ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে তা আগের চেয়ে দীর্ঘ ও বিস্তৃত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলা, ড্রোন ভূপাতিত এবং সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নানা দাবি সামনে এসেছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বুধবার সকালে হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বাহিনীটির দাবি, নিষিদ্ধ জলপথে প্রবেশের চেষ্টা করা চারটি তেলবাহী জাহাজ নৌ-মাইনের আঘাতে ধ্বংস হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজ আটক করা হয়েছে। এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে, কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার একটি খসড়া তৈরি হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড়ের বিনিময়ে দেশটির জব্দ করা সম্পদের একটি অংশ ছাড়ার প্রস্তাব রয়েছে। সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র খসড়াটিতে সম্মতি দিয়েছে এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
তবে চূড়ান্ত চুক্তি বা ঘোষণার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের নেতারা নতুন হামলার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আইআরজিসির এক উপদেষ্টা বলেছেন, ইরানি কমান্ডারদের লক্ষ্যবস্তু করা হলে বিপরীত পক্ষের শীর্ষ নেতারাও হামলার লক্ষ্য হবেন। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, যুদ্ধ ফের শুরু হলে সংঘাতের ভৌগোলিক সীমা থাকবে না।
তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের লক্ষ্য করে হুমকিমূলক বিলবোর্ডও দেখা গেছে। অন্যদিকে, ইরানের ওপর নতুন সামরিক হামলার সম্ভাবনায় উদ্বেগ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।






















