বুধবার ৭ অক্টোবর রাত ১২টার পর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞার খবরে বাজারে ইলিশের চাহিদা বাড়ায় দেশের বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে ইলিশের দাম।
এতে ক্ষোভ ফুঁসছেন ক্রেতারা। প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করলে সংশ্লিষ্ট জেলেদের কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের জেলেকার্ড বাতিল হবে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি)। দেশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে ইলিশের দাম বেড়েছে। বেশি দামের কারণে অনেক ক্রেতাই ইলিশ না কিনে ফিরে যাচ্ছেন।
বাজারে ২০০ গ্রাম ওজনের ছোট আকারের চারটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং এক কেজি থেকে দেড় কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের ইলিশের চাহিদা বেশি, তাই দামও বেশি। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের এই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ সময় নদী ও সাগরে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত ও মজুত নিষিদ্ধ থাকবে। অভিযান বাস্তবায়নে প্রশাসনের পাশাপাশি নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী কাজ করবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মা ইলিশের প্রজননের জন্য এই ২২ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলে ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চাঁদপুরে মা ইলিশ ধরলে ৬ মাসের কারাদণ্ড, বাতিল হবে জেলে কার্ড প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করলে সংশ্লিষ্ট জেলেদের কমপক্ষে ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের জেলেকার্ড বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি)।
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নদীসংলগ্ন খালের মুখ বন্ধ করা এবং অভয়াশ্রম এলাকায় পাঁচটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা মৎস্য দপ্তর আয়োজিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে ইলিশ সম্পদ উন্নয়নসংক্রান্ত জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে যারা মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকবেন, তাদের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। চাঁদপুর জেলায় এ সহায়তা পাবেন ৪১ হাজার ৩৯০ জন জেলে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে না পড়েন, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এ সময় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকাকে কেন্দ্র করে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। এ অভয়াশ্রমে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড সমন্বিতভাবে কাজ করবে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন বরফকল বন্ধ রাখা হবে। এ সময় নদীতে কোনো ধরনের ড্রেজার মেশিন চলতে দেওয়া হবে না।
চাঁদপুরের বাইরে থেকে জেলেরা এসে যাতে নদীতে মাছ ধরতে না পারেন, সে বিষয়েও বিশেষ নজরদারি থাকবে। গত বছরও বহিরাগত জেলেদের মাছ ধরা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এবারও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অভয়াশ্রম এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ৮ থেকে ৯টি খালের মুখ বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে অবৈধভাবে মাছ ধরার সুযোগ কমবে এবং অভিযান বাস্তবায়ন সহজ হবে।
পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জেলা পুলিশের উদ্যোগে চেকপোস্ট বসানো হবে। অভিযান পরিচালনার সময় কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত থাকবে।






















