আজ বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

যশোরে জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন, পরকীয়া আড়াল করতেই হত্যা

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:54:47 pm, Tuesday, 3 November 2026
  • 25

যশোরে জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন, পরকীয়া আড়াল করতেই হত্যা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

একটি গোপন সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের সাক্ষী হয়ে যাওয়াই কাল হলো মাজেদা বেগমের। শুধু মাজেদাকেই নয়, গোপন সম্পর্ক ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় খুন করা হয় তার স্বামী আলেক নুর ইসলামকেও। পরিকল্পিত হত্যার পর দুজনের মরদেহ ফেলে রাখা হয় ধানখেতের পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে।

যশোরের কেশবপুরে চাঞ্চল্যকর এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আড়াল করতেই স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন জেসমিন বেগম ও তার কথিত প্রেমিক মোস্তফা কামাল। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের অপর সহযোগী মোস্তফা কামাল এখনো পলাতক।

তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচযন্ত্রের পানি পড়ার স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পরে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতরা হলেন আলেক নুর ইসলাম ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশের একটি দল। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, জেসমিন ও নিহত মাজেদা বেগম যশোরের অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে দুজন ঘাস কাটতে মাঠে যান। ওই মাঠে কাজ করছিলেন মাজেদার স্বামী আলেক নুর ইসলামও। মাঠে যাওয়ার পথে মোস্তফা কামাল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হয় জেসমিনের। পুলিশের দাবি, মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।

মাঠে গিয়ে জেসমিন ও মোস্তফাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুজনকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন তারা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কৌশলে আলেক ও মাজেদাকে ঘেরের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে তালতলা এলাকার ভেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলেকের শরীর ও মাথায় আঘাত করেন।

অন্যদিকে জেসমিন মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেন। পরে মাজেদার মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাঁচি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এরপর দুজনের মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে। পুলিশ জানায়, আলেক শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। আঘাতের পর গর্তে পড়ে যাওয়ায় তিনি সেখান থেকে আর উঠতে পারেননি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, জেসমিন ও মোস্তফার ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি অন্যদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

গ্রেপ্তার জেসমিন বেগম কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালি গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী। পলাতক মোস্তফা কামাল একই গ্রামের মৃত কিসমত সরদারের ছেলে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখার নির্দেশ

যশোরে জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন, পরকীয়া আড়াল করতেই হত্যা

Update Time : 01:54:47 pm, Tuesday, 3 November 2026

একটি গোপন সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের সাক্ষী হয়ে যাওয়াই কাল হলো মাজেদা বেগমের। শুধু মাজেদাকেই নয়, গোপন সম্পর্ক ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় খুন করা হয় তার স্বামী আলেক নুর ইসলামকেও। পরিকল্পিত হত্যার পর দুজনের মরদেহ ফেলে রাখা হয় ধানখেতের পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে।

যশোরের কেশবপুরে চাঞ্চল্যকর এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আড়াল করতেই স্বামী-স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন জেসমিন বেগম ও তার কথিত প্রেমিক মোস্তফা কামাল। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের অপর সহযোগী মোস্তফা কামাল এখনো পলাতক।

তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর জেলা পুলিশের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, গত ৩১ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচযন্ত্রের পানি পড়ার স্থানে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পরে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতরা হলেন আলেক নুর ইসলাম ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশের একটি দল। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, জেসমিন ও নিহত মাজেদা বেগম যশোরের অভয়নগরের আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন। গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার মিল বন্ধ থাকায় সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে দুজন ঘাস কাটতে মাঠে যান। ওই মাঠে কাজ করছিলেন মাজেদার স্বামী আলেক নুর ইসলামও। মাঠে যাওয়ার পথে মোস্তফা কামাল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হয় জেসমিনের। পুলিশের দাবি, মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।

মাঠে গিয়ে জেসমিন ও মোস্তফাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুজনকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন তারা। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কৌশলে আলেক ও মাজেদাকে ঘেরের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে তালতলা এলাকার ভেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলেকের শরীর ও মাথায় আঘাত করেন।

অন্যদিকে জেসমিন মাজেদার ওড়না দিয়ে তার গলায় ফাঁস দেন। পরে মাজেদার মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাঁচি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এরপর দুজনের মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে। পুলিশ জানায়, আলেক শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। আঘাতের পর গর্তে পড়ে যাওয়ায় তিনি সেখান থেকে আর উঠতে পারেননি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, জেসমিন ও মোস্তফার ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি অন্যদের কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই এ জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

গ্রেপ্তার জেসমিন বেগম কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালি গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী। পলাতক মোস্তফা কামাল একই গ্রামের মৃত কিসমত সরদারের ছেলে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।