আজ শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৩°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

বাইন্যান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা, ঝুঁকির মুখে ৬৩০ কোটি ডলার

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:37:39 am, Thursday, 5 November 2026
  • 27

বাইন্যান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা, ঝুঁকির মুখে ৬৩০ কোটি ডলার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক হিসাবে এ ঘটনায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার মূল্যের ডিজিটাল সম্পদ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ইতিহাসে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য সাইবার চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর বাইন্যান্স ও বিভিন্ন ব্লকচেইন অংশীদারের সমন্বিত উদ্যোগে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ ফ্রিজ করা সম্ভব হয়েছে। বাকি সম্পদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারে কাজ চলছে। বিপুল সম্পদ ফ্রিজ করল টেথার ও সার্কেল সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডিজিটাল সম্পদ উদ্ধারে সক্রিয় হয়ে ওঠে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান।

বিশেষ করে ইউএসডিটি স্টেবলকয়েনের ইস্যুকারী টেথার এবং ইউএসডিসির ইস্যুকারী সার্কেল সন্দেহজনক ওয়ালেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ সম্পদ ফ্রিজ করে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, টেথার প্রায় ১৫৭ কোটি ডলারের ইউএসডিটি এবং সার্কেল ৮০ কোটি ডলারের বেশি ইউএসডিসি ফ্রিজ করেছে। অর্থাৎ, শুধু এই দুই প্রতিষ্ঠানের পদক্ষেপেই ২৩৭ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদের লেনদেন আটকে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য ব্লকচেইন অংশীদার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও সম্পদ শনাক্ত এবং স্থানান্তর বন্ধে সহায়তা করেছে। বাইন্যান্সের দাবি, সব অংশীদারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে। তবে ফ্রিজ করা সম্পদ আর উদ্ধার করা অর্থ এক বিষয় নয়। কোনো ওয়ালেটে লেনদেন বন্ধ করা সম্ভব হলেও সম্পদের মালিকানা নিশ্চিত করা এবং তা প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

সাময়িকভাবে বন্ধ ডিপোজিট ও উইথড্রয়াল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাইন্যান্স তাদের প্ল্যাটফর্মে সাময়িকভাবে ডিপোজিট ও উইথড্রয়াল কার্যক্রম স্থগিত করেছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক ঠিকানার অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সংশোধন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এসব কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে না।

একই সঙ্গে অর্থের গতিপথ শনাক্ত, সন্দেহভাজনদের পরিচয় উদ্ঘাটন এবং সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ব্লকচেইন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ চলছে। গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তার আশ্বাস এত বড় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের পরও গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করেছে বাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যবহারকারীদের তহবিল নিরাপদ রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রাহকদের কোনো আর্থিক ক্ষতি হলে তা প্রতিষ্ঠানের জরুরি সুরক্ষা তহবিল এসএএফইউ এবং নিজস্ব অর্থ থেকে পূরণ করা হবে। বাইন্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ই হে জানিয়েছেন, হ্যাকিংয়ের কারণে হওয়া সব ধরনের ক্ষতির দায় প্রতিষ্ঠানটি বহন করবে। এ ছাড়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের রিজার্ভ ও সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হালনাগাদ প্রুফ অব রিজার্ভস প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ক্রিপ্টো বাজারে অস্থিরতা, বিটকয়েনের দরপতন বাইন্যান্সে সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় বিটকয়েনসহ শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল মুদ্রার দামে পতন দেখা যায়। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে বিটকয়েনের দাম ৭৭ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। ২৪ ঘণ্টার হিসাবে এর দরপতন ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

ক্রিপ্টোকারেন্সির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ বাইন্যান্সের এ ঘটনা বিশ্বব্যাপী ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীর ব্যক্তিগত ডিভাইসের নিরাপত্তা দুর্বলতা কীভাবে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল সম্পদকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে, তা সামনে এসেছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের পরিমাণ ৬৩০ কোটি ডলার বলা হলেও এর সবটুকু চূড়ান্তভাবে চুরি হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

একইভাবে ফ্রিজ করা সম্পদের বাইরে অবশিষ্ট অর্থের অবস্থান ও পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবশিষ্ট সম্পদের অবস্থান শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সাইবার হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করাই এখন বাইন্যান্সের প্রধান চ্যালেঞ্জ। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এ ঘটনার প্রকৃত ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র জানা যাবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত

বাইন্যান্সে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা, ঝুঁকির মুখে ৬৩০ কোটি ডলার

