নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চোরাই গরু বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে গ্রাম পুলিশ ও দফাদার গিয়ে গরুটি উদ্ধার করেছেন।
বর্তমানে গরুটি ইউনিয়ন পরিষদের হেফাজতে রয়েছে। অভিযুক্ত ফারুক হোসেন ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং চর আকরাম উদ্দিন গ্রামের নুর হোসেনের ছেলে। এদিকে, সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি ও দলীয় নিয়ম শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে সোমবার রাতে যুবদল নেতা ফারুক হোসেনকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার ৮নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের চর আকরাম উদ্দিন গ্রাম থেকে একটি গরু চুরি হয়। পরে গরুটি ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এনাম হোসেনের কাছে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন যুবদল নেতা ফারুক। স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গরুর মালিকের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী হোসনেয়ারা (হরানির মা) অত্যন্ত দরিদ্র।
তার পরিবার দিন এনে দিন খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। গরুটি চুরি যাওয়ার পর পরিবারটি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়ে বলে স্বজনরা জানান। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রাম পুলিশ ও দফাদার এনাম হোসেনের বাড়িতে গিয়ে গরুটি উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন। গ্রাম পুলিশ ও দফাদার হুদু জানান, বিষয়টি জানার পর তারা এনামের বাড়িতে গিয়ে গরুটি উদ্ধার করেন।
এ সময় এনাম হোসেন তাদের জানান, তিনি গরুটি যুবদল নেতা ফারুকের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকায় কিনেছেন। এদিকে গরুটি উদ্ধারের পর এনাম হোসেন অভিযুক্ত ফারুককে ধরিয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে ফারুকের ছবি প্রকাশ করে তাকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন। এনাম হোসেন মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং চর আকরাম উদ্দিন গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা ফারুকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাফর উল্যাহ বলেন, আপনাদের মাধ্যমে এবং ফেসবুকে বিষয়টি জেনেছি। আমরা প্রমাণাদি সংগ্রহ করেছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে তা উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে জানানো হয়েছে।
সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদা জানান-ইতিমধ্যে ফারুককে সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি ও দলীয় নিয়ম শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চরজব্বর থানার ওসি রফিকুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


















