প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের উদ্যোগে ৯ শতাধিক বন্যাদুর্গত পরিবারকে ত্রাণ ও পুনর্বাসনে সহায়তা করছে দারাজ বাংলাদেশ। চলতি বর্ষায় সিলেটের মৌলভীবাজার এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটি এই উদ্যোগে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় করছে। শুকনো খাবার, স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী আর প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণ নিয়ে তৈরি ত্রাণ প্যাকেজ দিয়েই শুরু হয় কর্মসূচি। পুরো কাজটাই করেছেন দারাজের নিজস্ব কর্মীরা। দারাজ বাংলাদেশের চিফ পিপল অফিসার সৈয়দ আবদুল্লাহ মোরশেদ বলেন, আমাদের সহকর্মীরাও তো এই কমিউনিটিরই মানুষ।
তাই কেউ তাদের বলেনি যেতে হবে, নিজেরাই সময় বের করে ছুটে গেছেন দুর্গত পরিবারগুলোর পাশে। এই স্বতঃস্ফূর্ততাই বলে দেয়, আমাদের কর্মীরা যে কমিউনিটিতে কাজ করেন, তার প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা কতটা গভীর। মাঠপর্যায়ে ক্ষতি নিরূপণের নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রকল্প সমন্বয়ক সায়েম হোসেন। তিনি বলেন, সাতকানিয়া আর বাঁশখালীর পাড়ায় পাড়ায় হেঁটেছি আমরা।
পানি নেমে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তার ছাপ ছিল সবখানে, দেয়ালে পানির দাগ, বেঁকে যাওয়া বা ভেসে যাওয়া টিনের চাল, বাঁশের বেড়া, হারিয়ে যাওয়া বিছানাপত্র আর হাঁড়িপাতিল। মানুষগুলো খুব বেশি কিছু চাননি। ২০২৪ সালেও একাধিক জেলায় ৮৫ হাজারের বেশি বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছেছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে সেবারের কার্যক্রম যেখানে বড় পরিসরে তাৎক্ষণিক সহায়তাতেই সীমাবদ্ধ ছিল, এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পুনর্বাসনের মতো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ।
দারাজ বাংলাদেশের জন্য এই কর্মসূচি শুধু দুর্যোগ-পরবর্তী তাৎক্ষণিক সাহায্যেই আটকে নেই। মৌলভীবাজার, সাতকানিয়া আর বাঁশখালীর পরিবারগুলোর কাছে এর মানে, ঘর মেরামত, সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফিরে পাওয়া, আর আগামী বর্ষায় নিজেদের প্রস্তুত রাখার একটা নতুন ভরসা। বিজ্ঞপ্তি।


















