আজ মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
২ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
বৃষ্টি
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৯%

আধুনিক প্রতিরক্ষার পথে বাংলাদেশ, চতুর্মাত্রিক সশস্ত্র বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:36:02 pm, Sunday, 16 August 2026
  • 18

আধুনিক প্রতিরক্ষার পথে বাংলাদেশ, চতুর্মাত্রিক সশস্ত্র বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে সময় তিনি দলমতের ঊর্ধ্বে একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠনের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছিলেন।

আধুনিক, সুদৃঢ় ও যুগোপযোগী এক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে সরকারের সার্বিক সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন। ঢাকা সেনানিবাসে বিশেষ দরবারে তার এই বক্তব্য মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোর মধ্যে নেওয়ার ইতিবাচক সদিচ্ছার ইঙ্গিত দিয়েছে। এর ঠিক তিন দিনের মাথায় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ‘ফোর ডাইমেনশনাল’ বা চতুর্মাত্রিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনার ঘোষণা সেই অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে।

যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে প্রতিরক্ষাকে কেবলমাত্র প্রচলিত স্থল, নৌ ও আকাশ সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না। প্রযুক্তি, সাইবার সক্ষমতা, তথ্যযুদ্ধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সমন্বিত করার চিন্তা এর সঙ্গে সম্পর্কিত। সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে দেশের সাধারণ জনগণকেও একটি ‘সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো’র অংশীজন করার মাধ্যমে একটি আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রস্তুতের মাধ্যমে নবতর এক অধ্যায়ের সংযোজন করছেন।

স্বভাবতই একজন সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমান জানেন-জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখণ্ডতার সুরক্ষায় পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বাসযোগ্য এক প্রতিরোধ সক্ষমতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতায় কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে সামরিক শক্তি অপরিহার্য ও বিকল্পহীন।

এসব দিক বিবেচনা করেই দেশের প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর জন্য নতুন রূপরেখা প্রণয়ন, কৌশলগত সম্প্রসারণ ও উন্নত প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার। নজর দেওয়া হচ্ছে ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি, সাইবার নিরাপত্তা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা।

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের পরিবর্তিত ধরনকে বিবেচনায় নেওয়ারই দূরদর্শী চিন্তার প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কঠিন কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক ও মানসিক প্রস্তুতি এবং সহনশীলতার মধ্যে দিয়েই গড়ে উঠে জাতীয় ঐক্য। একটি কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও জনগণের প্রতিরোধক্ষমতাও শক্তিশালী করতে দৃশ্যমান গুণগণত পরিবর্তন ও আত্মপ্রকাশের সুযোগকেও সামনে এনেছে যেন!

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও সশস্ত্র বাহিনীকে ‘মডার্ন, কুইক, সেলফ কনটেইন্ড, রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতাসম্পন্ন’ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ছিল। মূলত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রচলিত কাঠামো থেকে বের করে আধুনিক প্রযুক্তি, আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে শক্ত জবাব, আত্মনির্ভরতা, পেশাদারিত্ব ও আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোয় নেওয়ার কনসেপ্টকে আলোকিত করেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকে অক্ষুণ্ন রাখার এই পরিকল্পনা আক্ষরিক অর্থেই জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর একটি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা। চলতি বছরের বুধবার (০৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে তিন বছর ও পরবর্তী সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান।

তিনি এ সময় বলেন, ‘পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর আওতায় নতুন ট্যাংক ও সাঁজোয়া যুদ্ধযান যুক্ত করে স্থলযুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে আধুনিক আর্টিলারি রকেট ব্যবস্থা, ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র, স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংযোজনের মাধ্যমে দূরপাল্লায় নির্ভুল আঘাত এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হবে।

’ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ফিউজ ও প্রাইমার, আধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেটসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলার কথা জানিয়ে সেদিন তিনি আরও বলেন, ‘এতে বৈদেশিক নির্ভরতা কমবে এবং দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ ঘটবে।

এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে। ’ বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার এই মহাপরিকল্পনায় সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নও।

