের ধ্রুবআশ্রম, চিনি, সংকল্প, কিশলয়া, রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রম, এস এম এম হোম, সুকন্যা হোম, শহীদ বন্দনা বালিকা স্মৃতি আবাস, সুবায়ন হোমের হেফাজতে ছিল। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব যাচাইপূর্বক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে ফিরিয়ে আনা হলো। কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্থানীয় ইউএনও, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের নিকট উদ্ধারকৃত এসব নারী-পুরুষ ও শিশুদের হস্তান্তর করেন।

এ ছাড়াও এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় এনজিও কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি সাইফুর রহমান জানান, ট্রাভেল পারমিটে ফেরত আসা বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুদের কার্যক্রম শেষে পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবেন বলে জানা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন উত্তোলনে জরুরি নির্দেশনা জারি

ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন শিশুসহ ১৮ বাংলাদেশি

Update Time : 06:37:49 pm, Wednesday, 16 September 2026

ভারতে বিভিন্ন সময় পাচারের শিকার ১৮ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। এদের মধ্যে এর মধ্যে নিখোঁজের ১৫ বছর পর ৩৫ বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী আনজুকে ও দেশে ফেরত আনা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে এসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে হস্তান্তর করেন। এরা খুলনা, সাতক্ষীরা, গাইবান্ধা, নরসিংদী, বরিশাল, যশোর, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার বাসিন্দা।

ফেরত আসারা হলেন, সিয়াম হাওলাদার (১৪), নিউটন কুমার (১৮), জয় কুমার (১৭), আনজু বেগম (৩৫), শাপলা খাতুন (২২), সাকিবুল সরদার (৬), আব্দুর রহমান (১৫), স্বপন জোহা (৬), শাহীন মোল্লা (৮), লিমা বালাভ (১৬), সুমি খাতুন (১২), পপি রায় (১৫), সনি আক্তার (১৪), সালমান (১), জান্নাতি খাতুন (১২), ইশারত জাহান শ্রাবণী (১৪), বাসন্তী রায় (১৬) ও মেহেদী হাসান (১৫)।

এর মধ্যে নিখোঁজের ১৫ বছর পর ৩৫ বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী আনজুকে ও দেশে ফেরত আনা হয়েছে। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের জোসনা বেগমের মেয়ে। আনজু মানসিক অসুস্থতার কারণে প্রায় ১৫ বছর আগে নিখোঁজ হন এবং সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যান। ২০১৭ সালে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার খোঁজ মেলে এবং পরবর্তীতে তাকে কলকাতার মানবিক সহায়তা সংস্থা ‘ঈশ্বর সংকল্প’-এর আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

সেখান থেকে অ্যামেচার রেডিও সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকার বনানী রোটারি ক্লাবের সদস্য মো. শামসুল হুদার প্রচেষ্টায় আনজুকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কলকাতার বাংলাদেশের উপহাইকমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের নারী-শিশু পাচার রোধ বিষয়ক টাস্কফোর্সের সমন্বিত প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ফেরত আসারা বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। এরা পশ্চিমবঙ্গের ধ্রুবআশ্রম, চিনি, সংকল্প, কিশলয়া, রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রম, এস এম এম হোম, সুকন্যা হোম, শহীদ বন্দনা বালিকা স্মৃতি আবাস, সুবায়ন হোমের হেফাজতে ছিল। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব যাচাইপূর্বক ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে ফিরিয়ে আনা হলো। কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে স্থানীয় ইউএনও, উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসনের নিকট উদ্ধারকৃত এসব নারী-পুরুষ ও শিশুদের হস্তান্তর করেন।

এ ছাড়াও এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সময় বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় এনজিও কর্তৃপক্ষ এবং ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বিএসএফ কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি সাইফুর রহমান জানান, ট্রাভেল পারমিটে ফেরত আসা বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুদের কার্যক্রম শেষে পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবেন বলে জানা গেছে।