আজ শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
বজ্রসহ বৃষ্টি
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

কক্সবাজার থেকে ফিরেও বাসায় ফেরা হলো না কিশোরী জান্নাতুলের, মিলল মরদেহ

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:13:06 am, Friday, 9 October 2026
  • 13
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফিরলেও বাসায় পৌঁছানো হয়নি ১৪ বছর বয়সী কিশোরী জান্নাতুল তাজমিনের। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জেলার লালমাই উপজেলার জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ সময় মরদেহের পাশ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

তার বাবা ওষুধ কোম্পানি রেনাটা লিমিটেডের কুমিল্লা রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। চাকরির সুবাদে পরিবারটি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স ধানমণ্ডি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে। স্থানীয় জগতপুর গ্রামের বাসিন্দা তমাল বনিক জানান, কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার পাকা সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া সংলগ্ন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমিতে গিয়ে আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। কিশোরীর গলায় গামছা পেঁচানো ছিল এবং মুখ মাটিতে চেপে রাখা হয়েছিল। নিহত কিশোরীর বাবা আবদুল আলীম বলেন, গত ৪ অক্টোবর তার একমাত্র মেয়ে তাজমিন শহরের এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লার রেসকোর্স ধানমণ্ডি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়।

পরে সে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়। বুধবার রাত ২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে এসে নামার পর তাকে লাইভ লোকেশন পাঠায়। সকাল পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় তিনি মোবাইল ফোনটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন। পরে জানতে পারেন, ফোনটির অবস্থান লালমাই থানা এলাকায়। সেই সূত্র ধরে খোঁজ করতে গিয়ে জগতপুর এলাকার ফসলি জমি থেকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি। লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, সকালে মরদেহটি অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে উদ্ধার করা হয়। বিকেলে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সহজ ডট কমের কর্মীদের বিরুদ্ধে কৃত্রিমভাবে ট্রেনের টিকিট ব্লকের অভিযোগ, বন্ধ হলো ওয়েবসাইট

কক্সবাজার থেকে ফিরেও বাসায় ফেরা হলো না কিশোরী জান্নাতুলের, মিলল মরদেহ

Update Time : 11:13:06 am, Friday, 9 October 2026

কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফিরলেও বাসায় পৌঁছানো হয়নি ১৪ বছর বয়সী কিশোরী জান্নাতুল তাজমিনের। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জেলার লালমাই উপজেলার জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ সময় মরদেহের পাশ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

তার বাবা ওষুধ কোম্পানি রেনাটা লিমিটেডের কুমিল্লা রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। চাকরির সুবাদে পরিবারটি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স ধানমণ্ডি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে। স্থানীয় জগতপুর গ্রামের বাসিন্দা তমাল বনিক জানান, কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার পাকা সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া সংলগ্ন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমিতে গিয়ে আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। কিশোরীর গলায় গামছা পেঁচানো ছিল এবং মুখ মাটিতে চেপে রাখা হয়েছিল। নিহত কিশোরীর বাবা আবদুল আলীম বলেন, গত ৪ অক্টোবর তার একমাত্র মেয়ে তাজমিন শহরের এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লার রেসকোর্স ধানমণ্ডি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয়।

পরে সে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়। বুধবার রাত ২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে এসে নামার পর তাকে লাইভ লোকেশন পাঠায়। সকাল পর্যন্ত বাসায় না ফেরায় তিনি মোবাইল ফোনটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন। পরে জানতে পারেন, ফোনটির অবস্থান লালমাই থানা এলাকায়। সেই সূত্র ধরে খোঁজ করতে গিয়ে জগতপুর এলাকার ফসলি জমি থেকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি। লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, সকালে মরদেহটি অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে উদ্ধার করা হয়। বিকেলে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।