আজ শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

নিখোঁজের ৩ দিন পর কংস নদের পাড় থেকে সাবেক সেনাসদস্যের মরদেহ উদ্ধার

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:13:30 pm, Friday, 9 October 2026
  • 11
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর সাবেক সেনাসদস্য ফজলুল রহিম কাজলের (৫০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার কংস নদের পাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফজলুল রহিম কাজল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কাকিয়াম গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিনি নিজ এলাকায় পাইকুরাটি ইউনিয়নের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ধর্মপাশা ও মোহনগঞ্জ আশপাশ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কংস নদের পাড়ে গরু চরাতে গিয়ে এক ব্যক্তি দুর্গন্ধ পান। পরে খোঁজাখুঁজি করে জঙ্গলের একটি গাছের মগডালে হেলান দেওয়া অবস্থায় লাশটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। খবর পেয়ে পরবর্তী সময়ে মোহনগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন কাজল।

দুপুরে সিলেট পুলিশ লাইনে কর্মরত তার এক ছেলেকে ফোন করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কথা জানান তিনি। এরপর পরিবারের সদস্যরা তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পান। নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ওই রাতেই তার ছেলে মারুফ হাসান রনক ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিহতের বড় ভাই শিক্ষক ফজলুল করিম বুলবুল বলেন, বুধবার সকাল ৯টার দিকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি কাজল। এটি কোনো আত্মহত্যা হতে পারে না। লাশটি গাছের ডালে বসানো অবস্থায় রাখা ছিল, ঝুলন্ত ছিল না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, নিহত ব্যক্তি বুধবার নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ তদন্তের পাশাপাশি রাতেই অভিযান চালিয়েছিল।

পরে আজ শুক্রবার সকালে পার্শ্ববর্তী উপজেলা মোহনগঞ্জ এলাকায় তার মরদেহ পাওয়ার খবর আসে। মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ধর্মপাশা থানা-পুলিশের সদস্যরা সেখানে যান। এ সময় তার ছেলেরা ও বড় ভাই সঙ্গে ছিলেন। এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য সেটি নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

চট্টগ্রাম রেঞ্জে একদিনে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১১৫৪

নিখোঁজের ৩ দিন পর কংস নদের পাড় থেকে সাবেক সেনাসদস্যের মরদেহ উদ্ধার

Update Time : 08:13:30 pm, Friday, 9 October 2026

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থেকে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর সাবেক সেনাসদস্য ফজলুল রহিম কাজলের (৫০) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার কংস নদের পাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফজলুল রহিম কাজল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কাকিয়াম গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিনি নিজ এলাকায় পাইকুরাটি ইউনিয়নের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত ছিলেন। তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ধর্মপাশা ও মোহনগঞ্জ আশপাশ এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কংস নদের পাড়ে গরু চরাতে গিয়ে এক ব্যক্তি দুর্গন্ধ পান। পরে খোঁজাখুঁজি করে জঙ্গলের একটি গাছের মগডালে হেলান দেওয়া অবস্থায় লাশটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। খবর পেয়ে পরবর্তী সময়ে মোহনগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন কাজল।

দুপুরে সিলেট পুলিশ লাইনে কর্মরত তার এক ছেলেকে ফোন করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কথা জানান তিনি। এরপর পরিবারের সদস্যরা তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পান। নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ওই রাতেই তার ছেলে মারুফ হাসান রনক ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিহতের বড় ভাই শিক্ষক ফজলুল করিম বুলবুল বলেন, বুধবার সকাল ৯টার দিকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি কাজল। এটি কোনো আত্মহত্যা হতে পারে না। লাশটি গাছের ডালে বসানো অবস্থায় রাখা ছিল, ঝুলন্ত ছিল না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, নিহত ব্যক্তি বুধবার নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ তদন্তের পাশাপাশি রাতেই অভিযান চালিয়েছিল।

পরে আজ শুক্রবার সকালে পার্শ্ববর্তী উপজেলা মোহনগঞ্জ এলাকায় তার মরদেহ পাওয়ার খবর আসে। মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে ধর্মপাশা থানা-পুলিশের সদস্যরা সেখানে যান। এ সময় তার ছেলেরা ও বড় ভাই সঙ্গে ছিলেন। এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য সেটি নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।