যশোরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ৪৩টি বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। একদিনে ১ হাজার ৭০০-র বেশি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার তল্লাশি করে ৩৪টি মোটরসাইকেল আটক এবং ১২টির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকেও আটক করে পুলিশ।
এর আগে বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫৫ জনকে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলার নয়টি থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) একযোগে ৪৩টি স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট বসায়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে সন্দেহজনক মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি ও যাচাই করা হয়। দিনভর অভিযানে ১ হাজার সাত শতাধিক যানবাহন তল্লাশি করে ৩৪টি মোটরসাইকেল আটক ও ১২টির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
একই অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে আটক করা হয়। পুলিশের এই তৎপরতার পেছনে রয়েছে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সংঘবদ্ধ তৎপরতা নিয়ে অভিযোগ। এসব গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে খুন, জখম, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও স্বর্ণ পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। দলবদ্ধভাবে চলাফেরা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় কিশোর গ্যাংকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা শুধু দলবদ্ধ আড্ডা বা বেপরোয়া চলাফেরায় সীমাবদ্ধ নয়। ভয়ভীতি দেখানো, মারামারি, জখম, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে কেউ কেউ। এসব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কিশোরদের একটি অংশ আরও বড় অপরাধচক্রের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকিতে পড়ছে। এ কারণে কিশোর গ্যাংয়ের গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।
যশোর শহরের পালবাড়ি, পুরাতন কসবা, ঢাকা রোড, ঘোষপাড়া, বারান্দীপাড়া, মোল্লাপাড়া, নীলগঞ্জ, মণিহার, শংকরপুর, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, ষষ্টিতলা ও বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ রয়েছে। এসব এলাকায় কিশোরদের দলবদ্ধ চলাফেরা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চেকপোস্টের পাশাপাশি বিশেষ অভিযানও চলছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ সেপ্টেম্বর জেলার নয়টি থানা ও ডিবি পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। মাদক, চুরি, বিস্ফোরক, আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ড ও ওয়ারেন্টসহ বিভিন্ন মামলায় মোট ১৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ২৭ জন রয়েছেন। অভিযানে মাদকদ্রব্য ও ককটেল সদৃশ বস্তুসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।
পরপর দুই দিনের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আটক, বিভিন্ন মামলার আসামি গ্রেপ্তার এবং যানবাহনে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহজনক যানবাহন যাচাইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাং, মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।




















