বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই প্রকাশ হতে পারে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে চলতি মাসেই বদলির ফল প্রকাশের চেষ্টা করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাউশির এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এখন পরবর্তী প্রক্রিয়া চলছে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে মাউশি অধিদপ্তরে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি বৈঠক হতে পারে। সেখানে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বদলি কার্যক্রমের বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি চলতি মাসেই বদলির ফল প্রকাশ করতে। মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বদলির আবেদনগুলোতে বিভিন্ন তথ্যের ভুলসহ বেশ কিছু জটিলতা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভুল চাহিদা দিয়েছে। বদলিতে নির্বাচিত কোনো শিক্ষক নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে না চাইলে তার ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেটিও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।
সব জটিলতা নিরসন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করার পর চলতি মাসেই বদলির ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে মাউশির। এর আগে গত ১৮ আগস্ট বেসরকারি স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক—প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রতিষ্ঠান প্রধান, প্রদর্শক ও ট্রেড ইনস্ট্রাক্টরসহ সব শিক্ষককে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা ২০২৬ (সংশোধিত)’ অনুযায়ী বদলি করা হবে।
টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের কারিগরি সহায়তায় প্রস্তুত করা সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী, বদলিতে আগ্রহী শিক্ষকরা মোবাইলে পাঠানো ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রথমে ২১ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পেয়েছিলেন। পরে আবেদনের সময় বাড়িয়ে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়।
একজন শিক্ষক পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদনগুলো বদলি নীতিমালা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। যাচাই শেষে কর্তৃপক্ষ বদলিভিত্তিক পদায়নের আদেশ জারি করবেন। বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষকরা চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলায় আবেদন করতে পারবেন। নিজ জেলায় শূন্য পদ না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করা যাবে।
এ ছাড়া স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলাতেও বদলির আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীকে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান অথবা এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত হতে হবে। বদলি সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া এ-সংক্রান্ত তথ্য ভুল হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ও আবেদনকারী শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরিতে প্রথম যোগদানের পর দুই বছর পূর্ণ হলে একজন শিক্ষক বদলির আবেদনের জন্য যোগ্য হবেন। একইভাবে বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর সেখানে কর্মরত থাকলে পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করা যাবে। এদিকে বদলির আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় অনেক শিক্ষক আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য পুনরায় যাচাই করছেন। কেউ কেউ আবেদন সাবমিট করার পর ভুল তথ্য দেখতে পাচ্ছেন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশোধনের সুযোগ না থাকায় প্রতিটি তথ্য সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে আবেদন চূড়ান্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



















