যশোর সদর উপজেলার আরবপুরে আল-আমিন নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়।
আহত যুবকের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নাদিম মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। সোমবার ৩ নভেম্বর রাতে আরবপুর মোড়ে হামলার এ ঘটনা ঘটে। পরে বিরোধ গড়ায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। আহত আল-আমিন যশোর শহরের আরবপুর মোড় এলাকার রিপন সরদারের ছেলে। আল-আমিনের অভিযোগ, স্থানীয় একটি বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।
বিষয়টি মীমাংসার জন্য রোববার রেলগেট তেঁতুলতলা এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিরোধের নিষ্পত্তি করা হয়। কিন্তু পরদিন সোমবার রাত ৯টার দিকে আরবপুর দীঘিরপাড় এলাকায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। তার দাবি, রাব্বি, শামীম, তারেক ও মামুন নামের চারজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
আল-আমিনকে উদ্ধারের পর স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নাদিম। কিন্তু জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। সেখানে রাব্বি ও শামীমের অনুসারীরা উপস্থিত হন। একপর্যায়ে আগের দিনের সালিশ বৈঠকে অংশ নেওয়া আল-আমিনের বিপক্ষের কয়েকজনের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় আহত আল-আমিনের পক্ষে কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল নাদিম।
তার অভিযোগ, আল-আমিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। আব্দুল্লাহ আল নাদিম বলেন, ‘আমি আহত আল-আমিনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তার পক্ষে কথা বলায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। আমার ওপর এ হামলা পূর্বপরিকল্পিত। ’ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে মারামারির ঘটনায় রোগী, স্বজন ও চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চিকিৎসাসেবার জন্য নির্ধারিত এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আল-আমিন ও আব্দুল্লাহ আল নাদিমের অভিযোগ, হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি কবির হোসেন জানান, হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা কথা বলেছেন। ঘটনা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।























