লিবিয়ার জাওয়িয়া তেল শোধনাগারের একটি ডিজেল সংরক্ষণ ট্যাংকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১১ আগস্ট) আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ শুরু করেন দমকল বাহিনীর সদস্যরা। তবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, আগুনে আক্রান্ত ট্যাংকটিতে আনুমানিক ৪৫ লাখ লিটার পেট্রল মজুত ছিল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ট্যাংকটি সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় সর্বোচ্চ মাত্রার জরুরি অবস্থা জারি করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে এনওসি। এনওসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্রেগা পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং কোম্পানি জানিয়েছে, আগুনের ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা মূল্যায়নের কাজ চলছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে জাওয়িয়া শহরের আকাশে বিশাল আগুনের শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। তবে এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জাওয়িয়া তেল শোধনাগারটি লিবিয়ার সবচেয়ে বড় শোধনাগার হিসেবে পরিচিত। রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এ স্থাপনায় প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে।
এটি দেশটির অন্যতম বৃহৎ শারারা তেলক্ষেত্রের সঙ্গেও সংযুক্ত, যার দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল। শোধনাগারে কর্মরত দুই প্রকৌশলী জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের মধ্যেও শোধনাগারের মূল কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে গেলেও উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। উল্লেখ্য, এ ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে শনিবার ভোরে শোধনাগারের অপরিশোধিত ন্যাফথা সংরক্ষণ ট্যাংকে একটি ড্রোন আঘাত হানে।
এতে ট্যাংকটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ন্যাফথা ছড়িয়ে পড়লেও কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।















