আজ বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৫%

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় শিক্ষক লাঞ্ছিত, আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:57:47 pm, Wednesday, 16 September 2026
  • 8

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় শিক্ষক লাঞ্ছিত, আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে হল প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে একদল শিক্ষার্থী ও হল সংসদের নেতারা অবস্থান নিলে সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ সময় কর্মরত অবস্থায় প্রভোস্টকে তার কার্যালয়ের ভেতরে রেখেই বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলে অবস্থানরত একদল উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে হলটির প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জমালুল আকবর চৌধুরীকে নিজ কার্যালয়ে রেখে বাইরে থেকে তালা দেওয়া হয়।

একই সময়ে হলের অফিস কক্ষেও তালা দেওয়া হলেও কিছুক্ষণের মধ্যে আন্দোলনকারীরা তা খুলে দেন। তবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতায় আতঙ্কগ্রস্ত ওই শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময়ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে লাঞ্ছিত হন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক।

হল সংসদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, হল সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, উন্নয়নমূলক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা এবং দীর্ঘদিন ধরে আসন বণ্টনে অব্যবস্থাপনা ও অস্বচ্ছতাসহ একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জমালুল আকবর চৌধুরীর পদত্যাগ।

তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা অধ্যাপক জমালুল আকবর চৌধুরী ‘মব কালচারের’ মাধ্যমে হেয়প্রতিপন্ন ও সম্মানহানি করার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র যাচাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৬ দিনের মাথায় এর আগেও হল সংসদের নামে তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যে ছাত্র সংসদের শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণের প্রতিনিধিত্ব করার কথা, তাদের এমন আচরণ কতটা ছাত্রবান্ধব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হলের সিসিটিভি চালু না করা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটি বর্তমানে তদন্তাধীন। এ ছাড়া হলের প্রবেশমুখে প্রক্টর অফিস থেকে দেওয়া তিনটি ক্যামেরা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান। পানির বিল ও পানির মান পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, হল সংসদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরবরাহ করা পানি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পাঠানো হয়েছে।

হলের সিট বরাদ্দের বিষয়ে প্রভোস্ট জানান, আইসিটি সেল থেকে বরাদ্দ দেওয়া ১৪টি সিটের প্রক্রিয়ায় তার কোনো ভূমিকা বা ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ছিল না। প্রভোস্ট কোটায় তিনি মাত্র একটি সিট বরাদ্দ দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, হলটিতে অনিয়মতান্ত্রিক সিট বণ্টন ও সিট দখলের সমস্যা তার প্রভোস্টের দায়িত্ব পাওয়ার আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল।

হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রভোস্ট বলেন, কর্মকর্তা সৈয়দ হোসেনের দায়িত্ব পালনে অনিয়ম এবং হল অফিসকে অবহিত না করে ছুটি নেওয়ার বিষয়ে তিনি রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এ ছাড়া হলের বিভিন্ন স্থাপনা ও সংস্কারকাজের একজন ঠিকাদারকে যাচাই-বাছাই ছাড়া অতিরিক্ত বিল দেওয়ার জন্য কর্মকর্তা সৈয়দ হোসেন ও কেয়ারটেকার সালাউদ্দিন লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ কারণে অতিরিক্ত বিল দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও তার কাছে রয়েছে বলে জানান। রাতে হলে অবস্থান ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, উপাচার্যের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকদের সন্ধ্যাকালীন দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি সোম ও মঙ্গলবার হলে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক কাজে দায়িত্ব পালনরত একজন শিক্ষককে মব কালচারের মাধ্যমে অযথা সম্মানহানি বা হেয়প্রতিপন্ন করার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত।

এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে প্রশাসনের যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সবার সামনে স্পষ্ট হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে আলাওল হল সংসদের জিএস নূরনবী গণমাধ্যমকে জানান, হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগ চান।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন দেড় শতাধিক বসতবাড়ি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় শিক্ষক লাঞ্ছিত, আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ

