জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে সর্বজনীন আন্দোলনে রূপ দেওয়ার পেছনে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল অন্যতম প্রধান শক্তি। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ২৪-এর জুলাই আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে । তিনি বলেন আমার বিশ্বাস, নারীরা রাজপথে না এলে এই আন্দোলন কখনোই এত ব্যাপক জনসমর্থন পেত না। সাহস, নেতৃত্ব, সংগঠন এবং প্রতিরোধ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি বলেন, উত্তাল জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের আহ্বানে সমাজের সকল-পেশার মানুষের সঙ্গে নারীও রাজপথে নেমে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে আমি উপলব্ধি করেছি, কোনো গণআন্দোলনের শক্তি নির্ভর করে তার অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রের ওপর। সেই অর্থে জুলাই ছিল ব্যতিক্রমী। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাংবাদিক, শ্রমজীবী, পেশাজীবী এবং নারীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ আন্দোলনকে গণমানুষের আন্দোলনে পরিণত করেছিল।
সামান্তা শারমিন বলেন, নারীরা শুধু মিছিলে উপস্থিত ছিলেন না; তাঁরা আন্দোলনকারীদের সাহস জুগিয়েছেন, আহতদের সহায়তা করেছেন, পরিবারকে সম্পৃক্ত করেছেন এবং ভয়ের পরিবেশ ভেঙে সাধারণ মানুষকে রাজপথে আসার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। হামলা, গ্রেপ্তার কিংবা দমন-পীড়নের আশঙ্কাও তাঁদের থামাতে পারেনি। তাঁদের উপস্থিতি জনগণের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেয়—এটি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়, বরং নাগরিক অধিকারের আন্দোলন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে নারীরাই অনেক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একজন রাজনৈতিক কর্মী বা নাগরিক নির্যাতনের শিকার হলে তার প্রভাব পুরো পরিবারকে বহন করতে হয়, যার সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে নারীদের ওপর। শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জনের পরও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং সুযোগের অভাব তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা। ফলে বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্রের দাবিতে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক।
বর্তমান অবস্থা উল্লেখ করে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, তবে আন্দোলনে নারীদের দৃশ্যমান উপস্থিতির তুলনায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব এখনো সন্তোষজনক নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই আমাদের শিখিয়েছে, নারীকে কেবল আন্দোলনের কর্মী নয়, রাষ্ট্র নির্মাণের সমান অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। জুলাইয়ের চেতনার প্রকৃত বাস্তবায়ন তখনই সম্ভব হবে, যখন রাজপথে নারীর যে সাহস আমরা দেখেছি, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও সেই নেতৃত্ব সমানভাবে প্রতিফলিত হবে।























