আজ রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৫°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

উত্তরবঙ্গে বাড়ছে ঘন কুয়াশা, সঙ্গে দেখা দিচ্ছে রোগবালাই

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:12:36 am, Sunday, 8 November 2026
  • 22

উত্তরবঙ্গে বাড়ছে ঘন কুয়াশা, সঙ্গে দেখা দিচ্ছে রোগবালাই

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের চারপাশ এবং ভোরের হিমেল বাতাসে হালকা শীতের পরশ অনুভূত হচ্ছে। প্রকৃতিতে ঋতুবদলের এই আভাসের মাঝেই রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে ভোরে কুয়াশার উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যদিও দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও তাপমাত্রা কমেনি, তবু ভোরের প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের হাসপাতালগুলোয় বাড়ছে শীতজনিত রোগবালাই। সব বয়সি মানুষের মাঝেই ছড়িয়ে পড়েছে সর্দি-কাশি জ্বরসহ অন্যান্য রোগ। চিকিৎসকরা বলছেন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে এ সময়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহে শীতজনিত রোগে ভর্তি হয়েছে ৩৮২ রোগী।

রংপুর রেলওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া মোখছেদ আলী শীতের এ পরিবর্তন টের পাচ্ছেন ভোরের বাতাসে। একই স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া আছিয়া বলেন, ‘আইতো বাতাস উঠলে অ্যাকনা জার নাগে। তখন হামারগুলার খুব কষ্ট হয়। ভোরবেলা অ্যাকনা কুয়াশা পইরলে তখন অ্যাকনা জার নাগে। সকাল ৭টার পর আকাশোত বেলা দ্যাখা দ্যায়। তখন আর তেমন জার থাকে না। তাদের কথায়, এখনো শীতের তীব্রতা শুরু না হলেও আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

বিশেষ করে পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় প্রকৃত শীত নামলে দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম জানান, ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে থাকে। এ সময় হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। এতে সড়কে চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। কাকিনা এলাকার কৃষক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ভোরে ঘন কুয়াশা থাকায় জমিতে কাজ করতে যেতে কিছুটা ভয় লাগে।

তবে সকাল ৭টার পর সূর্যের দেখা মেলায় তেমন ঠান্ডা অনুভূত হয় না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এদিকে শীতের আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে শহরের বাজারগুলোতেও। রংপুর স্টেশন রোডের শীতবস্ত্র বিক্রেতা মোসলেম উদ্দিন জানান, শীতের পোশাক, চাদর ও কম্বল নিয়ে ব্যবসায়ীরা দোকান সাজাতে শুরু করেছেন।

ক্রেতাদের মধ্যেও শীতবস্ত্র কেনার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে তাপমাত্রার ওঠানামা এবং ঠান্ডাজনিত রোগের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। রমেক হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিনই শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

৭৫ কোটি টাকা হাতিয়ে উধাও দুই সমবায় সমিতির মালিক

উত্তরবঙ্গে বাড়ছে ঘন কুয়াশা, সঙ্গে দেখা দিচ্ছে রোগবালাই

Update Time : 07:12:36 am, Sunday, 8 November 2026

ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের চারপাশ এবং ভোরের হিমেল বাতাসে হালকা শীতের পরশ অনুভূত হচ্ছে। প্রকৃতিতে ঋতুবদলের এই আভাসের মাঝেই রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে ভোরে কুয়াশার উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যদিও দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিললেও তাপমাত্রা কমেনি, তবু ভোরের প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের হাসপাতালগুলোয় বাড়ছে শীতজনিত রোগবালাই। সব বয়সি মানুষের মাঝেই ছড়িয়ে পড়েছে সর্দি-কাশি জ্বরসহ অন্যান্য রোগ। চিকিৎসকরা বলছেন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে এ সময়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহে শীতজনিত রোগে ভর্তি হয়েছে ৩৮২ রোগী।

রংপুর রেলওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া মোখছেদ আলী শীতের এ পরিবর্তন টের পাচ্ছেন ভোরের বাতাসে। একই স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া আছিয়া বলেন, ‘আইতো বাতাস উঠলে অ্যাকনা জার নাগে। তখন হামারগুলার খুব কষ্ট হয়। ভোরবেলা অ্যাকনা কুয়াশা পইরলে তখন অ্যাকনা জার নাগে। সকাল ৭টার পর আকাশোত বেলা দ্যাখা দ্যায়। তখন আর তেমন জার থাকে না। তাদের কথায়, এখনো শীতের তীব্রতা শুরু না হলেও আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

বিশেষ করে পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় প্রকৃত শীত নামলে দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম জানান, ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চারপাশ কুয়াশায় ঢেকে থাকে। এ সময় হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। এতে সড়কে চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। কাকিনা এলাকার কৃষক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ভোরে ঘন কুয়াশা থাকায় জমিতে কাজ করতে যেতে কিছুটা ভয় লাগে।

তবে সকাল ৭টার পর সূর্যের দেখা মেলায় তেমন ঠান্ডা অনুভূত হয় না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এদিকে শীতের আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে শহরের বাজারগুলোতেও। রংপুর স্টেশন রোডের শীতবস্ত্র বিক্রেতা মোসলেম উদ্দিন জানান, শীতের পোশাক, চাদর ও কম্বল নিয়ে ব্যবসায়ীরা দোকান সাজাতে শুরু করেছেন।

ক্রেতাদের মধ্যেও শীতবস্ত্র কেনার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে তাপমাত্রার ওঠানামা এবং ঠান্ডাজনিত রোগের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। রমেক হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তানভীর আহমেদ বলেন, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে প্রতিদিনই শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।