ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এ সময় কারাফটকে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান জামায়াত নেতা ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কামাল হোসেন, সেলিম উদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত তার জামিন বহাল রেখে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।
এর মধ্য দিয়ে তার কারামুক্তির আইনি বাধা দূর হয়। আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। এর আগে গত রোববার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় আখতারুজ্জামানকে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
পরে হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। মামলার ধারাবাহিকতায় গত ৪ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করেন। এক দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন তিনি।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন প্রতিনিধি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মদিনা থেকে ঢাকায় ফেরেন। তাদের বহনকারী উড়োজাহাজটি সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহের জন্য ৮ নম্বর বেল্টের কাছে যান।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকায় ওই সময় ট্রলি সংগ্রহে সাময়িক সংকট দেখা দেয় এবং দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী সারি অনুসরণ না করে ট্রলি নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ ছাড়া লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যাত্রী উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচরণ করেন বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
এসব ঘটনায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।






















