কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলায় রাতের আঁধারে বসতবাড়িতে জোরপূর্বক বাঁশের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির মাঝখানে বেড়া দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় গত ৯ দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন দুটি পরিবারের নারী ও শিশুসহ সদস্যরা।
গত ২৫ আগস্ট মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামের বড়বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। রাতের আঁধারে নিরিহ কয়েকটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় এলাকায় নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। জানা যায়, উপজেলার ঘোড়াশাল গ্রামের আবদুর রশিদ মোল্লার ছেলে এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানী লিমিটেড শ্রমিকদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল ইসলাম, মহসিন মিয়াদের সঙ্গে তাদের প্রতিবেশী জিয়া উদ্দিন ও দেলোয়ার মাষ্টার গংদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
সেই বিরোধের জের ধরে ২৫শে আগস্ট রাতে জিয়া উদ্দিন গংদের অনুসারীরা রাতের আঁধারে বাড়ির মাঝে বেড়া দিয়ে দুই পরিবারের নারী ও শিশুসহ সকলকে ৯দিন ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী মহসিন মিয়া বলেন, আমার পূর্ব পুরুষ থেকে পরিবার প্রায় ১০০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি কিন্তু আমার প্রতিবেশী জিয়া উদ্দিন মাঝে মধ্যে আমাদের হুমকি দিচ্ছে এবং আমার বাড়ি দখল করতে চায়, আমার ঘর বাড়ি ভেঙে নিয়ে যাবে।
এখন সে আমার চারদিকে বেড়া দিয়ে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখছে। আমি কোন ভাবেই ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আমি অসহায় হওয়ায় কোন কিছু করতে পারতেছি না। তারা জোরপূর্বক আমাদের বাড়ি দখল করতে রাতের আঁধারে এই কাজ করেছে। মহসিন মিয়ার স্ত্রী বলেন, এই সন্ত্রাস বাহিনী রাতের আধারে আমাদের ঘরের চারপাশে বেড়া দিয়ে আমাদের বন্দি করে রেখেছে। আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখে তারা গাছ কেটে নিয়েছে, ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়েছে, বাথরুম ভেঙে দিয়েছে।
আমরা খুব কষ্টে জীবন যাপন করছি। আরেক ভুক্তভোগী সুলতানা বলেন, জিয়া উদ্দিন রাস্তার নাম করে আমার সব গাছ পালা কেটে নিয়ে যায়, আমি জানতে পেরে স্থানীয় মনির মিয়ার মাধ্যমে বাঁধা দিলেও তাতে কর্ণপাত না করে জিয়া উদ্দিন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার সব গাছ পালা কেটে নিয়ে যায়। সে অনেক দিন যাবত আমাদের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। তাকে বাধা দিলে সে বলে এই সব আমার জায়গা গ্রামের তুদের এইখানে কোন জায়গা নাই তদের বাড়ি এইখানে না।
সে বলে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে এই জায়গা দিয়ে দিছে তার জন্য সে আমার ঘরের সামনে বাশ দিয়ে বেড়া দেয়। সে এমন ভাবে বেড়া দেয় আমরা আমাদের ঘরে পর্যন্ত ঢুকতে পারি নাই। শ্রমিকদল নেতা আমানুল ইসলাম বলেন, আমাদের সম্পত্তি রক্ষা করতে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত ১৩ আগস্ট উক্ত ভূমিতে ১৪৫ ধারা জারি করলেও ২৫ আগস্ট রাতের আঁধারে আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউদ্দিন এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের পুরো বাড়ি বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে দখল করে ফেলে।
আদালতের আদেশকে কোন তোয়াক্কাই করেনি তারা। অতীতে অনেকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে কিন্তু এটার কোন সমাধান করতে পারে নাই। আমাদের দলিল থাকা সত্ত্বেও তারা জোরপূর্বক এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা এই সন্ত্রাসী জিয়া উদ্দিনের শাস্তি চাই। এব্যাপারে জানতে জিয়া উদ্দিন ও তার ভাই দেলোয়ার হোসেন মাষ্টারের মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
মুরাদনগর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান বলেন, এই বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















