আজ রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

সরকারি সেবায় নাগরিকদের হয়রানি না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:01:50 pm, Sunday, 8 November 2026
  • 15

সরকারি সেবায় নাগরিকদের হয়রানি না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সরকারি সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার জন্য নবীন সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জনগণ কেবল আদেশ-নির্দেশ নয়, মানবিক আচরণও প্রত্যাশা করে।

তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে। ৮১তম ফাউন্ডেশন ট্রেনিং কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ শেষে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পর ব্যবহারিক জীবনে সেই জ্ঞান প্রয়োগের কলাকৌশল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা শিখেছেন। এখন সরকারি প্রশাসনে যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হবে, অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রশাসন একটি সরকারের সার্বিক সফলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

এসব গুণ শুধু একজন কর্মকর্তাকেই সমৃদ্ধ করে না, রাষ্ট্র ও সরকারকেও সমৃদ্ধ করে। নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে বর্তমানে ২৬টি ক্যাডার রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে কেউ প্রশাসন, কেউ পররাষ্ট্র, কৃষি, কর, শিক্ষা কিংবা তথ্য ক্যাডারে যোগ দেবেন। ক্যাডারভেদে কাজের ধরন ও কর্মস্থল আলাদা হলেও সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় তাঁরা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা।

তাদের মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, তা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্যের প্রয়োজন নেই। কারণ, এসব বিষয় কর্মকর্তারা নিজেরাই ভালো জানেন। বরং জানা বিষয়গুলো কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সদিচ্ছা থাকা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো বয়সের নাগরিক সহযোগিতার জন্য সরকারি দপ্তরে গেলে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ‘গোল্ডেন রুল’ বা স্বর্ণনীতি হিসেবে ‘অন্যের সঙ্গে এমন আচরণ করুন, যেমন আচরণ আপনি নিজের জন্য প্রত্যাশা করেন’—এই নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। নিজের প্রয়োজনে অন্যের কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা ও আচরণ প্রত্যাশা করেন, সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গেও কর্মকর্তাদের তেমন আচরণ করতে হবে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে আইনের সীমার মধ্যে থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে।

আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে কোনো নাগরিকের আবেদনপত্রে ভুল থাকলে শুধু ভুল সংশোধন করে আনতে বলাই যথেষ্ট নয়। বরং ভুলটি সুনির্দিষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়ে কোথায় এবং কার কাছে গেলে তা সংশোধন করা যাবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়াই মানবিকতা ও আন্তরিকতার পরিচয়। পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পদোন্নতির জন্য পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের যেকোনো স্থানে, জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাই প্রকৃত পেশাদারত্বের পরিচয়। একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। রাজনৈতিক দলের প্রতি সরকারি কর্মকর্তাদের সমর্থনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সমর্থন থাকাকে তিনি দোষের মনে করেন না।

তবে সেই সমর্থনের প্রতিফলন ঘটতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে এবং তা সরকারি প্রশাসনের মাধ্যমেই করছে। তবে এসব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই জনগণ ভোট দিয়ে সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সামনে নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরা হয়েছিল।

জনগণ সেই ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে নির্বাচনী ইশতেহার এখন জনগণের দলিল। তা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করাই কর্মকর্তাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা। সরকারি সেবাকে আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ ক্ষেত্রে নবীন কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। পরিশেষে পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘরবাড়ি, অফিস-আদালতসহ চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিবেশ ও প্রতিবেশের সুরক্ষায় সচেতন হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সরকারি সেবায় নাগরিকদের হয়রানি না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সরকারি সেবায় নাগরিকদের হয়রানি না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Update Time : 09:01:50 pm, Sunday, 8 November 2026

সরকারি সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার জন্য নবীন সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জনগণ কেবল আদেশ-নির্দেশ নয়, মানবিক আচরণও প্রত্যাশা করে।

তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটাতে হবে। ৮১তম ফাউন্ডেশন ট্রেনিং কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ শেষে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পর ব্যবহারিক জীবনে সেই জ্ঞান প্রয়োগের কলাকৌশল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা শিখেছেন। এখন সরকারি প্রশাসনে যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হবে, অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রশাসন একটি সরকারের সার্বিক সফলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

এসব গুণ শুধু একজন কর্মকর্তাকেই সমৃদ্ধ করে না, রাষ্ট্র ও সরকারকেও সমৃদ্ধ করে। নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে বর্তমানে ২৬টি ক্যাডার রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে কেউ প্রশাসন, কেউ পররাষ্ট্র, কৃষি, কর, শিক্ষা কিংবা তথ্য ক্যাডারে যোগ দেবেন। ক্যাডারভেদে কাজের ধরন ও কর্মস্থল আলাদা হলেও সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় তাঁরা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা।

তাদের মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, তা নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্যের প্রয়োজন নেই। কারণ, এসব বিষয় কর্মকর্তারা নিজেরাই ভালো জানেন। বরং জানা বিষয়গুলো কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সদিচ্ছা থাকা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো বয়সের নাগরিক সহযোগিতার জন্য সরকারি দপ্তরে গেলে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি ‘গোল্ডেন রুল’ বা স্বর্ণনীতি হিসেবে ‘অন্যের সঙ্গে এমন আচরণ করুন, যেমন আচরণ আপনি নিজের জন্য প্রত্যাশা করেন’—এই নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। নিজের প্রয়োজনে অন্যের কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতা ও আচরণ প্রত্যাশা করেন, সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গেও কর্মকর্তাদের তেমন আচরণ করতে হবে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে আইনের সীমার মধ্যে থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিধিবদ্ধ নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে।

আইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে কোনো নাগরিকের আবেদনপত্রে ভুল থাকলে শুধু ভুল সংশোধন করে আনতে বলাই যথেষ্ট নয়। বরং ভুলটি সুনির্দিষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়ে কোথায় এবং কার কাছে গেলে তা সংশোধন করা যাবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়াই মানবিকতা ও আন্তরিকতার পরিচয়। পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পদোন্নতির জন্য পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদই রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের যেকোনো স্থানে, জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাই প্রকৃত পেশাদারত্বের পরিচয়। একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়। রাজনৈতিক দলের প্রতি সরকারি কর্মকর্তাদের সমর্থনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সমর্থন থাকাকে তিনি দোষের মনে করেন না।

তবে সেই সমর্থনের প্রতিফলন ঘটতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে এবং তা সরকারি প্রশাসনের মাধ্যমেই করছে। তবে এসব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই জনগণ ভোট দিয়ে সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সামনে নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরা হয়েছিল।

জনগণ সেই ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফলে নির্বাচনী ইশতেহার এখন জনগণের দলিল। তা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করাই কর্মকর্তাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা। সরকারি সেবাকে আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ ক্ষেত্রে নবীন কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। পরিশেষে পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘরবাড়ি, অফিস-আদালতসহ চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিবেশ ও প্রতিবেশের সুরক্ষায় সচেতন হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।