আজ শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

শতাধিক রুটে রাজধানীতে ঢুকছে মাদক, সক্রিয় হাজারো ব্যবসায়ী

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:29:37 pm, Friday, 4 September 2026
  • 12

শতাধিক রুটে রাজধানীতে ঢুকছে মাদক, সক্রিয় হাজারো ব্যবসায়ী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর যেকোনো স্থানে এখন সহজেই মিলছে মাদকদ্রব্য। অলিগলি থেকে শুরু করে রাস্তা ও মহাসড়কে প্রকাশ্যে চলছে এর বেচাকেনা। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মধ্যেই দেদারসে চলছে মাদক সেবন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১০০টির বেশি রুট দিয়ে রাজধানীতে ঢুকছে ইয়াবা, আইস, এলএসডি, হেরোইন ও ফেনসিডিল। ঢাকায় মাদক বিক্রির অন্তত আড়াই শ স্পট চিহ্নিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চললেও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না কারবার।

রাজধানীতে মাদকের সবচেয়ে বড় হটস্পট মোহাম্মদপুরে। পরিচয় গোপন করে সড়কে নামতেই হাঁকডাক শুরু, ক্রেতা সেজে কথা হয় মাদক কারবারীর সঙ্গে। এখানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাদক।

পাশেই ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ। এর চারপাশে অবাধে চলে মাদক বিক্রি ও সেবন। যা নিয়ে আতংকিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

আরও স্পট রাজধানীর বিভিন্ন রেললাইন ও বস্তি এলাকা। কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মগবাজার, মালিবাগ, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, মহাখালীসহ আশপাশের রেললাইনের চিত্র একইরকম।

তেজগাঁওয়ে কেউ সবজির আড়ালে বিক্রি করছে মাদক, কেউ প্রকাশ্যেই। রেলগেটে মাদক সিন্ডিকেটে রয়েছে শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী ও পুরুষ। ফার্মগেটে ছবি নিতে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয় কারবারীরা। পরিস্থিতি বুঝে সরে যেতে হয়।

সরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে অন্তত ২৫০টি মাদক স্পটে হাজারের বেশি মাদক কারবারী সক্রিয়। এক সময় নির্দিষ্ট কয়েকটি স্পটে মাদক বিক্রি হলেও এখন ছড়িয়ে পড়েছে অলিগলি, মহল্লা, বস্তি, আবাসিক এলাকা, রেললাইন, বাজার, গ্যারেজ এমনকি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, আমাদের সক্ষমতা হলো মাত্র ৩ হাজার জন। বাংলাদেশে অনেক মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী, কারবারি আছে, বহনকারী আছে লাখ লাখ। এই ৩ হাজার জনকে দিয়ে সবাইকে নজরদারিতে আনা সম্ভব না। একটা সমন্বিত উদ্যোগ হতে হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন) মহিদুল ইসলাম বলেন, মাদকের যাতে ব্যপ্তি বা এটা বাড়তে না পারে; সেজন্য আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। ডিবি, সিটটিসি; সবাই কাজ করছে।

বিভিন্ন পার্ক ও ফ্লাইওভারের নিচেও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মাদক। পুলিশ বলছে, মাদকসেবীদের একটি বড় অংশ জড়াচ্ছে চুরি, ছিনতাই, হত্যাসহ সংঘবদ্ধ নানা অপরাধে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ধর্ম পালনে বা আচার-অনুষ্ঠানে কোনো মাস্তানির সুযোগ দেওয়া হবে না: আইনমন্ত্রী

শতাধিক রুটে রাজধানীতে ঢুকছে মাদক, সক্রিয় হাজারো ব্যবসায়ী

Update Time : 04:29:37 pm, Friday, 4 September 2026

রাজধানীর যেকোনো স্থানে এখন সহজেই মিলছে মাদকদ্রব্য। অলিগলি থেকে শুরু করে রাস্তা ও মহাসড়কে প্রকাশ্যে চলছে এর বেচাকেনা। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মধ্যেই দেদারসে চলছে মাদক সেবন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১০০টির বেশি রুট দিয়ে রাজধানীতে ঢুকছে ইয়াবা, আইস, এলএসডি, হেরোইন ও ফেনসিডিল। ঢাকায় মাদক বিক্রির অন্তত আড়াই শ স্পট চিহ্নিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চললেও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না কারবার।

রাজধানীতে মাদকের সবচেয়ে বড় হটস্পট মোহাম্মদপুরে। পরিচয় গোপন করে সড়কে নামতেই হাঁকডাক শুরু, ক্রেতা সেজে কথা হয় মাদক কারবারীর সঙ্গে। এখানে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মাদক।

পাশেই ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ। এর চারপাশে অবাধে চলে মাদক বিক্রি ও সেবন। যা নিয়ে আতংকিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

আরও স্পট রাজধানীর বিভিন্ন রেললাইন ও বস্তি এলাকা। কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মগবাজার, মালিবাগ, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, মহাখালীসহ আশপাশের রেললাইনের চিত্র একইরকম।

তেজগাঁওয়ে কেউ সবজির আড়ালে বিক্রি করছে মাদক, কেউ প্রকাশ্যেই। রেলগেটে মাদক সিন্ডিকেটে রয়েছে শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী ও পুরুষ। ফার্মগেটে ছবি নিতে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সাংবাদিকের ওপর চড়াও হয় কারবারীরা। পরিস্থিতি বুঝে সরে যেতে হয়।

সরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে অন্তত ২৫০টি মাদক স্পটে হাজারের বেশি মাদক কারবারী সক্রিয়। এক সময় নির্দিষ্ট কয়েকটি স্পটে মাদক বিক্রি হলেও এখন ছড়িয়ে পড়েছে অলিগলি, মহল্লা, বস্তি, আবাসিক এলাকা, রেললাইন, বাজার, গ্যারেজ এমনকি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, আমাদের সক্ষমতা হলো মাত্র ৩ হাজার জন। বাংলাদেশে অনেক মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী, কারবারি আছে, বহনকারী আছে লাখ লাখ। এই ৩ হাজার জনকে দিয়ে সবাইকে নজরদারিতে আনা সম্ভব না। একটা সমন্বিত উদ্যোগ হতে হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন) মহিদুল ইসলাম বলেন, মাদকের যাতে ব্যপ্তি বা এটা বাড়তে না পারে; সেজন্য আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। ডিবি, সিটটিসি; সবাই কাজ করছে।

বিভিন্ন পার্ক ও ফ্লাইওভারের নিচেও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মাদক। পুলিশ বলছে, মাদকসেবীদের একটি বড় অংশ জড়াচ্ছে চুরি, ছিনতাই, হত্যাসহ সংঘবদ্ধ নানা অপরাধে।