যুদ্ধকে উৎসাহিত না করে আত্মনির্ভরশীল, প্রযুক্তিনির্ভর, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার মাধ্যমে আন্তঃবাহিনী সমন্বয়কেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মোতাবেক নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল ও সাবমেরিন সংযোজনের পরিকল্পনা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা, সমুদ্রসম্পদ ও সামুদ্রিক যোগাযোগপথের নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করার সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। ফলে গভীর সমুদ্রে নজরদারি, টহল, প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় সময়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বাড়বে। মনুষ্যবিহীন নৌ প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়াই নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের সুযোগ বাড়বে। নতুন নৌঘাঁটি নির্মাণ ও বিদ্যমান ঘাঁটির আধুনিকায়ন নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতাকেও করবে আরও বিস্তৃত।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট, ফাইটার, অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টার সংযোজনের পরিকল্পনা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়ানোর সরকারের উদ্যোগকে ফলপ্রসু করতে পারে। একই সঙ্গে ইউএভি, অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম যুক্ত করার পরিকল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রযুক্তিগত বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বৃহত্তর বগুড়ায় একটি ইউএভি ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ’ এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন-অ্যান্টি-ড্রোন ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা বাস্তবতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থায় ছোট ড্রোন থেকে শুরু করে উন্নত ইলেকট্রনিক ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা বিশেষভাবে ভূমিকা রাখছে।

প্যাসিভ ডিটেকশন সিস্টেম, লং-রেঞ্জ রাডার এবং এয়ার ট্রাফিক সার্ভেইলেন্স রাডার যুক্ত হলে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ ও হুমকি শনাক্ত করার সক্ষমতা আরও উন্নত হতে পারে। পাশাপাশি মিডিয়াম-রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবস্থা আকাশ প্রতিরক্ষার স্তরকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় স্বার্থকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সামরিক বিশ্লেষকরা অবলোকন করেছেন-জনগণের সম্মিলিত শক্তিতেই কার্যকর সামরিক কৌশল-শহীদ রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের এমন ধারণাকে মূল উপজীব্য করে জাতীয় প্রতিরক্ষানীতি ও নিরাপত্তাকৌশল সাজাচ্ছে সরকার। যেখানে শান্তির পক্ষেই বাংলাদেশের অবস্থানকে করা হয়েছে উচ্চকিত। জনগণভিত্তিক যুদ্ধকৌশলে মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে জাতিকে বিজয়ী করেছে।

জাতীয় প্রতিরক্ষায় ‘টোটাল পিপলস ওয়ার’ প্রমাণ করে একটি রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র জাতির কাঁেধও গুরুদায়িত্ব রয়েছে। তাই সুস্পষ্ট একটি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল রাষ্ট্রের সামগ্রিক নিরাপত্তা অবকাঠামোকে কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। সরকারপ্রধান তারেক রহমান নিজের ভাবনা-চিন্তায় দীর্ঘমেয়াদি এক দিকনির্দেশনায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে প্রত্যাশিত মাত্রায় উন্নীত করার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে চান।

যার মাধ্যমে জনগণ ও সামরিক বাহিনীর আস্থা-বিশ্বাসের মেলবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে চিহ্নিত হবে এমন অভিমত বিশ্লেষকদের। তাঁরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে চান। তাদের উপলব্ধির যথার্থতা হচ্ছে- একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধু উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না; এর কার্যকারিতার বহুলাংশে নির্ভর করে জাতীয় ঐক্য, জনসম্পৃক্ততা, আস্থা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ওপর।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এর প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী দেশের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে চলেছে। জাতির প্রতিটি দুর্যোগে-সংকটে ঐক্য, মানবিকতা ও সাহসিকতায় অন্ধকার ভেদ করে আলোকবর্তিকা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন নিজেদের।

বিশ্বপরিমণ্ডলে তাঁরা আত্মপ্রকাশ করেছে মানবিক বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর হিসেবেও। সামরিক বিশ্লেষকরা সরকারের চলমান এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত রূপান্তরের বড় প্রয়াস হিসেবে বিবেচনা করছেন। দশ বছর মেয়াদী এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল, বহুমাত্রিক ও আত্মনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে।

একই সঙ্গে নৌ ও বিমান সক্ষমতার বাড়লে দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রতিরোধক্ষমতা আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে। এই মহাপরিকল্পনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হবে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পদ, যা খুলে দিতে পারে টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশের সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্বকে করবে সুরক্ষিত।

ভূ-রাজনীতিতে কোন শক্তির দাবার ঘুঁটি নয়, বাংলাদেশই হবে আগামী দিনে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির উদীয়মান নতুন শক্তি; ট্রাম্প কার্ড।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

পূজা চেরির বিয়ের গুঞ্জন: পাত্র নাকি দেশের নামকরা ব্যবসায়ী

আধুনিক প্রতিরক্ষার পথে বাংলাদেশ, চতুর্মাত্রিক সশস্ত্র বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা

Update Time : 09:36:02 pm, Sunday, 16 August 2026

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সে সময় তিনি দলমতের ঊর্ধ্বে একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠনের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছিলেন।

আধুনিক, সুদৃঢ় ও যুগোপযোগী এক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে সরকারের সার্বিক সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন। ঢাকা সেনানিবাসে বিশেষ দরবারে তার এই বক্তব্য মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোর মধ্যে নেওয়ার ইতিবাচক সদিচ্ছার ইঙ্গিত দিয়েছে। এর ঠিক তিন দিনের মাথায় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ‘ফোর ডাইমেনশনাল’ বা চতুর্মাত্রিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনার ঘোষণা সেই অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে।

যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে প্রতিরক্ষাকে কেবলমাত্র প্রচলিত স্থল, নৌ ও আকাশ সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলেই চলবে না। প্রযুক্তি, সাইবার সক্ষমতা, তথ্যযুদ্ধ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সমন্বিত করার চিন্তা এর সঙ্গে সম্পর্কিত। সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে দেশের সাধারণ জনগণকেও একটি ‘সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো’র অংশীজন করার মাধ্যমে একটি আধুনিক প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রস্তুতের মাধ্যমে নবতর এক অধ্যায়ের সংযোজন করছেন।

স্বভাবতই একজন সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমান জানেন-জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখণ্ডতার সুরক্ষায় পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বাসযোগ্য এক প্রতিরোধ সক্ষমতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতায় কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে সামরিক শক্তি অপরিহার্য ও বিকল্পহীন।

এসব দিক বিবেচনা করেই দেশের প্রতিরক্ষার মূল স্তম্ভ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর জন্য নতুন রূপরেখা প্রণয়ন, কৌশলগত সম্প্রসারণ ও উন্নত প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার। নজর দেওয়া হচ্ছে ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইটভিত্তিক নজরদারি, সাইবার নিরাপত্তা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা।

ভবিষ্যৎ যুদ্ধের পরিবর্তিত ধরনকে বিবেচনায় নেওয়ারই দূরদর্শী চিন্তার প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। কঠিন কোন পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক ও মানসিক প্রস্তুতি এবং সহনশীলতার মধ্যে দিয়েই গড়ে উঠে জাতীয় ঐক্য। একটি কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য ও জনগণের প্রতিরোধক্ষমতাও শক্তিশালী করতে দৃশ্যমান গুণগণত পরিবর্তন ও আত্মপ্রকাশের সুযোগকেও সামনে এনেছে যেন!

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও সশস্ত্র বাহিনীকে ‘মডার্ন, কুইক, সেলফ কনটেইন্ড, রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতাসম্পন্ন’ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ছিল। মূলত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রচলিত কাঠামো থেকে বের করে আধুনিক প্রযুক্তি, আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে শক্ত জবাব, আত্মনির্ভরতা, পেশাদারিত্ব ও আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোয় নেওয়ার কনসেপ্টকে আলোকিত করেছে।

সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকে অক্ষুণ্ন রাখার এই পরিকল্পনা আক্ষরিক অর্থেই জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর একটি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ বলে মনে করেন সামরিক বিশ্লেষকরা। চলতি বছরের বুধবার (০৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে তিন বছর ও পরবর্তী সাত বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান।

তিনি এ সময় বলেন, ‘পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর আওতায় নতুন ট্যাংক ও সাঁজোয়া যুদ্ধযান যুক্ত করে স্থলযুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে আধুনিক আর্টিলারি রকেট ব্যবস্থা, ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র, স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংযোজনের মাধ্যমে দূরপাল্লায় নির্ভুল আঘাত এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা হবে।

’ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে ফিউজ ও প্রাইমার, আধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হেলমেটসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলার কথা জানিয়ে সেদিন তিনি আরও বলেন, ‘এতে বৈদেশিক নির্ভরতা কমবে এবং দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ ঘটবে।

এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, বহুমাত্রিক, আত্মনির্ভর ও যুদ্ধোপযোগী বাহিনীতে পরিণত হবে। ’ বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার এই মহাপরিকল্পনায় সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নও।

