আজ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৩৯%

মরিচা ধরা মেশিনে থেমে আছে সরিষাবাড়ীর জুট মিলের হাজারো শ্রমিকের স্বপ্ন

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:06:34 am, Wednesday, 30 September 2026
  • 13

মরিচা ধরা মেশিনে থেমে আছে সরিষাবাড়ীর জুট মিলের হাজারো শ্রমিকের স্বপ্ন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

একসময় ভোর হলেই সরিষাবাড়ীর আকাশে ভেসে আসত জুট মিলের সাইরেন। সেই সাইরেনের শব্দে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠত পুরো এলাকা। হাজারো শ্রমিক ছুটে যেতেন কর্মস্থলে। কারখানার মেশিনের শব্দে মুখর থাকত চারপাশ।

পাট থেকে তৈরি হতো সুতা, সুতলি, চট, চটের বস্তাসহ নানা ধরনের পাটজাত পণ্য। একটি মিলকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল অসংখ্য পরিবারের জীবিকা ও স্বপ্ন। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও ঝিনাই নদীর পললভূমিতে গড়ে ওঠা সরিষাবাড়ী একসময় পরিচিত ছিল ‘প্রাচ্যের দ্বিতীয় ডান্ডি’ নামে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই কর্মচঞ্চলতার অনেকটাই আজ হারিয়ে গেছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মাইজবাড়ি-দিয়ারকৃষ্ণাই এলাকায় অবস্থিত আলহাজ জুট মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ।

একসময় যে কারখানার প্রতিটি প্রান্ত শ্রমিকদের পদচারণায় মুখর থাকত, সেখানে এখন বিরাজ করছে নীরবতা। বিশাল কারখানাজুড়ে পড়ে আছে মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি। কোথাও আগাছায় ঢেকে গেছে জায়গা, কোথাও ভেঙে পড়ছে অবকাঠামো। বছরের পর বছর পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম। পাশাপাশি চুরির আশঙ্কাও রয়েছে। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত আলহাজ জুট মিল ছিল এ অঞ্চলের অন্যতম বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

প্রায় ৩৯ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা কারখানাটিতে একসময় কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। শুধু শ্রমিক পরিবারই নয়, মিলটির ওপর নির্ভরশীল ছিল স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল স্থানীয় অর্থনীতির বড় একটি অংশ। মিল চালু থাকায় পাটের চাহিদা ছিল, জমজমাট ছিল স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও ছোটখাটো নানা কর্মসংস্থান।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মিলটির পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। মালিকানা পরিবর্তন, দীর্ঘদিনের লোকসান, ব্যাংকঋণ, অর্থসংকট, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যায় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। একপর্যায়ে উৎপাদন প্রায় বন্ধের পথে চলে যায়। অবশেষে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মিলটি বন্ধ হয়ে গেলে কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।

যারা একসময় নিয়মিত বেতন নিয়ে সংসার চালাতেন, তাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন। কেউ দিনমজুর হয়েছেন, কেউ ছোটখাটো ব্যবসায় নেমেছেন। আবার কেউ জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছেন অন্যত্র। মিল বন্ধ হওয়ার পর সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছেন শ্রমিকরা। বহু শ্রমিক এখনো তাদের পাওনা টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

দীর্ঘদিন চাকরি করে অবসরের পর যে নিশ্চিন্ত জীবন পাওয়ার কথা ছিল, অনেক শ্রমিকের সেই স্বপ্নও আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে। আলহাজ জুট মিলের শ্রমিক ফারুক হোসেন বলেন, ‘মিল বন্ধ হওয়ার পর থেকেই আমরা বেকার। বেতন-বোনাসসহ পাওনা টাকাও পাইনি। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। ’ বছরের পর বছর উৎপাদন বন্ধ থাকায় মিলের যন্ত্রপাতিও ক্রমেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সম্পদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চুরির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। একসময় যে শিল্পপ্রতিষ্ঠান হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের কেন্দ্র ছিল, সেটিই এখন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে পরিত্যক্ত স্থাপনায়। শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে আলহাজ জুট মিলসহ সরিষাবাড়ীর বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা হোক।

তাদের মতে, মিলগুলো চালু হলে একদিকে যেমন বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরে আসবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি ফিরবে। আলহাজ জুট মিলের সহকারী হিসাব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী খান বলেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সঠিক ব্যবস্থাপনা আর সরকারি নজরদারি থাকলে মিলটি আবার চালু করা সম্ভব। ’ মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সিসি সুবিধা না পাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

তবে সরকার উদ্যোগ নিলে মিলটি পুনরায় চালুর জন্য আমরা বিভিন্ন মহলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, ‘পাটকলগুলো পুনরায় চালু হলে পাটের চাহিদা বাড়বে। এতে এ অঞ্চলে পাটের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন। ’ সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এবং পর্যাপ্ত ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করা গেলে মিলটি আবারও উৎপাদনে ফিরতে পারে।

দেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে পুরোনো প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করে নতুনভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। আলহাজ জুট মিল পুনরায় চালু হলে শুধু বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানই ফিরবে না, সৃষ্টি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে পাট সংগ্রহ বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং সরিষাবাড়ীর সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

একসময় যে মিল হাজারো মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল, আজ সেই মিলই যেন নীরবে দাঁড়িয়ে আছে পুনর্জাগরণের অপেক্ষায়। মরিচা ধরা মেশিনগুলো যেন প্রশ্ন করছে—আবার কি ফিরবে সেই কর্মচাঞ্চল্য? আবার কি জ্বলবে কারখানার বাতি? আবার কি শোনা যাবে শ্রমিকদের কোলাহল আর মিলের সাইরেন?

