দেশীয় চলচ্চিত্রের আলোচিত-সমালোচিত নাম অপু বিশ্বাস। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা বা গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে নতুন অভিনেতা আলী মুর্তুজা পলাশ পুলিশ কর্তৃক হঠাৎ গ্রেপ্তারের পর।
কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত থ্রিলারধর্মী ‘শিকার’ চলচ্চিত্রে একসঙ্গে কাজ করার সময় থেকেই তাদের ঘিরে মৃদু প্রেমের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। বিশেষ করে নেপালে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে শুটিং করার সময় থেকেই। অপু বিশ্বাসের নতুন এই পর্দাসঙ্গী পলাশ কিন্তু যেনতেন মানুষ নন। ২৪ এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি।
আর এই প্রেক্ষিতেই গেল ২৮ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পলাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। সম্প্রতি সেই খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় অপু-পলাশের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে তুমুল আলোচনা ও গুঞ্জনের ঝড় উঠেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘শিকার’ সিনেমাতে জুটি বেঁধে কাজ করতে গিয়েই মূলত তাদের মধ্যকার প্রেমের গুঞ্জনের ডালপালা গজায়।
অপু বিশ্বাস ও মুর্তুজা পলাশের অন-স্ক্রিন রসায়নের পাশাপাশি অফ-স্ক্রিন সখ্যও নজর কাড়ে নেটিজেনদের। শুটিং শেষ করে দেশে ফেরার আগেই দুই বাংলায় এই জুটির ‘বিশেষ সম্পর্ক’ নিয়ে মুখরোচক খবর ছড়াতে শুরু করে। যদিও এর আগে এক সাক্ষাৎকারে পলাশ বিষয়টিকে নিছকই ‘পেশাদার সহশিল্পীসুলভ সম্পর্ক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে এর আগে একটি টিভি চ্যানেলের প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছিল অপু বিশ্বাসের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন পলাশ!
আকস্মিক বন্যার কারণে শুটিং শেষ না করেই নেপাল থেকে গেলো ২৮ আগস্ট তড়িঘড়ি করে ঢাকায় ফেরে শিকার এর শুটিং ইউনিট। কিন্তু হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পা রাখতেই জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন পলাশ। শুরুতে বিষয়টি বেশ গোপন রাখা হলেও সম্প্রতি খবরটি গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতাগুলো নতুন এক তর্কে মেতে জমেছে।
অনেকেই এই গ্রেপ্তারের সঙ্গে তাদের প্রেম চর্চাকে মিলিয়ে নানা ধরণের মুখরোচক মন্তব্য ছড়াচ্ছেন। গ্রেপ্তারের আগে এই গুঞ্জন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছিলেন মুর্তুজা পলাশ। তিনি জানান, অপু বিশ্বাস ঢাকাই সিনেমার একজন শীর্ষ অভিনেত্রী এবং অত্যন্ত গুণী সহশিল্পী। কাজের বাইরে তাদের মধ্যে পেশাদার সম্পর্কের চেয়ে বেশি কিছু নেই। তবে ভক্তদের মধ্যে এই আলোচনা থামেনি।
পলাশের সঙ্গে অপুর প্রেম চলচ্চিত্রপাড়ায় জোরালো ভাবে শোনা গেলেও এ নিয়ে এখনো নীরব ভূমিকায় রয়েছেন স্বৈরাচার দোসরের সহযোগী অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস! পলাশ বর্তমানে কারাগারে থাকায় শুধু প্রেমের গুঞ্জনই ডালপালা মেলেনি, বরং গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’ সিনেমাটির ভবিষ্যৎ। অক্টোবর মাসে বাকি থাকা অংশের শুটিংয়ের শিডিউল থাকলেও সিনেমার প্রধান চরিত্রই এখন আইনি জালে বন্দি।
বাংলাদেশ ও কলকাতার একঝাঁক শিল্পীদের নিয়ে শুরু হওয়া এই কাজটি মাঝপথে থমকে যাওয়ায় সিনেমার টিম যেমন বিপাকে, তেমনই বিনোদন অনুরাগীদের নজর এখন এই সম্পর্কের জল কতদূর গড়ায় সেটা দেখতে। হঠাৎ করেই একসঙ্গে বেশকিছু নাটক প্রযোজনা করে আলোচনায় আসেন পলাশ। মানিকগঞ্জের মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত এই যুবলীগ নেতা কালো টাকা সাদা করতেই অপু বিশ্বাসকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণে নামেন।
কিন্তু সিনেমা শেষ হওয়ারই আগেই কারাগারে পলাশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর পলাশকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। রিমান্ড শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলা–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ঘটনা ও মামলার অন্য আসামিদের বিষয়ে তার কাছ থেকে কিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের যৌথ আবহে তৈরি শিকার সিনেমায় অপু-পলাশ ছাড়াও অভিনয় করছেন মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, সুমন আনোয়ার, খরাজ মুখার্জী ও রজতাভ দত্তের মতো দুই বাংলার একঝাঁক জনপ্রিয় তারকা। আইনি প্রক্রিয়ায় পলাশ জামিনে মুক্ত হবেন কিনা, কিংবা তার মুক্তিতে এই গুঞ্জনের জল কতখানি থিতিয়ে আসবে, তা সময়ই বলবে।
তবে আপাতত বিনোদনপ্রেমীদের আড্ডায় ‘পলাশের কারাবাস এবং অপুর সঙ্গে প্রেম চর্চা’ টক অব দ্য টাউন এ পরিণত হয়েছে। উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর ভাটারা থানায় এনামুল হক নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ১৭ অভিনয়শিল্পীর মধ্যে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসও আসামি। এমনকি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।
এছাড়া বিভিন্ন সময় দলটির নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন অপু। যদিও বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। তবে একই মামলায় পলাশ কারাগারে থাকলেও অপু বিশ্বাস কেন মুক্ত? এখন এমন প্রশ্ন অনেকেরই।





