যুদ্ধকে উৎসাহিত না করে আত্মনির্ভরশীল, প্রযুক্তিনির্ভর, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার মাধ্যমে আন্তঃবাহিনী সমন্বয়কেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মোতাবেক নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক ফ্রিগেট, করভেট, অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল ও সাবমেরিন সংযোজনের পরিকল্পনা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা, সমুদ্রসম্পদ ও সামুদ্রিক যোগাযোগপথের নিরাপত্তাকে আরও জোরদার করার সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। ফলে গভীর সমুদ্রে নজরদারি, টহল, প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় সময়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বাড়বে। মনুষ্যবিহীন নৌ প্ল্যাটফর্ম যুক্ত হলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়াই নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের সুযোগ বাড়বে। নতুন নৌঘাঁটি নির্মাণ ও বিদ্যমান ঘাঁটির আধুনিকায়ন নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতাকেও করবে আরও বিস্তৃত।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট, ফাইটার, অ্যাটাক হেলিকপ্টার ও বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টার সংযোজনের পরিকল্পনা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা বাড়ানোর সরকারের উদ্যোগকে ফলপ্রসু করতে পারে। একই সঙ্গে ইউএভি, অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম যুক্ত করার পরিকল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রযুক্তিগত বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে বৃহত্তর বগুড়ায় একটি ইউএভি ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ’ এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন-অ্যান্টি-ড্রোন ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সক্ষমতা বর্তমান সময়ের নিরাপত্তা বাস্তবতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আধুনিক যুদ্ধব্যবস্থায় ছোট ড্রোন থেকে শুরু করে উন্নত ইলেকট্রনিক ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা বিশেষভাবে ভূমিকা রাখছে।

প্যাসিভ ডিটেকশন সিস্টেম, লং-রেঞ্জ রাডার এবং এয়ার ট্রাফিক সার্ভেইলেন্স রাডার যুক্ত হলে আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ ও হুমকি শনাক্ত করার সক্ষমতা আরও উন্নত হতে পারে। পাশাপাশি মিডিয়াম-রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবস্থা আকাশ প্রতিরক্ষার স্তরকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় স্বার্থকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সামরিক বিশ্লেষকরা অবলোকন করেছেন-জনগণের সম্মিলিত শক্তিতেই কার্যকর সামরিক কৌশল-শহীদ রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের এমন ধারণাকে মূল উপজীব্য করে জাতীয় প্রতিরক্ষানীতি ও নিরাপত্তাকৌশল সাজাচ্ছে সরকার। যেখানে শান্তির পক্ষেই বাংলাদেশের অবস্থানকে করা হয়েছে উচ্চকিত। জনগণভিত্তিক যুদ্ধকৌশলে মহান মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে জাতিকে বিজয়ী করেছে।

জাতীয় প্রতিরক্ষায় ‘টোটাল পিপলস ওয়ার’ প্রমাণ করে একটি রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র জাতির কাঁেধও গুরুদায়িত্ব রয়েছে। তাই সুস্পষ্ট একটি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল রাষ্ট্রের সামগ্রিক নিরাপত্তা অবকাঠামোকে কার্যকরভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। সরকারপ্রধান তারেক রহমান নিজের ভাবনা-চিন্তায় দীর্ঘমেয়াদি এক দিকনির্দেশনায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে প্রত্যাশিত মাত্রায় উন্নীত করার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে চান।

যার মাধ্যমে জনগণ ও সামরিক বাহিনীর আস্থা-বিশ্বাসের মেলবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে চিহ্নিত হবে এমন অভিমত বিশ্লেষকদের। তাঁরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে চান। তাদের উপলব্ধির যথার্থতা হচ্ছে- একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধু উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না; এর কার্যকারিতার বহুলাংশে নির্ভর করে জাতীয় ঐক্য, জনসম্পৃক্ততা, আস্থা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ওপর।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এর প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী দেশের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে চলেছে। জাতির প্রতিটি দুর্যোগে-সংকটে ঐক্য, মানবিকতা ও সাহসিকতায় অন্ধকার ভেদ করে আলোকবর্তিকা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন নিজেদের।

বিশ্বপরিমণ্ডলে তাঁরা আত্মপ্রকাশ করেছে মানবিক বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর হিসেবেও। সামরিক বিশ্লেষকরা সরকারের চলমান এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত রূপান্তরের বড় প্রয়াস হিসেবে বিবেচনা করছেন। দশ বছর মেয়াদী এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল, বহুমাত্রিক ও আত্মনির্ভর বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে।

একই সঙ্গে নৌ ও বিমান সক্ষমতার বাড়লে দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রতিরোধক্ষমতা আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে। এই মহাপরিকল্পনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হবে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পদ, যা খুলে দিতে পারে টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশের সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্বকে করবে সুরক্ষিত।

ভূ-রাজনীতিতে কোন শক্তির দাবার ঘুঁটি নয়, বাংলাদেশই হবে আগামী দিনে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির উদীয়মান নতুন শক্তি; ট্রাম্প কার্ড।