এক দিনের জন্য যেন প্যারিসের এক কোণে গড়ে উঠেছিল ছোট্ট এক বাংলাদেশ। চারদিকে বাংলা ভাষার কোলাহল, পরিচিত মুখের হাসি, দেশীয় খাবারের সুবাস, শিশুদের ছুটোছুটি আর মঞ্চজুড়ে বাংলা গানের উচ্ছ্বাস। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনকে কয়েক ঘণ্টার জন্য পেছনে ফেলে হাজারো বাংলাদেশি মিলিত হন ‘ফ্রাঙ্কো বাংলা সামার ফেস্ট ২০২৬’-এ। ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজনের সংখ্যা বেড়েছে। তবে এবারের আয়োজনটি ছিল আকার, দর্শকসমাগম ও বৈচিত্র্যের দিক থেকে ব্যতিক্রমী। অনুষ্ঠানস্থলে দুপুর থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন প্রজন্মের অনেকের মুখে বাংলা ও ফরাসি—দুই ভাষাই ছিল সমান স্বচ্ছন্দ। মঞ্চের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি রকশিল্পী নগর বাউল জেমস। তার জনপ্রিয় গানগুলো শুরু হতেই দর্শকদের কণ্ঠ মিশে যায় শিল্পীর সঙ্গে। প্রবাসে থেকেও দেশের গানের প্রতি মানুষের আবেগ যে এতটুকু কমেনি, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে প্রতিটি পরিবেশনায়। রাহুল আনন্দ তার স্বতন্ত্র লোকসংগীতধর্মী পরিবেশনায় যোগ করেন ভিন্ন মাত্রা। ব্যান্ড ‘এরর ৪০৪’-এর ইমতিয়াজ রনি ও অন্যান্য শিল্পীরাও দীর্ঘ সময় দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। তবে আয়োজনটি শুধু সংগীতনির্ভর ছিল না। দিনের প্রথম ভাগেই উৎসব প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্যে। তাদের জন্য আয়োজন করা হয় বিভিন্ন বিনোদনমূলক ও অংশগ্রহণভিত্তিক কার্যক্রম। ছোট ছোট প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা ও আনন্দঘন আয়োজনে অংশ নেয় প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের শিশুরা। এ ছাড়া পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল ফুচকা, চটপটি, বিরিয়ানি, কাবাব, পিঠাসহ নানা ধরনের দেশীয় খাবারের স্টল। পোশাক, অলংকার ও বিভিন্ন পণ্যের স্টল ঘুরেও দর্শনার্থীরা আনন্দময় সময় কাটান। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল লটারি। দর্শনার্থীদের জন্য একটি বিএমডব্লিউ গাড়িসহ মোট ১০টি পুরস্কার রাখা হয়। লটারিতে বিএমডব্লিউ গাড়ির বিজয়ী হন রেজওয়ানা চৌধুরী মিম। তার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অনুষ্ঠানস্থলে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। উদ্বোধনী পর্বে আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বাগত বক্তব্য দেন শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান সাত্তার আলী সুমন (শাহ আলম)। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে শাহ গ্রুপ ও অফিওরা। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অফিওরার পরিচালক কৌশিক রাব্বানী। অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন ফরাসি জাতীয় পরিষদের সদস্য কার্লোস বিলঙ্গো এবং সারসেল সিটির ডেপুটি মেয়র নাবিল শাবান। তারা বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করতে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন। ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটি যেমন সংখ্যায় বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও। জাতীয় দিবস, বইমেলা, পহেলা বৈশাখ কিংবা ঈদের আয়োজনের পাশাপাশি এখন যুক্ত হয়েছে বড় পরিসরের উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক উৎসব। অংশগ্রহণকারীদের মতে, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসীদের মধ্যে যোগাযোগ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করছে।
7:48 pm, Monday, 3 August 2026
শিরোনাম :
Popular Post


