Update Time : 02:57:47 pm, Wednesday, 16 September 2026

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল হলে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে হল প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে একদল শিক্ষার্থী ও হল সংসদের নেতারা অবস্থান নিলে সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ সময় কর্মরত অবস্থায় প্রভোস্টকে তার কার্যালয়ের ভেতরে রেখেই বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর ১টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলে অবস্থানরত একদল উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে হলটির প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জমালুল আকবর চৌধুরীকে নিজ কার্যালয়ে রেখে বাইরে থেকে তালা দেওয়া হয়।

একই সময়ে হলের অফিস কক্ষেও তালা দেওয়া হলেও কিছুক্ষণের মধ্যে আন্দোলনকারীরা তা খুলে দেন। তবে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতায় আতঙ্কগ্রস্ত ওই শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময়ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে লাঞ্ছিত হন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক।

হল সংসদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, হল সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, উন্নয়নমূলক কাজে দীর্ঘসূত্রিতা এবং দীর্ঘদিন ধরে আসন বণ্টনে অব্যবস্থাপনা ও অস্বচ্ছতাসহ একাধিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল আলাওল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জমালুল আকবর চৌধুরীর পদত্যাগ।

তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা অধ্যাপক জমালুল আকবর চৌধুরী ‘মব কালচারের’ মাধ্যমে হেয়প্রতিপন্ন ও সম্মানহানি করার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র যাচাই করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৬ দিনের মাথায় এর আগেও হল সংসদের নামে তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যে ছাত্র সংসদের শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণের প্রতিনিধিত্ব করার কথা, তাদের এমন আচরণ কতটা ছাত্রবান্ধব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হলের সিসিটিভি চালু না করা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটি বর্তমানে তদন্তাধীন। এ ছাড়া হলের প্রবেশমুখে প্রক্টর অফিস থেকে দেওয়া তিনটি ক্যামেরা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান। পানির বিল ও পানির মান পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, হল সংসদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরবরাহ করা পানি পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পাঠানো হয়েছে।

হলের সিট বরাদ্দের বিষয়ে প্রভোস্ট জানান, আইসিটি সেল থেকে বরাদ্দ দেওয়া ১৪টি সিটের প্রক্রিয়ায় তার কোনো ভূমিকা বা ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ছিল না। প্রভোস্ট কোটায় তিনি মাত্র একটি সিট বরাদ্দ দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, হলটিতে অনিয়মতান্ত্রিক সিট বণ্টন ও সিট দখলের সমস্যা তার প্রভোস্টের দায়িত্ব পাওয়ার আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল।

হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রভোস্ট বলেন, কর্মকর্তা সৈয়দ হোসেনের দায়িত্ব পালনে অনিয়ম এবং হল অফিসকে অবহিত না করে ছুটি নেওয়ার বিষয়ে তিনি রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। এ ছাড়া হলের বিভিন্ন স্থাপনা ও সংস্কারকাজের একজন ঠিকাদারকে যাচাই-বাছাই ছাড়া অতিরিক্ত বিল দেওয়ার জন্য কর্মকর্তা সৈয়দ হোসেন ও কেয়ারটেকার সালাউদ্দিন লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ কারণে অতিরিক্ত বিল দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও তার কাছে রয়েছে বলে জানান। রাতে হলে অবস্থান ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, উপাচার্যের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রভোস্ট ও আবাসিক শিক্ষকদের সন্ধ্যাকালীন দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি সোম ও মঙ্গলবার হলে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক কাজে দায়িত্ব পালনরত একজন শিক্ষককে মব কালচারের মাধ্যমে অযথা সম্মানহানি বা হেয়প্রতিপন্ন করার ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত।

এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে প্রশাসনের যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সবার সামনে স্পষ্ট হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে আলাওল হল সংসদের জিএস নূরনবী গণমাধ্যমকে জানান, হল প্রভোস্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগ চান।