অস্ট্রেলিয়া বিএনপি আয়োজিত ‘রক্তস্নাত ৩৬শে জুলাই, সার্বভৌমত্বে আপোষহীন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সময় ধরে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে।
তবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন। রোববার (৯ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা লাইব্রেরি হল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি ভার্চ্যুয়ালি (জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে) যুক্ত হন। আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তনের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করা, বিরোধী মত দমন, গ্রেফতার, নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চিরস্থায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণের আন্দোলনের মুখে সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার প্রবাসীবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে এবং বিশ্বের ১৭৬টি দেশে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বাংলাদেশির অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়ন, বিমানবন্দরে সেবা, ভিসা-সংক্রান্ত সহায়তা এবং অন্যান্য নাগরিক সেবা সহজ করতে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি কাজ করছে।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত বিএমইটির বহির্গমন ছাড়পত্রধারী কোনো বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হলে তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনা, বিমানবন্দরে গ্রহণ, স্বজনদের কাছে হস্তান্তর, দাফন সহায়তা এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপি ও অস্ট্রেলিয়া বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
তারা জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিভিন্ন দিক, প্রবাসীদের অধিকার এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।



