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নোয়াখালীতে চোরাই গরু বিক্রির অভিযোগে যুবদল নেতা বহিষ্কার

মরিচা ধরা মেশিনে থেমে আছে সরিষাবাড়ীর জুট মিলের হাজারো শ্রমিকের স্বপ্ন

Update Time : 02:06:34 am, Wednesday, 30 September 2026

একসময় ভোর হলেই সরিষাবাড়ীর আকাশে ভেসে আসত জুট মিলের সাইরেন। সেই সাইরেনের শব্দে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠত পুরো এলাকা। হাজারো শ্রমিক ছুটে যেতেন কর্মস্থলে। কারখানার মেশিনের শব্দে মুখর থাকত চারপাশ।

পাট থেকে তৈরি হতো সুতা, সুতলি, চট, চটের বস্তাসহ নানা ধরনের পাটজাত পণ্য। একটি মিলকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল অসংখ্য পরিবারের জীবিকা ও স্বপ্ন। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও ঝিনাই নদীর পললভূমিতে গড়ে ওঠা সরিষাবাড়ী একসময় পরিচিত ছিল ‘প্রাচ্যের দ্বিতীয় ডান্ডি’ নামে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই কর্মচঞ্চলতার অনেকটাই আজ হারিয়ে গেছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মাইজবাড়ি-দিয়ারকৃষ্ণাই এলাকায় অবস্থিত আলহাজ জুট মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ।

একসময় যে কারখানার প্রতিটি প্রান্ত শ্রমিকদের পদচারণায় মুখর থাকত, সেখানে এখন বিরাজ করছে নীরবতা। বিশাল কারখানাজুড়ে পড়ে আছে মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি। কোথাও আগাছায় ঢেকে গেছে জায়গা, কোথাও ভেঙে পড়ছে অবকাঠামো। বছরের পর বছর পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম। পাশাপাশি চুরির আশঙ্কাও রয়েছে। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত আলহাজ জুট মিল ছিল এ অঞ্চলের অন্যতম বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

প্রায় ৩৯ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা কারখানাটিতে একসময় কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। শুধু শ্রমিক পরিবারই নয়, মিলটির ওপর নির্ভরশীল ছিল স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল স্থানীয় অর্থনীতির বড় একটি অংশ। মিল চালু থাকায় পাটের চাহিদা ছিল, জমজমাট ছিল স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন ও ছোটখাটো নানা কর্মসংস্থান।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মিলটির পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। মালিকানা পরিবর্তন, দীর্ঘদিনের লোকসান, ব্যাংকঋণ, অর্থসংকট, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যায় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। একপর্যায়ে উৎপাদন প্রায় বন্ধের পথে চলে যায়। অবশেষে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মিলটি বন্ধ হয়ে গেলে কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন।

যারা একসময় নিয়মিত বেতন নিয়ে সংসার চালাতেন, তাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন। কেউ দিনমজুর হয়েছেন, কেউ ছোটখাটো ব্যবসায় নেমেছেন। আবার কেউ জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছেন অন্যত্র। মিল বন্ধ হওয়ার পর সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছেন শ্রমিকরা। বহু শ্রমিক এখনো তাদের পাওনা টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

দীর্ঘদিন চাকরি করে অবসরের পর যে নিশ্চিন্ত জীবন পাওয়ার কথা ছিল, অনেক শ্রমিকের সেই স্বপ্নও আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে। আলহাজ জুট মিলের শ্রমিক ফারুক হোসেন বলেন, ‘মিল বন্ধ হওয়ার পর থেকেই আমরা বেকার। বেতন-বোনাসসহ পাওনা টাকাও পাইনি। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। ’ বছরের পর বছর উৎপাদন বন্ধ থাকায় মিলের যন্ত্রপাতিও ক্রমেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সম্পদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চুরির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। একসময় যে শিল্পপ্রতিষ্ঠান হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের কেন্দ্র ছিল, সেটিই এখন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে পরিত্যক্ত স্থাপনায়। শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে আলহাজ জুট মিলসহ সরিষাবাড়ীর বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালু করা হোক।

তাদের মতে, মিলগুলো চালু হলে একদিকে যেমন বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরে আসবে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি ফিরবে। আলহাজ জুট মিলের সহকারী হিসাব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী খান বলেন, ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সঠিক ব্যবস্থাপনা আর সরকারি নজরদারি থাকলে মিলটি আবার চালু করা সম্ভব। ’ মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সিসি সুবিধা না পাওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

তবে সরকার উদ্যোগ নিলে মিলটি পুনরায় চালুর জন্য আমরা বিভিন্ন মহলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, ‘পাটকলগুলো পুনরায় চালু হলে পাটের চাহিদা বাড়বে। এতে এ অঞ্চলে পাটের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন। ’ সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ এবং পর্যাপ্ত ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা করা গেলে মিলটি আবারও উৎপাদনে ফিরতে পারে।

দেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে পুরোনো প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকায়ন করে নতুনভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। আলহাজ জুট মিল পুনরায় চালু হলে শুধু বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানই ফিরবে না, সৃষ্টি হতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে পাট সংগ্রহ বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে এবং সরিষাবাড়ীর সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

একসময় যে মিল হাজারো মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল, আজ সেই মিলই যেন নীরবে দাঁড়িয়ে আছে পুনর্জাগরণের অপেক্ষায়। মরিচা ধরা মেশিনগুলো যেন প্রশ্ন করছে—আবার কি ফিরবে সেই কর্মচাঞ্চল্য? আবার কি জ্বলবে কারখানার বাতি? আবার কি শোনা যাবে শ্রমিকদের কোলাহল আর মিলের সাইরেন?