Update Time : 03:37:39 am, Thursday, 5 November 2026

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক হিসাবে এ ঘটনায় প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার মূল্যের ডিজিটাল সম্পদ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ইতিহাসে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য সাইবার চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর বাইন্যান্স ও বিভিন্ন ব্লকচেইন অংশীদারের সমন্বিত উদ্যোগে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ ফ্রিজ করা সম্ভব হয়েছে। বাকি সম্পদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারে কাজ চলছে। বিপুল সম্পদ ফ্রিজ করল টেথার ও সার্কেল সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডিজিটাল সম্পদ উদ্ধারে সক্রিয় হয়ে ওঠে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান।

বিশেষ করে ইউএসডিটি স্টেবলকয়েনের ইস্যুকারী টেথার এবং ইউএসডিসির ইস্যুকারী সার্কেল সন্দেহজনক ওয়ালেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ সম্পদ ফ্রিজ করে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, টেথার প্রায় ১৫৭ কোটি ডলারের ইউএসডিটি এবং সার্কেল ৮০ কোটি ডলারের বেশি ইউএসডিসি ফ্রিজ করেছে। অর্থাৎ, শুধু এই দুই প্রতিষ্ঠানের পদক্ষেপেই ২৩৭ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদের লেনদেন আটকে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

এ ছাড়া অন্যান্য ব্লকচেইন অংশীদার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও সম্পদ শনাক্ত এবং স্থানান্তর বন্ধে সহায়তা করেছে। বাইন্যান্সের দাবি, সব অংশীদারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে। তবে ফ্রিজ করা সম্পদ আর উদ্ধার করা অর্থ এক বিষয় নয়। কোনো ওয়ালেটে লেনদেন বন্ধ করা সম্ভব হলেও সম্পদের মালিকানা নিশ্চিত করা এবং তা প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

সাময়িকভাবে বন্ধ ডিপোজিট ও উইথড্রয়াল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাইন্যান্স তাদের প্ল্যাটফর্মে সাময়িকভাবে ডিপোজিট ও উইথড্রয়াল কার্যক্রম স্থগিত করেছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক ঠিকানার অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সংশোধন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এসব কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে না।

একই সঙ্গে অর্থের গতিপথ শনাক্ত, সন্দেহভাজনদের পরিচয় উদ্ঘাটন এবং সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ব্লকচেইন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ চলছে। গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তার আশ্বাস এত বড় নিরাপত্তা লঙ্ঘনের পরও গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করেছে বাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যবহারকারীদের তহবিল নিরাপদ রয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রাহকদের কোনো আর্থিক ক্ষতি হলে তা প্রতিষ্ঠানের জরুরি সুরক্ষা তহবিল এসএএফইউ এবং নিজস্ব অর্থ থেকে পূরণ করা হবে। বাইন্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ই হে জানিয়েছেন, হ্যাকিংয়ের কারণে হওয়া সব ধরনের ক্ষতির দায় প্রতিষ্ঠানটি বহন করবে। এ ছাড়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের রিজার্ভ ও সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হালনাগাদ প্রুফ অব রিজার্ভস প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ক্রিপ্টো বাজারে অস্থিরতা, বিটকয়েনের দরপতন বাইন্যান্সে সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় বিটকয়েনসহ শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল মুদ্রার দামে পতন দেখা যায়। বাজারের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে বিটকয়েনের দাম ৭৭ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। ২৪ ঘণ্টার হিসাবে এর দরপতন ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

ক্রিপ্টোকারেন্সির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ বাইন্যান্সের এ ঘটনা বিশ্বব্যাপী ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীর ব্যক্তিগত ডিভাইসের নিরাপত্তা দুর্বলতা কীভাবে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ডিজিটাল সম্পদকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে, তা সামনে এসেছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের পরিমাণ ৬৩০ কোটি ডলার বলা হলেও এর সবটুকু চূড়ান্তভাবে চুরি হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

একইভাবে ফ্রিজ করা সম্পদের বাইরে অবশিষ্ট অর্থের অবস্থান ও পুনরুদ্ধারের অগ্রগতি সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে গ্রাহকদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবশিষ্ট সম্পদের অবস্থান শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সাইবার হামলা প্রতিরোধে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করাই এখন বাইন্যান্সের প্রধান চ্যালেঞ্জ। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এ ঘটনার প্রকৃত ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র জানা যাবে।