শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পুরস্কার ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে কটাক্ষ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই। তিনি বলেছেন, উপস্থিত লোকজন আরও বেশি হাততালি দিলে ট্রাম্পের সঙ্গে পুরস্কার ভাগ করে নিতে পারেন।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই পুরস্কারটির আকাঙ্ক্ষা করে আসছেন এবং এটি জেতার ইচ্ছা তিনি গোপন করেননি। এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননাটি তাকে দেওয়ার জন্য তিনি এর আগেও নরওয়েজিয়ান কমিটির ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছেন। বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি এমন কাজ করেছি যা আর কেউ কখনো করেনি। আমি বড়াই করছি না, শুধু আপনাদেরকে আসল ঘটনাটা বলছি।
সম্ভবত কোনো প্রেসিডেন্টই কখনো কোনো যুদ্ধের নিষ্পত্তি করেননি। আমি আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তি করেছি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পর জার্মানির নুরেমবার্গে পিল্লাইকে হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।
এ সময় তিনি বলেন, ‘আরও একটু বেশি হাততালি দিলে আমি হয়তো ট্রাম্পের সঙ্গে এই পুরস্কার ভাগ করে নিতে পারি। ’ পুরস্কার পাওয়ার খবর শুনে তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, এটি নিশ্চয়ই কোনো রসিকতা। ৮৫ বছর বয়সী পিল্লাই বলেন, ‘আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে আমি এখনো বিষয়টি যাচাই করে নিতে চাই। ’ খবরটি সত্য কি না, তা নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন তিনি।
গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবে তার কাজের কথাও তুলে ধরেন পিল্লাই। ওই কমিশন গত বছর এক প্রতিবেদনে গাজায় গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল। কমিশনটি জাতিসংঘের পক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেয় না। পিল্লাই বলেন, ‘আমি সর্বশেষ যে কাজটি করেছি, তা হলো গাজা নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া, যেখানে সেখানে যা ঘটছে, তাকে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছি।
’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই প্রতিবেদনের পর মানুষের অন্যতম প্রতিক্রিয়া ছিল আমার সাহসের প্রশংসা করা। এতে আমি কতটা বিস্মিত হয়েছিলাম, তা আপনারা কল্পনা করতে পারেন। সত্য বলার জন্য সাহসের প্রয়োজন হবে কেন? ’ গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ট্রাম্পের অসন্তোষের মধ্যে হোয়াইট হাউস নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে ‘শান্তির চেয়ে রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছিল।
সে বছর পুরস্কারটি পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিক ও গণতন্ত্রকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ভূমিকার জন্য তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরে মাচাদো ‘আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তার অনন্য অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ’ প্রতীকীভাবে নিজের নোবেল পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। এ বছর পুরস্কার ঘোষণার সময় নোবেল কমিটি আন্তর্জাতিক আইন ও আইনের প্রতি বৈশ্বিক শ্রদ্ধা কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানায়।
কমিটির মতে, ‘আমরা আইনি কাঠামো ও আইনের প্রতি বৈশ্বিক শ্রদ্ধার পরিবর্তে ক্ষমতার রাজনীতির দিকে একটি ঝোঁক দেখতে পাচ্ছি। ’ কমিটি আরও বলেছে, ‘যখনই ন্যায়বিচারের ওপর শক্তির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই তা স্থিতিশীলতা, আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে ক্ষুণ্ণ করে। ’ নোবেল শান্তি পুরস্কারের সঙ্গে একটি স্বর্ণপদক, সনদ এবং ১২ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়া হয়।
আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের রাজধানী অসলোতে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে পিল্লাইয়ের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। দিনটি নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক সুইডিশ উদ্ভাবক ও সমাজসেবী আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী।






















