আজ রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:17:33 pm, Sunday, 8 November 2026
  • 16

ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

একই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যু করা হয়েছে দুটি পৃথক ওয়ারিশান সনদ। দুই সনদে ওয়ারিশের সংখ্যাও আলাদা। একটিতে চার ছেলে ও তিন মেয়ের নাম থাকলেও অন্যটিতে দেখানো হয়েছে পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে।

দ্বিতীয় সনদে আজগর আলী নামে একজনকে মৃত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তি নিজেকে আজগর আলী ওরফে আজিজুর রহমান দাবি করে বলেছেন, তিনি জীবিত ও সুস্থ আছেন। তাকে মৃত দেখিয়ে নেওয়া ওয়ারিশান সনদ ব্যবহার করে তার ভাইয়েরা জমি নিজেদের নামে খারিজ করে নিয়েছেন। ঘটনাটি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যেও রয়েছে ভিন্নতা। দুই চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা ওয়ারিশান সনদ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মন ভুবন আলীর ওয়ারিশান সনদ ইস্যু করেন। এতে চার ছেলে ও তিন মেয়ের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সিমলা রানী একই পরিবারের নামে আরেকটি সনদ ইস্যু করেন।

এতে পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ের নাম রয়েছে। নতুন সনদে আজগর আলী নামে একজনকে মৃত দেখানো হয়েছে। অভিযোগকারী আজিজুর রহমানের দাবি, আজগর আলী ওরফে আজিজুর রহমান তারই নাম। তিনি ওই পরিবারের বড় ছেলে। তার তিন বোনের মধ্যে বড় বোন হাজেরা বেগম মারা গেছেন; বাকি দুই বোন জীবিত। তার চার ভাইয়ের নাম আনোয়ারুল হক, মাশারুল হক, আমিরুল ইসলাম ও তিনি নিজে।

আজগর আলী নামে আলাদা কোনো ভাই নেই। তার নামকে দুই ভাগ করে নতুন একজনের পরিচয় তৈরি করে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। আজিজুর রহমান বলেন, আমি আজগর আলী ওরফে আজিজুর রহমান। এখনো জীবিত ও সুস্থ আছি। অথচ আমার নামের একটি অংশ ব্যবহার করে আজগর আলী নামে আরেকজনের পরিচয় দেখানো হয়েছে। সেই সনদ ব্যবহার করে আমার নামে কেনা জমি নিজেদের নামে খারিজ করে নিয়েছেন আমার ভাইয়েরা।

তিনি জানান, আমার বাবা গোলাম রসুলের কাছ থেকে আজগর আলী ওরফে আজিজুর রহমান নামে জমি কিনেছিলেন। পরে বাবা জীবদ্দশায় ওই জমি শুক্রা শীলের কাছে বিক্রি করেন। জমিটি পৈতৃক সম্পত্তি নয় বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি জানার পর তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান সিমলা রানিকে নিজের জীবিত থাকার কথা জানান। পরে প্যানেল চেয়ারম্যান তার বাড়িতে গিয়ে তাকে জীবিত দেখেন এবং সনদ সংশোধনের আশ্বাস দেন।

তবে এখনো তা সংশোধন করা হয়নি। বারবার যোগাযোগ করলে তাকে ‘আজ করব, কাল করব বলে সময় দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, আজিজুর রহমানের তিন ভাই আনোয়ারুল হক, মাশারুল হক ও আমিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তারা পাঁচ ভাই ছিলেন। তাদের এক ভাই আজগর আলী শৈশবে কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ৯ থেকে ১০ বছর।

আজিজুর রহমানের অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন তারা। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ছোটবেলা থেকে তারা ওই পরিবারকে চার ছেলে ও তিন মেয়ের পরিবার হিসেবেই জানেন। সম্প্রতি পাঁচ ছেলে থাকার কথা শুনেছেন। আজগর আলী ওরফে আজিজুর রহমান নামে একজনকেই তারা চেনেন এবং তাকে জীবিত দেখেছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানান তারা।

আকচা ইউনিয়ন (পূর্ব) বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব বলেন, ছোটবেলা থেকেই ওই পরিবারে চার ভাই ও তিন বোন বলে জানেন তিনি। এখন পাঁচ ভাইয়ের কথা শুনছেন। প্যানেল চেয়ারম্যানও আগে পরিবারটিতে চার ছেলে ও তিন মেয়ে থাকার বিষয়টি জানতেন। যথাযথ যাচাই-বাছাই না করেই নতুন সনদ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি জানার পর সনদ সংশোধনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বিজয় চন্দ্র বলেন, আগের চেয়ারম্যানের দেওয়া ওয়ারিশান সনদের বিষয়ে তিনি জানেন। তবে প্যানেল চেয়ারম্যান নতুন করে আরেকটি সনদ দিয়েছেন, তা তার জানা ছিল না। আজগর আলী আর আজিজুর রহমান একটাই। যিনি এখনো জীবিত রয়েছেন। এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান সিমলা রানী বলেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আজগর আলী নামে একজন জীবিত ব্যক্তি রয়েছেন।

তার পরিবারের সদস্য ও ভাইয়েরা তার কাছে এসে ওয়ারিশান সনদ নিয়েছেন। তাঁরা একটি মৃত্যু সনদও সঙ্গে এনেছিলেন। তার ধারণা ছিল, ওই পরিবারে আজগর আলী নামে চার ভাই রয়েছেন। তবে আবেদনে পাঁচ ভাইয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনিও এখনো সন্দিহান রয়েছেন বলে জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

মৃত্যুর তিন বছর পর মিসরের গিজা প্রদেশের ফ্ল্যাট থেকে সাবেক মন্ত্রীর বোনের কঙ্কাল উদ্ধার

ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

Update Time : 08:17:33 pm, Sunday, 8 November 2026

একই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যু করা হয়েছে দুটি পৃথক ওয়ারিশান সনদ। দুই সনদে ওয়ারিশের সংখ্যাও আলাদা। একটিতে চার ছেলে ও তিন মেয়ের নাম থাকলেও অন্যটিতে দেখানো হয়েছে পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে।

দ্বিতীয় সনদে আজগর আলী নামে একজনকে মৃত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই ব্যক্তি নিজেকে আজগর আলী ওরফে আজিজুর রহমান দাবি করে বলেছেন, তিনি জীবিত ও সুস্থ আছেন। তাকে মৃত দেখিয়ে নেওয়া ওয়ারিশান সনদ ব্যবহার করে তার ভাইয়েরা জমি নিজেদের নামে খারিজ করে নিয়েছেন। ঘটনাটি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যেও রয়েছে ভিন্নতা। দুই চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর করা ওয়ারিশান সনদ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান সুব্রত কুমার বর্মন ভুবন আলীর ওয়ারিশান সনদ ইস্যু করেন। এতে চার ছেলে ও তিন মেয়ের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সিমলা রানী একই পরিবারের নামে আরেকটি সনদ ইস্যু করেন।

এতে পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ের নাম রয়েছে। নতুন সনদে আজগর আলী নামে একজনকে মৃত দেখানো হয়েছে। অভিযোগকারী আজিজুর রহমানের দাবি, আজগর আলী ওরফে আজিজুর রহমান তারই নাম। তিনি ওই পরিবারের বড় ছেলে। তার তিন বোনের মধ্যে বড় বোন হাজেরা বেগম মারা গেছেন; বাকি দুই বোন জীবিত। তার চার ভাইয়ের নাম আনোয়ারুল হক, মাশারুল হক, আমিরুল ইসলাম ও তিনি নিজে।

আজগর আলী নামে আলাদা কোনো ভাই নেই। তার নামকে দুই ভাগ করে নতুন একজনের পরিচয় তৈরি করে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। আজিজুর রহমান বলেন, আমি আজগর আলী ওরফে আজিজুর রহমান। এখনো জীবিত ও সুস্থ আছি। অথচ আমার নামের একটি অংশ ব্যবহার করে আজগর আলী নামে আরেকজনের পরিচয় দেখানো হয়েছে। সেই সনদ ব্যবহার করে আমার নামে কেনা জমি নিজেদের নামে খারিজ করে নিয়েছেন আমার ভাইয়েরা।

তিনি জানান, আমার বাবা গোলাম রসুলের কাছ থেকে আজগর আলী ওরফে আজিজুর রহমান নামে জমি কিনেছিলেন। পরে বাবা জীবদ্দশায় ওই জমি শুক্রা শীলের কাছে বিক্রি করেন। জমিটি পৈতৃক সম্পত্তি নয় বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টি জানার পর তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান সিমলা রানিকে নিজের জীবিত থাকার কথা জানান। পরে প্যানেল চেয়ারম্যান তার বাড়িতে গিয়ে তাকে জীবিত দেখেন এবং সনদ সংশোধনের আশ্বাস দেন।

তবে এখনো তা সংশোধন করা হয়নি। বারবার যোগাযোগ করলে তাকে ‘আজ করব, কাল করব বলে সময় দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, আজিজুর রহমানের তিন ভাই আনোয়ারুল হক, মাশারুল হক ও আমিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, তারা পাঁচ ভাই ছিলেন। তাদের এক ভাই আজগর আলী শৈশবে কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তখন তার বয়স ছিল আনুমানিক ৯ থেকে ১০ বছর।

আজিজুর রহমানের অভিযোগ সত্য নয় বলেও দাবি করেন তারা। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ছোটবেলা থেকে তারা ওই পরিবারকে চার ছেলে ও তিন মেয়ের পরিবার হিসেবেই জানেন। সম্প্রতি পাঁচ ছেলে থাকার কথা শুনেছেন। আজগর আলী ওরফে আজিজুর রহমান নামে একজনকেই তারা চেনেন এবং তাকে জীবিত দেখেছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানান তারা।

আকচা ইউনিয়ন (পূর্ব) বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব বলেন, ছোটবেলা থেকেই ওই পরিবারে চার ভাই ও তিন বোন বলে জানেন তিনি। এখন পাঁচ ভাইয়ের কথা শুনছেন। প্যানেল চেয়ারম্যানও আগে পরিবারটিতে চার ছেলে ও তিন মেয়ে থাকার বিষয়টি জানতেন। যথাযথ যাচাই-বাছাই না করেই নতুন সনদ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি জানার পর সনদ সংশোধনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বিজয় চন্দ্র বলেন, আগের চেয়ারম্যানের দেওয়া ওয়ারিশান সনদের বিষয়ে তিনি জানেন। তবে প্যানেল চেয়ারম্যান নতুন করে আরেকটি সনদ দিয়েছেন, তা তার জানা ছিল না। আজগর আলী আর আজিজুর রহমান একটাই। যিনি এখনো জীবিত রয়েছেন। এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান সিমলা রানী বলেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আজগর আলী নামে একজন জীবিত ব্যক্তি রয়েছেন।

তার পরিবারের সদস্য ও ভাইয়েরা তার কাছে এসে ওয়ারিশান সনদ নিয়েছেন। তাঁরা একটি মৃত্যু সনদও সঙ্গে এনেছিলেন। তার ধারণা ছিল, ওই পরিবারে আজগর আলী নামে চার ভাই রয়েছেন। তবে আবেদনে পাঁচ ভাইয়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনিও এখনো সন্দিহান রয়েছেন বলে জানান তিনি।