আজ বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৬%

স্পিকারের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:26:40 pm, Wednesday, 16 September 2026
  • 12

স্পিকারের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ। আজ বুধবার স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জার্মানির পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে প্রচলিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, জার্মানি ও বাংলাদেশ উভয়েই গণতান্ত্রিক ক্ষেত্রে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ।

স্পিকার বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘসময় ধরে শোষণের শিকার হয়েছে। পাকিস্তান আমলে আমাদের গণতান্ত্রিক বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারংবার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনে এদেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। গুম, খুন, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। সেই প্রেক্ষিতে দেশে পুনরায় গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

স্পিকার বলেন, ‘এদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের বারংবার উৎসর্গ করেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াইয়ে তারা কখনো বিচ্যুত হয় নাই।’

জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের পথযাত্রা সুগম করেছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’ তিনি এদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে জার্মান সরকারের সর্বোচ্চ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রতিনিধিদল সাক্ষাতকালে জার্মানি-বাংলাদেশের সংসদীয় কমিটি গঠন, মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার, অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস কূপ অনুসন্ধান এবং সার কারখানা স্থাপনে গুরুত্বারোপ করেন।

স্পিকার এ সময় বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় এলাকার গ্যাস ও তেল সম্পদ অনুসন্ধানে জার্মানির বিশেষজ্ঞ দলকে আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ অর্থনীতি জ্বালানির উপর নির্ভরশীল মর্মে তিনি রাষ্ট্রদূতকে অভিহিত করেন

অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সুন্দরবনে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ শুরু করেছে টোয়াস

স্পিকারের সঙ্গে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

Update Time : 06:26:40 pm, Wednesday, 16 September 2026

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ। আজ বুধবার স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জার্মানির পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে প্রচলিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়েছে।

তিনি বলেন, জার্মানি ও বাংলাদেশ উভয়েই গণতান্ত্রিক ক্ষেত্রে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ।

স্পিকার বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘসময় ধরে শোষণের শিকার হয়েছে। পাকিস্তান আমলে আমাদের গণতান্ত্রিক বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারংবার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনে এদেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। গুম, খুন, বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। সেই প্রেক্ষিতে দেশে পুনরায় গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

স্পিকার বলেন, ‘এদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের বারংবার উৎসর্গ করেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াইয়ে তারা কখনো বিচ্যুত হয় নাই।’

জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের পথযাত্রা সুগম করেছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।’ তিনি এদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে জার্মান সরকারের সর্বোচ্চ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রতিনিধিদল সাক্ষাতকালে জার্মানি-বাংলাদেশের সংসদীয় কমিটি গঠন, মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার, অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস কূপ অনুসন্ধান এবং সার কারখানা স্থাপনে গুরুত্বারোপ করেন।

স্পিকার এ সময় বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় এলাকার গ্যাস ও তেল সম্পদ অনুসন্ধানে জার্মানির বিশেষজ্ঞ দলকে আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ অর্থনীতি জ্বালানির উপর নির্ভরশীল মর্মে তিনি রাষ্ট্রদূতকে অভিহিত করেন

অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।