কম্পিউটারের ভেতরে থাকা হার্ডড্রাইভই মূলত আমাদের ডিজিটাল জীবনের ভান্ডার। প্রিয় ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি, ভিডিও কিংবা স্মৃতির অমূল্য সংগ্রহ সব কিছুই এর ভেতরে নিরাপদে থাকে। কিন্তু অনেকেই না জেনেই প্রতিদিন এমন কিছু ভুল অভ্যাস করছেন, যা আস্তে আস্তে এই হার্ডড্রাইভকে নষ্ট করে দিচ্ছে।
কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ নষ্ট হওয়ার আগে কিছু পরিষ্কার লক্ষণ দেখা দেয়, যা খেয়াল করলে ডেটা হারানোর বড় বিপদ থেকে বাঁচা সম্ভব। হুট করে সব ফাইল গায়েব হওয়ার আগেই ড্রাইভটি সংকেত পাঠাতে শুরু করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন পাঁচটি সংকেত- যেগুলো সময় থাকতে না বুঝলে একদিন হয়তো পুরো ডেটাই হারিয়ে ফেলবেনÑ ১. ধীরগতি ও স্ক্রিন ফ্রিজ হওয়া কম্পিউটার চালু হতে বা যেকোনো ফাইল খুলতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে।
কাজ করার সময় হঠাৎ পুরো স্ক্রিন আটকে বা হ্যাং হয়ে যায়। এ ছাড়া ঘনঘন উইন্ডোজের নীল স্ক্রিন বা ব্লু স্ক্রিন অব ডেথ দেখা দেয়। ২. ফাইল করাপ্ট হওয়া ও হারিয়ে যাওয়া কোনো ফাইল বা ফোল্ডার খুলতে গেলে ফাইল করাপটেড ইরোর দেখায়। অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই আগে থেকে সেভ করা ফাইল হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়। নতুন কোনো ফাইল সেভ করতে গেলেও ড্রাইভটি বাধা দেয়।
৩. অদ্ভুত ও অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া হার্ডড্রাইভের ভেতর থেকে বারবার ক্লিক ক্লিক বা মেটালিক কোনো ঘর্ষণের আওয়াজ আসে। একে প্রযুক্তির ভাষায় ক্লিক অব ডেথ বলা হয়। ৪. ব্যাড সেক্টর তৈরি হওয়া কম্পিউটার চালু করার সময় বারবার উইন্ডোজ নিজে থেকেই ড্রাইভ স্ক্যান করে। হার্ডড্রাইভের নির্দিষ্ট কিছু অংশ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে আর নতুন কোনো ডেটা রাইট বা রিড করা যায় না।
৫. অপারেটিং সিস্টেম বুট না হওয়া কম্পিউটার চালু করার সময় হঠাৎ অপারেটিং সিস্টে নট ফাউন্ড বা বুট ডিভাইস নট ফাউন্ড মেসেজ দেখায়। মাদারবোর্ড তখন হার্ডড্রাইভটিকে আর শনাক্ত করতে পারে না। হার্ড ডিস্ক নষ্ট হওয়ার মতো ঘটনায় আমরা সাধারণত আগে থেকে প্রস্তুত থাকি না। তাই গুরুত্বপূর্ণ ডেটা হারানো এড়াতে আগেভাগেই অন্য একটি হার্ড ডিস্কে ডেটা ব্যাকআপ রাখা উচিত।
কারণ, একসঙ্গে একাধিক হার্ড ডিস্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ ছাড়া গুগল ড্রাইভ, ওয়ান ড্রাইভের মতো ক্লাউড স্টোরেজেও ডেটা ব্যাকআপ রাখতে পারেন।


















