7:07 pm, Friday, 14 August 2026

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে আট

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:42:56 pm, Friday, 14 August 2026
  • 4

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে আট

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় একটি শিপইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙার কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রথমদিকে বিস্ফোরণের গুজব ছড়িয়ে পড়লেও পরে প্রশাসন নিশ্চিত করে যে, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্র জানায়, শিপইয়ার্ডে একটি পুরোনো এলএনজিবাহী জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। কাজের একপর্যায়ে জাহাজের ভেতরে থাকা একটি বদ্ধ কক্ষে কয়েকজন শ্রমিক প্রবেশ করলে সেখানে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তারা আক্রান্ত হন।

একে একে অন্য শ্রমিকরাও উদ্ধার করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, ঘটনাস্থলেই কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরও কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া গেছে ছয়জনের। তারা হলেন নাসির উদ্দিন (৪৭) ও মনসুর আহমদ (৫৫), সম্পর্কে দুই ভাই; সানি জলদাশ (৩৫) ও পলাশ জলদাশ (৩৯), সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী মৌলভীপাড়া এলাকার বাসিন্দা; গাইবান্ধার মো. খোকন (৪০) এবং মো. রানা (২৭)।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত সাতজনকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়ায়। এদিকে, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার পর শিপইয়ার্ড এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষাক্ত গ্যাস কীভাবে জমা হয়েছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য: বাউবি উপাচার্য

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে আট

Update Time : 04:42:56 pm, Friday, 14 August 2026

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকায় একটি শিপইয়ার্ডে জাহাজ ভাঙার কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রথমদিকে বিস্ফোরণের গুজব ছড়িয়ে পড়লেও পরে প্রশাসন নিশ্চিত করে যে, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্র জানায়, শিপইয়ার্ডে একটি পুরোনো এলএনজিবাহী জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। কাজের একপর্যায়ে জাহাজের ভেতরে থাকা একটি বদ্ধ কক্ষে কয়েকজন শ্রমিক প্রবেশ করলে সেখানে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তারা আক্রান্ত হন।

একে একে অন্য শ্রমিকরাও উদ্ধার করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, ঘটনাস্থলেই কয়েকজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরও কয়েকজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নিহতদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া গেছে ছয়জনের। তারা হলেন নাসির উদ্দিন (৪৭) ও মনসুর আহমদ (৫৫), সম্পর্কে দুই ভাই; সানি জলদাশ (৩৫) ও পলাশ জলদাশ (৩৯), সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী মৌলভীপাড়া এলাকার বাসিন্দা; গাইবান্ধার মো. খোকন (৪০) এবং মো. রানা (২৭)।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত সাতজনকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর বলেন, ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়ায়। এদিকে, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার পর শিপইয়ার্ড এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষাক্ত গ্যাস কীভাবে জমা হয়েছিল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।